default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল এখনো দোলাচলের মধ্যে আছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। নির্বাচনে পরাজয়ই এখন সবচেয়ে বেশি করে চোখ রাঙাচ্ছে ট্রাম্পকে। এ অবস্থায়ও তিনি নানা অসাবধানী বক্তব্য দিচ্ছেন। নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও তার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ তিনি বা তাঁর ঘনিষ্ঠরা দিচ্ছেন না। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের নির্বাচনে অস্বচ্ছতা সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে অথবা জনগণের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকান নেতারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রচার শিবির থেকে একের পর এক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যদিও এর স্বপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করা হচ্ছে না। এতে রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতারা অস্বস্তিতে আছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে এ ধরনের অভিযোগ মার্কিন গণতন্ত্রের অন্যতম একটি ভিতের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করছে। এতে দলের ক্ষতিও কম নয়। বিশেষত জর্জিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে হওয়া সিনেট নির্বাচনের ফলের ওপর সিনেটে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে কিনা, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের নির্বাচনে অস্বচ্ছতা সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে অথবা জনগণের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিষয়ে কিছু বলার ক্ষেত্রে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন রিপাবলিকান শীর্ষ নেতারা। নিজের ভোটার ভিত দিয়ে গত চার বছরে রিপাবলিকান দলে ট্রাম্প বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। ফলে অনেক নেতাই এখনো তাঁকে প্রকাশ্যে কোনো চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন না। এ কারণে তাঁরা শুধু প্রেসিডেন্টের তোলা ভোট জালিয়াতির অভিযোগকে আরও সুস্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল এখনো পাওয়া বাকি। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, অ্যারিজোনা ও নেভাদায় ডোনাল্ড ট্রাম্প পিছিয়ে পড়েছেন। এর আগে মিশিগান ও উইসকনসিনে এগিয়ে থাকলেও পরে পিছিয়ে পড়েন তিনি। অঙ্গরাজ্য দুটি হাতছাড়া হয় তাঁর। এ অবস্থায় ট্রাম্প একের পর এক ভোট জালিয়াতি করছেন। এমনকি তিনি মার্কিন বিচার বিভাগের দিকেও আঙুল তুলেছেন। বলছেন, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করছে।

রিপাবলিকান দলের কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, দলটির শীর্ষ নেতারা চান ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা যেন তাঁদের তোলা অভিযোগ আরও স্পষ্ট করে বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান। এর পর আদালত তার নিজের নিয়মে বিষয়টির মীমাংসা করুক। এ সম্পর্কিত মামলা যদি আদালতে মুখ থুবড়ে পড়ে, তবে ট্রাম্পের হাতে আর কোনো বিকল্প থাকবে না। সে ক্ষেত্রে সরাসরি প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করারও কোনো প্রয়োজন পড়বে না তাঁদের।

এ বিষয়ে সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর ও সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ভোটে হওয়া অনিয়ম নিয়ে সুনির্দিষ্ট মামলা করাটা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তব্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে।’

প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু দলের নেতা কেভিন ম্যাককার্থি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের দাবির পক্ষে হলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককোনেল বেশ সতর্ক। ম্যাককোনেল একদিকে বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের তোলা দাবিকে সম্মান জানানো উচিত। অন্যদিকে বলছেন, এখন পর্যন্ত জালিয়াতির যে অস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে, তাকে তিনি সমর্থন করেন না

সিএনএন জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ সম্পর্কে রিপাবলিকান নেতারা খুব সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু দলের নেতা কেভিন ম্যাককার্থি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের দাবির পক্ষে হলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককোনেল বেশ সতর্ক। ম্যাককোনেল প্রকাশ্যে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা দুই নৌকায় পা রাখার মতো। তিনি একদিকে বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের তোলা দাবিকে সম্মান জানানো উচিত। অন্যদিকে বলছেন, এখন পর্যন্ত জালিয়াতির যে অস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে, তাকে তিনি সমর্থন করেন না। এ বিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে একেবারে নারাজ।

রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যে বিপুল ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার স্বপক্ষে বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরাটা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব। বিশেষত যেসব সুইং স্টেটে এগিয়ে যাওয়ার কারণে জো বাইডেনের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এমন বিস্তারিত তথ্য দেওয়াটা জরুরি।

এ বিষয়ে সিনেট রুলস চেয়ারম্যান রয় ব্লান্ট সিএনএনকে বলেন, ‘আমার মনে হয় এ সম্পর্কিত আলোচনার দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের উচিত তাঁর আইনজীবীদের কাছে দেওয়া।’ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাদের যদি মামলা করার থাকে, তবে তাদের তা করার সুযোগ রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ার একটি সময়ও রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0