default-image

জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধান বলেছেন, বিশ্ববাসী এখন করোনা মহামারির অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার আশা দেখতে পারে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে অনগ্রসর দেশগুলোর জনগণকে ভুলে গেলে চলবে না।

করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, আগামী দিনগুলো নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষ বিশ্বাস–অবিশ্বাসের দোলাচলে ভুগছে।

৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভার্চুয়াল সভায় তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, মহামারি আমাদের সেরা ও নাজুক অবস্থাকে দেখিয়ে দিয়েছে। সহনশীলতা ও নিজেকে উৎসর্গ করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে করোনা মহামারি। বিজ্ঞান ও সৃষ্টিশীলতাসহ একাত্মবোধের প্রমাণ যেমন পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি স্বার্থপরতা, বিভাজন ও পরস্পরকে দায় করার ঘটনাও এই মহামারিতে দেখা গেছে।

কোন দেশের নাম উল্লেখ না করে গেব্রেয়াসুস বলেন, যেখানে একাত্মবোধের অভাব, যেখানে বিভাজন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; সেখানেই করোনা মহামারি বেশি করে আক্রমণ করেছে।

সমষ্টিগত চিন্তায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে গেব্রেয়াসুস বলেন, টিকার আগমন সুড়ঙ্গের ও–প্রান্তে আলো ফেলতে শুরু করেছে। এ আলো কোন নির্দিষ্ট দেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে নয়, ভাগ করতে হবে সারা বিশ্বের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্রুততার সঙ্গে টিকা বিতরণ এবং তা সারা বিশ্বের জনগোষ্ঠীর কাছে সহজলভ্য করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে বলে গেব্রেয়াসুস সাধারণ পরিষদকে জানান। শুরুতেই অবিলম্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে চার দশমিক তিন বিলিয়ন ডলারের অর্থ সহায়তার প্রয়োজনের কথা জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২১ সালের জন্য আরও ২৩ দশমিক নয় বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। বিশ্বের উন্নত ২০টি দেশের নাগরিকদের জন্য প্রণোদনার ১ শতাংশেরও কম এই অর্থ জাতিসংঘের জন্য প্রয়োজন বলে সাধারণ পরিষদের সভায় আলোচনা হয়।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস উন্নত দেশগুলোকে এ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ প্রধান হেনরিয়েটা ফোরেই বলেন, দরিদ্র দেশগুলো টিকা কেনা নিয়ে বিপাকে আছে। দেখা যাচ্ছে, হয় ভ্যাকসিন সহজলভ্য নয় বা মূল্য অনেক বেশি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের স্বাস্থ্য তহবিলে মার্কিন অনুদান বন্ধের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। যদিও নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর এ বিষয়টি পরিবর্তন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। জো বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর প্রশাসন আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মসূচিগুলোতে যোগ দেবে।

মন্তব্য করুন