ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মাঠে প্রচার তেমন নেই। এর মধ্যে রাজনৈতিক আলাপ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে।


ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেন টুইটার থেকে নিজেকে সরিয়ে জনগণের কাজে মাঠে নামার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাইডেন বলেন, ট্রাম্প নিজের জন্য দর-কষাকষি না করে অন্যদের লাভের জন্যও যেন করেন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ডেলাওয়ার রাজ্যে নিজ বাসভবন থেকে এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


জো বাইডেনকে তিরস্কার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এত দিন বলে আসছিলেন স্লিপি বাইডেন। বুধবার এক টুইট বার্তায় তিনি জো বাইডেনের নতুন নাম দিয়েছেন ‘জো হাইডেন’।

বিজ্ঞাপন

ডেমোক্র্যাট-প্রধান কয়েকটি নগরে ফেডারেল অনুদান বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর জবাবে নিউইয়র্কের গভর্নর এন্ড্রু কুমো বলেছেন, নিউইয়র্কে হেঁটে যাওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেনাবাহিনীর পাহারা লাগবে।


কোভিড-১৯-এ সংক্রমিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়ে গেছে। প্রতিদিন এই তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে।


আমেরিকার সাধারণ মানুষ রাজনীতিবিমুখ। করোনার সংক্রমণের সময়ে টিভি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রচার চলছে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণও চলছে এসব মাধ্যমে।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই তাঁর নির্বাচনের জন্য প্রধান বিষয় হিসেবে প্রচার চালাচ্ছিলেন। নাগরিক আন্দোলনের সহিংসতার সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের জড়িয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। প্রচারের শুরু থেকেই বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনিই সেরা।

জাতীয় কনভেনশনের দুই সপ্তাহ পরের জনমত জরিপেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ লোকজন ট্রাম্পের এই প্রয়াসে খুব একটা সাড়া দিচ্ছে না। জনমত জরিপে এখনো তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনের চেয়ে গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশে পিছিয়ে আছেন।


ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন শুরু থেকেই দেশের করোনা বিপর্যয় রোধে ট্রাম্পের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। কনভেনশনের ১০ দিন পর তিনি গত সোমবার পেনসিলভানিয়ায় প্রকাশ্য সভা করেছেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দলমত-নির্বিশেষে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন। তিনি আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করেছেন।


বুধবার নিজের ঘর থেকে দেওয়া বক্তব্যে বাইডেন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সময়মতো ব্যবস্থা নিলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকত। এত দিনে স্কুল খুলে দেওয়া সম্ভব হতো। সারা দিন টুইটার নিয়ে ব্যস্ত না থেকে হোয়াইট হাউসে উভয় দলের কংগ্রেস নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো ও জনগণের সমস্যার সমাধান বের করার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।


বাইডেনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি হোয়াইট হাউস থেকে প্রতিদিনের রাষ্ট্রীয় প্রচারের সুযোগ নিচ্ছেন। পাশাপাশি দিনে বার কয়েক টুইট করে যাচ্ছেন। জো বাইডেনকে এত দিন বলেছেন ঘরের বেসমেন্টে লুকিয়ে থাকা প্রার্থী। বুধবার করা টুইটে বলেছেন, জো হাইডেন।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প বলেন, বাইডেনের প্রচার শিবির থেকে তাঁকে কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয় আর তিনি উত্তর দেন। বাইডেন কিছুই বোঝেন না। না বুঝেই এসবের উত্তর দেন। ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেনের মতো লোক কিছুই জানেন না, রিপোর্টারদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন গ্রহণ করেন না। বেসমেন্টে লুকিয়ে থাকেন।


জো বাইডেনের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে লড়ছেন কমলা হ্যারিস। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে কমলা হ্যারিসকে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্যই কাজে লাগানো হচ্ছে। জাতীয় মঞ্চের বদলে রাজ্য পর্যায়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও উদারনৈতিক ভোটারদের সঙ্গে প্রতিদিন সভা করছেন, সংযোগ করছেন কমলা হ্যারিস।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কসহ বেশ কয়েকটি নগরীতে ফেডারেল তহবিল বরাদ্দ সংকুচিত করার উপায় বের করার এক স্মারকে সই করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট গভর্নর বলেছেন, ট্রাম্প দেশের রাজা নন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ফেডারেল সেনা পাঠানোর জের ধরে কুমো বলেছেন, ট্রাম্পের নিউইয়র্কে হেঁটে যাওয়ার জন্য বডিগার্ড নয়, সেনা পাহারা লাগবে।

ট্রাম্পের নিউইয়র্কে হেঁটে যাওয়ার জন্য বডিগার্ড নয়, সেনা পাহারা লাগবে।
কুমো

জরিপনির্ভর আমেরিকার নির্বাচনী সংবাদ এখনো জো বাইডেনের পক্ষে। বুধবার প্রকাশিত পৃথক চারটি জনমত জরিপে বাইডেনের অবস্থান ৭ থেকে ১০ শতাংশ এগিয়ে। যদিও ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কোনো রাজ্যে ট্রাম্প জনমতের ব্যবধান কমিয়ে আনছেন বলে দেখা যাচ্ছে।

প্রভাবশালী জরিপ প্রতিষ্ঠান সেলজার অ্যান্ড কোং বলছে, জনমতে বাইডেনের অবস্থান ৪৯ শতাংশ, ট্রাম্পের ৪১। ইউএসএ টুডে এবং সাফোক ইউনিভার্সিটির জরিপে বাইডেন ৫০, ট্রাম্প ৪৩ শতাংশ। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপে বাইডেন ৫২, ট্রাম্প ৪২ শতাংশ । সিএনএন এবং এসএসআরএস জরিপে বাইডেন ৫১ শতাংশ এবং ট্রাম্পের প্রতি জনমত ৪৩ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

প্রভাবশালী জরিপ প্রতিষ্ঠান সেলজার অ্যান্ড কোং বলছে, জনমতে বাইডেনের অবস্থান ৪৯ শতাংশ, ট্রাম্পের ৪১। ইউএসএ টুডে এবং সাফোক ইউনিভার্সিটির জরিপে বাইডেন ৫০, ট্রাম্প ৪৩ শতাংশ। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপে বাইডেন ৫২, ট্রাম্প ৪২ শতাংশ । সিএনএন এবং এসএসআরএস জরিপে বাইডেন ৫১ শতাংশ এবং ট্রাম্পের প্রতি জনমত ৪৩ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যের মধ্যে মনমাউথ ইউনিভার্সিটির জরিপে দেখা গেছে, পেনসিলভানিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে জো বাইডেন ২ বা ৩ শতাংশের কাছাকাছি এগিয়ে আছেন। তিন সপ্তাহ আগেও এটি ৯ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। অ্যারিজোনায় এখনো জো বাইডেন ৯ শতাংশ এগিয়ে আছেন। নর্থ ক্যারোলাইনাতে ৪ শতাংশ এবং উইসকনসিনে ট্রাম্প ৮ পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন। এসব রাজ্যে ২০১৬ সালে সামান্য ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্প জয়লাভ করেছিলেন। নির্বাচনে জয়ের জন্য ট্রাম্পের এসব রাজ্যে জয় পেতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন