default-image

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। একদিনে দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক টিকা দেওয়া হচ্ছে। আবার একই সঙ্গে করোনায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ও হাসপাতালে রোগী ভর্তির হারও বাড়ছে। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, এই রোগীদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সাত দিনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন নতুন করে ৬৮ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ১০ মার্চের পর থেকে এক সপ্তাহে এই হার ২০ শতাংশেরও বেশি।

৯ এপ্রিল করোনা সংক্রান্ত হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) পরিচালক রোচেল ওয়ালেনস্কি বলেন, ‘আমাদের আশা করার অনেক কারণ আছে। কারণ, আমরা অধিকাংশ মানুষকেই টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। অন্যদিকে, করোনায় নতুন করে সংক্রমণ ও জরুরি রোগীর শয্যাসংখ্যা বাড়ছে। এবার মূলত তরুণদের মধ্যেই এই সংক্রমণ বাড়ছে, যাদের অধিকাংশ এখনো টিকা নেননি।

রোচেল ওয়ালেনস্কি বলেন, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সীরা এবার করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন বেশি। হাসপাতালে ভর্তির হারেও তাঁরাই বেশি। আর এটি দেশের একটি নির্দিষ্ট অংশে বিশেষ করে আপার মিডওয়েস্টে বেশি হচ্ছে। সিডিসি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

১০ এপ্রিল সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৪৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কোভিড-১৯ ডেটা ডিরেক্টর সাইরাস শাহপার ১০ এপ্রিল এক টুইট বার্তায় বলেছেন, করোনার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশে একদিনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। গত শনিবারের চেয়ে যা প্রায় পাঁচ লাখ বেশি।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার টিকাদান কর্মসূচি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধির পাশাপাশি করোনায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ও হাসপাতালে রোগী ভর্তিও বাড়ছে। এখন মূলত বি.১.১.৭ নামে করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন ধরন বি.১.১.৭ আগের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক। এতে সংক্রমিত মানুষ অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণের দিক দিয়ে এই মুহূর্তে মিশিগান অঙ্গরাজ্য নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, রাজ্যে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে।

সিডিসির তথ্য বলছে, এই রাজ্যে করোনার নতুন ধরন বি.১.১.৭-এ সংক্রমণ শনাক্তের হার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ফ্লোরিডার পর এই রাজ্যে দ্রুত এই হার বাড়ছে।

ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালে ভ্যাকসিন এডুকেশন সেন্টারের পরিচালক পল অফিট বলেন, ‘করোনার বি.১.১.৭ ধরনটি অনেক বেশি সংক্রামক। এই মহামারির সময়েও মানুষ মাস্ক পরে না, সামাজিক দূরত্ব মানে না—এসব কারণেই মূলত আমরা মিশিগানে পিছিয়ে পড়েছি। এটা খুবই হতাশাজনক।’

মিশিগান হেলথ অ্যান্ড হসপিটালের মুখপাত্র জন কারাসিনস্কি বলেন, করোনার সংক্রমণ নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় মিশিগানের বেশ কিছু হাসপাতালে জরুরি নয় এমন রোগীর সেবা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো সবার সেবা নিশ্চিত করতে চায়। কিন্তু এই মুহূর্তে জরুরি রোগীদের আগে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

জন কারাসিনস্কি বলেন, মিশিগান ও মিনেসোটা—দুই রাজ্যেই এই ভয়ংকর অবস্থা বিরাজ করছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাব ও স্কুলগুলোতে সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মিনেসোটার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ৯ এপ্রিল সতর্ক করে বলেছেন, রাজ্যে করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং সর্বোপরি সাবধান থাকা।

এদিকে ওহাইও রাজ্যের গভর্নর মাইক ডিওয়াইন ৮ এপ্রিল বলেন, রাজ্যের করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি ও আইসিইউতে রোগীর ভর্তিও বাড়ছে। আমরা এখন ভুল পথে এগিয়ে যাচ্ছি। রাজ্যের ৫৩টি কাউন্টিতে এই সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

default-image

গভর্নর মাইক ডিওয়াইন আরও বলেন, ‘যদি অধিক সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আনা যায়, তাহলে এই পরিস্থিতি ঘুরে যেতে পারে। এটা মূলত একটা দৌড় প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় আমাদের দৌড়াতে হচ্ছে। আর এটা জীবন ও মৃত্যুর দৌড়।’

সিডিসির তথ্য বলছে, দেশে প্রায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। আর প্রায় ২১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়েছেন। এর অর্থ দেশে এখনো অসংখ্য মানুষ করোনার টিকা নেয়নি। তারাই মূলত সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কারণেই দেশে এখন টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। যাতে দ্রুত অধিক সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনা যায়।

৯ এপ্রিল হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে মার্কিন জেনারেল সার্জন ভিভেক মুর্থি বলেন, এই মহামারি শেষ করে দিতে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। তাই, নিজেদের যেমন টিকা নিতে হবে, তেমনি টিকা নিতে অন্যদেরও উৎসাহিত করে সহায়তা দিতে হবে।

এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সময়টা এমন যে, কেউ যদি পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়ে থাকেন তাহলেও তাঁর এই মুহূর্তে রেস্তোরাঁ বা মুভি থিয়েটারে যাওয়া উচিত হবে না।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন