যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন

ছয় অঙ্গরাজ্য নিয়েই মাথাব্যথা দুই শিবিরে

নির্বাচনী প্রচারে ছয়টি অঙ্গরাজ্যের দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জো বাইডেন
নির্বাচনী প্রচারে ছয়টি অঙ্গরাজ্যের দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জো বাইডেনছবি: রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার এখন তুঙ্গে। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আগের মতো মাঠে প্রার্থীরা নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন—উভয়েই প্রচারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দুই দলের প্রার্থী ও তাঁদের প্রচার দলের তৎপরতা বলে দিত, নির্বাচনে কোন অঙ্গরাজ্যগুলো ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এবার এমন অনুমানের জন্য তাকাতে হবে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের পেছনে কে কত অর্থ ব্যয় করছেন, সেদিকে। এ বিবেচনায় ছয়টি অঙ্গরাজ্যের নামই উঠে আসছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের পেছনেই নির্বাচনী তহবিলের বড় অংশ ব্যয় করছেন দুই প্রার্থী। আর এ ক্ষেত্রে উভয়েই পাখির চোখ করেছেন ছয়টি অঙ্গরাজ্যকে। এগুলো হচ্ছে ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান, উইসকনসিন ও অ্যারিজোনা। এই ছয় অঙ্গরাজ্যের টিভি চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপন থেকে আসা অর্থের বড় অংশই এখন আসছে দুই দলের প্রচার তহবিল থেকে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাডভার্টাইজিং অ্যানালাইটিকসের তথ্যমতে, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি অঙ্গরাজ্যে টিভি বিজ্ঞাপন বাবদ এখন পর্যন্ত দুই প্রার্থী ৭০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। এর ৮৫ শতাংশই গেছে এই ছয়টি অঙ্গরাজ্যে। অর্থ ব্যয়ের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্রেটিক দল। জো বাইডেন ও তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী এই ছয় অঙ্গরাজ্যে তাদের প্রচার তহবিলের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যয় করছে। আর ট্রাম্প শিবির ব্যয় করছে তাদের তহবিলের ৭৮ শতাংশ।

গত এপ্রিল থেকে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই ছয় অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন সম্প্রচার মাধ্যমের বিজ্ঞাপন সময় কেনা বাবদ দুই দল যে অর্থ ব্যয় করেছে, তার পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বাইডেন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলেই মনে হয়। এসব অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের প্রচার দল ও তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত ৩৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থক গোষ্ঠীর মোট ব্যয়ের তুলনায় এটি ৪ কোটি ডলার বেশি। এটি বড় বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারণত ডিজিটাল পরিসরে অন্যদের তুলনায় বেশি ব্যয় করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এনপিআরের বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রচার দলের বাইরে থাকা সমর্থক গোষ্ঠীর কারণেই জো বাইডেন এবার সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ ছয় অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের প্রচার তহবিল থেকে ব্যয় করা হয়েছে ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। তাঁর প্রচার তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে বাইডেনের সমর্থক গোষ্ঠী, যাদের কাছ থেকে এসেছে আরও ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ‘প্রায়োরিটিজ ইউএসএ অ্যাকশন’ নামের একটি গোষ্ঠী থেকেই এসেছে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। ‘ফিউচার ফরোয়ার্ড’ ও ‘আমেরিকান ব্রিজ’ নামের আরও দুটি গোষ্ঠী থেকে এসেছে যথাক্রমে ৩ কোটি ৯০ লাখ ও ২ কোটি ৫ লাখ ডলার। বিপরীতে সমর্থক গোষ্ঠীর কাছ থেকে ট্রাম্পের তহবিলে এসেছে ১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট অ্যাকশন’ ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট পলিসিস’ নামের দুটি গোষ্ঠী থেকেই এসেছে ৫ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এ ছাড়া ‘প্রিজার্ভ আমেরিকা পিএসি’ নামের আরেকটি গোষ্ঠী থেকে এসেছে ২ কোটি ৪২ লাখ ডলার।

নির্বাচনী প্রচারের ব্যয় থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, উভয় পক্ষই এই ছয় অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন। এ ক্ষেত্রে বাইডেন অনেকটা এগিয়ে যাওয়ায় রিপাবলিকান শিবিরে কিছুটা শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। আগেই বলা হয়েছে, বাইডেনের এবার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী। ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যগুলোতেও তাঁর প্রচার দল ও সমর্থক গোষ্ঠীর নির্বাচনী ব্যয় প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন হাতছাড়া হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছিল এ ঘটনায়। তিন অঙ্গরাজ্য মিলে মাত্র ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে সবগুলো ইলেকটোরাল ভোট বাগিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তখন এই তিন অঙ্গরাজ্যে প্রচারকাজে কম অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল সেই সময়ের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচার দলের বিরুদ্ধে। কিন্তু বাইডেনের প্রচার কার্যক্রম ও ব্যয় বলে দিচ্ছে, তারা এবার এই তিন অঙ্গরাজ্যে নিজেদের কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারে নেমেছে। শুধু এই তিন অঙ্গরাজ্যেই বাইডেনের সমর্থনে ব্যয় করা হয়েছে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে ট্রাম্পের ব্যয় ১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

তবে এ ছয়টির বাইরে ট্রাম্প ওহাইও ও আইওয়া অঙ্গরাজ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন ইতিমধ্যে। এ দুই অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রচার দলের ব্যয় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ হিসেবে বাইডেনের প্রচার দল অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তারা এ দুই অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত ৯০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। জনমত জরিপের ফলাফল বিবেচনায় এ দুই অঙ্গরাজ্যেও জোর লড়াই হওয়ার কথা।

ওহাইও ও আইওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প মনোযোগ দিচ্ছেন মিনেসোটা, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাদার দিকেও। এই তিন অঙ্গরাজ্যে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন জয়ী হয়েছিলেন। অঙ্গরাজ্য তিনটিতে এখন পর্যন্ত বাইডেন শিবির ব্যয় করেছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর ট্রাম্প শিবির ব্যয় করেছে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। নিশ্চিতভাবেই ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে অঙ্গরাজ্য তিনটি ছিনিয়ে নিতে চাইছেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবার কলোরাডোয় ট্রাম্প একেবারেই কোনো অর্থ ব্যয় করেননি। তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী যা করেছে, তার উল্লেখ না করলেও চলে। ঠিক একইভাবে আরেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য জর্জিয়ায় বাইডেন ও তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী ব্যয় করেছেন সাকল্যে ৫০ হাজার ডলার। বিপরীতে ট্রাম্প ব্যয় করেছেন ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার। তবে আগামী মাস থেকে এখানে বাইডেন শিবির অর্থ ঢালা শুরু করবে। এ জন্য তারা ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ রেখেছে।

তবে টেক্সাস নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা ট্রাম্পকে একটু ধাক্কা দিতেই বাইডেন অঙ্গরাজ্যটিতে বিজ্ঞাপন বাবদ বড় অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করছেন। শুধু অক্টোবর মাসের জন্যই সেখানে ৫২ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। অথচ এখনো সেখানে ট্রাম্প শিবির কোনো অর্থ ব্যয় করেনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন