default-image

করোনা অতিমারিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের ৬৩ ভাগ ইতিমধ্যে টিকা নিয়েছেন বা সহজলভ্য হলে সঙ্গে সঙ্গে নিতে প্রস্তুত বলে এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এই সংখ্যাটি বেশ সন্তোষজনক বলে মনে করছেন মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এখনই ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন, না কি পরে কোনো এক সময়—এমন প্রশ্নের উত্তরে ৫০ ভাগ মার্কিন বলেছেন, সহজলভ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা টিকা নেবেন। এই পরিসংখ্যানটিও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে মনে করা হচ্ছে।

৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধু গত জানুয়ারি মাসেই। ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি মার্কিন নাগরিকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই মহামারির কারণে অগণিত মানুষের ব্যক্তি জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন বাস্তবতা আগে কখনো দেখা যায়নি। অর্থনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত অবস্থা থকে বিশ্বের শক্তিধর দেশটি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, তা নিয়ে উৎকণ্ঠার শেষ নেই।

এদিকে করোনার নতুন ধরনের প্রভাব কেমন হবে, কী পরিমাণ মানুষ এতে আক্রান্ত হবে, এতে মৃত্যুর হার কেমন হবে—এসব প্রশ্ন এখনো অজানা রয়ে গেছে। এর মধ্যেই করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রেও পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এসব কিছুর পরও আশান্বিত হওয়ার কিছু কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। করোনাভাইরাসে নতুনভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমন মানুষের সংখ্যা কমেছে। টিকা পাচ্ছেন,এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। টিকার সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে এখন সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। এটি এখনো অনেক বড় সংখ্যা হলেও গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় নাটকীয়ভাবে কমছে। দুই সপ্তাহ আগেও এই সংখ্যা ৩০ ভাগ বেশি ছিল

যুক্তরাষ্ট্রে এখন সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। এটি এখনো অনেক বড় সংখ্যা হলেও গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় নাটকীয়ভাবে কমছে। দুই সপ্তাহ আগেও এই সংখ্যা ৩০ ভাগ বেশি ছিল।

প্রায় প্রতিটি রাজ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে দৈনিক করোনা সংক্রমণের সংখ্যা কমেছে। কিছু কিছু রাজ্যে সংক্রমণ কমার হার বেশ সন্তোষজনক। আরও গুরুত্বপূর্ণ যে অগ্রগতি হয়েছে, তা হলো হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যা কমেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই সংখ্যা অন্তত ২০ ভাগ কম। এই সংখ্যা কমে যাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাসপাতালে ভর্তি কমলে মৃত্যুর সংখ্যাও কমে। এই মুহূর্তে অবশ্য করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা অতটা নাটকীয়ভাবে কমেনি। তবে সংক্রমণের হার ও হাসপাতাল ভর্তির ধারাবাহিকতা অনুসরণ করলে, এ সংখ্যাটি যে কমে আসবে, তা অনুমান করা যায়।

এদিকে টিকা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন যে হারে বাড়ছে, তা প্রতিদিনের নতুন সংক্রমণের সংখ্যাকে সহজেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ১০০ দিনের মধ্যে ১০ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কয়েক সপ্তাহ আগের এমন ঘোষণা অতি রাজনৈতিক মনে হলেও, এখন তা বাস্তবে ঘটতে দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

এই সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে স্বাস্থ্যসেবীরা মনে করেন। ফাইজার, মডার্নার ভ্যাকসিন সম্পন্ন হতে দুটি ডোজ লাগে। সে ক্ষেত্রে দৈনিক গড়ে মাত্র ১২ লাখ মানুষকে টিকা দিয়ে সহসা স্বাভাবিক অবস্থা ফেরা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রে টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়সী ২৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ রয়েছে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা অনুমোদন পেলে আগামী জুন নাগাদ সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ কোটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক করোনার টিকার সরবরাহ থাকবে। আর জনসনের অনুমোদন না হলেও ফাইজার, মডার্নার ৬০ কোটি ডোজের সরবরাহ এরই মধ্যে নিশ্চিত হবে

গত সপ্তাহে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, প্রতি অঙ্গরাজ্যে টিকার সহজলভ্যতা সাপ্তাহিক ১৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা হবে। এবং টিকার সরবরাহ আগামী দুই মাসে আরও ব্যাপক হবে। ফাইজার, মডার্না যৌথভাবে মার্চ মাসের শেষ নাগাদ ২০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ দেওয়ার কথা রয়েছে। কোভিড-১৯ বিষয়ক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা অ্যান্ডি স্লাভিট আশা করছেন, তারা সময়মতো টিকার ওই ডোজগুলোর সরবরাহ পেয়ে যাবেন।

ফাইজার আগামী মে মাস নাগাদ আরও ২০ কোটি এবং মডার্না জুন নাগাদ ২০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আগামী গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ ফাইজার ও মডার্নার কাছে আরও ২০ কোটি ডোজের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে বলে বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে জনসন অ্যান্ড জনসন এক ডোজেই কার্যকর হবে এমন একটি টিকার জরুরি অনুমোদনের জন্য এফডিএর কাছে আবেদন করেছে। তারা বলছে, ১০ কোটি ডোজ এমন টিকা জুন মাসের মধ্যে প্রস্তুত ও সহজলভ্য হবে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা অনুমোদন পেলে আগামী জুন নাগাদ সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ কোটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক করোনার টিকার সরবরাহ থাকবে। আর জনসনের অনুমোদন না হলেও ফাইজার, মডার্নার ৬০ কোটি ডোজের সরবরাহ এরই মধ্যে নিশ্চিত হবে। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের আঠারোর্ধ্ব সব নাগরিককে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হবে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন জনগণের টিকা নেওয়ায় আগ্রহ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচি চলতে থাকলে আগামী গ্রীষ্মে সন্তোষজনক সংখ্যক মানুষের টিকা নেওয়া শেষ হবে। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন