default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তাঁর স্ত্রী লরা বুশ এরই মধ্যে ভোট দিয়েছেন। তবে তাঁরা কাকে এবার ভোট দিয়েছেন, তা জানাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তাঁরা ভোট দিয়েছিলেন। সে সময় অবশ্য জানিয়েছিলেন, তাঁরা কোনো প্রার্থীকেই ভোট দেননি। ব্যালটে থাকা ‘নান অব দ্য অ্যাবাভ’ বিকল্পটিই ছিল তাঁদের পছন্দ।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের মুখপাত্র ফ্রেডি ফোর্ড এবারের নির্বাচনী প্রচারকালেই বারবার বলেছেন, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেনশিয়াল রাজনীতি থেকেই অবসর নিয়েছেন। গতকাল সোমবার তিনি ডালাস শহরের স্থানীয় পত্রিকা ডালাস মর্নিং নিউজকে বলেন, ডালাসের এই দুই বাসিন্দা এবার কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শুধু তাঁরাই জানবেন। এই তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

ডালাস মর্নিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জ ও লরা বুশের এই অবস্থান বলে দেয়, গত চার বছরে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের রাজনীতিকে কতটা বদলে দিয়েছেন। বুশ জমানার রাজনীতি থেকে এটা একদমই আলাদা।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক মাস ধরেই মার্কিন রাজনীতি বিশ্লেষকদের একটা কৌতূহল ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির ভোট কার দিকে যায়, তা নিয়ে। এ নিয়ে ঢের বিতর্কও হয়েছে। বুশ জুটির এবারের ভোট শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পাবেন, নাকি গেলবারের মতোই কাউকেই দেবেন না, তা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। জর্জ বুশের ঘনিষ্ঠদের নানা কার্যক্রমে এ নিয়ে সংশয় আরও বেড়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মকর্তা ও মন্ত্রী কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। এদিকে বুশের ভাতিজা ও টেক্সাসের ভূমি কমিশনার জর্জ বি বুশ শুধু রিপাবলিকানই নন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন সমর্থকও।

সে যা-ই হোক জর্জ ও লরা বুশের পছন্দ যাকেই হোক, তাঁরা এরই মধ্যে তাঁকে ভোট দিয়ে দিয়েছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও ফার্স্ট লেডি লরা বুশ অবশ্য ভোট দিয়েছেন গত ১৫ অক্টোবর। রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য টেক্সাসের নির্বাচনী ফল এবার কোন দিকে যায়, তা নিয়ে এবার সংশয় তৈরি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বুশ দম্পতির ভোট দুটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জর্জ বুশ ও তাঁর বাবা এইচ ডব্লিউ বুশ অবশ্য কখনোই টেক্সাসে হারেননি। সিনিয়র বুশ ১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে এবং জর্জ বুশ ২০০০ ও ২০০৪ সালে এই অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছিলেন। এই অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের জয়ের ইতিহাস আরও লম্বা। ১৯৭৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের পর আর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এই অঙ্গরাজ্যে জয় পাননি।

এবার বুশ দম্পতির ভোট নিয়ে এত আলোচনার কারণ গত নির্বাচনে তাঁদের অবস্থান। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিতণ্ডা হয়েছিল জর্জ বুশের। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প-বিরোধী না বলা গেলেও ট্রাম্প-সমর্থক হিসেবে তাঁর কোনো রূপান্তর চোখে পড়েনি। নিজ দলের এমন অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকেই নানা সময় বিতর্কিত মন্তব্য ও আচরণ দিয়ে চটিয়েছেন ট্রাম্প। এর মূল্য এবার তাঁকে দিতে হতে পারে। কারণ জর্জ বুশের মতো নেতাদের নিজস্ব কিছু সমর্থক ভিত থাকে। তাঁদের অবস্থান বিপরীতে গেলে এই সমর্থকেরাও ট্রাম্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তেমন কিছু ঘটল কিনা, তা জানতে অবশ্য আর বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0