default-image

যুক্তরাষ্ট্রে মিনেসোটায় কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এর মধ্য দিয়েই এই মামলার আইনি যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে চৌভিনের কারাদণ্ডাদেশ ঘোষণা করবেন মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি আদালতের বিচারক পিটার কাহিল।

চৌভিনের বিরুদ্ধে প্রমাণিত তিনটি অভিযোগ হলো—‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ অনিচ্ছাকৃত খুন, ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুন এবং ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ নরহত্যা। আইন অনুযায়ী, ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ অনিচ্ছাকৃত খুনের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুনের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হয় ২৫ বছরের। অন্যদিকে ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ নরহত্যার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তাই অনেকেই ধারণা করছেন, চৌভিনের সর্বোচ্চ ৪০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আবার অনেকে ধারনা করছেন, ৪০ বছর না–ও হতে পারে। এ নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে চৌভিনের সর্বোচ্চ দণ্ড হবে কিনা—এ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের দণ্ডবিধিতে প্রতিটি খুনের অভিযোগের জন্য সম্ভাব্য সাড়ে ১২ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। নরহত্যার আলাদা অভিযোগের জন্য চার বছরের কারাবাসের পৃথক দণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যের দণ্ডবিধি আলাদা আলাদা। চৌভিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ খুনের অভিযোগটাই সবচেয়ে মারাত্মক। এ ক্ষেত্রে মিনেসোটা রাজ্যের দণ্ডবিধি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত তাঁর ১৫ বছরের কারাবাস হওয়ারও সুযোগ আছে।

যেহেতু জর্জ ফ্লয়েডের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত মামলা। এ মামলায় রাজ্যের প্রসিকিউটর সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ৪০ বছরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এবিসি নিউজের আইন বিশ্লেষক ড্যান আব্রাহাম বলেছেন, এই মামলায় চৌভিনের দণ্ড কেমন হবে, তা নিয়ে পরে বড় বিতর্ক হবে। তিনি মনে করেন, সরকার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ দণ্ডের চেষ্টা করা হবে।

মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি আদালত তিনটি অভিযোগেই ডেরেক চৌভিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এরপরই তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে ২০ এপ্রিল রাতেই মিনেসোটা কারেকশন ফ্যাসিলিটিতে নেওয়া হয়েছে। এখন তাঁকে রাজ্যের কোন কারাগারে রাখা হবে, এ সিদ্ধান্ত নেবে কারেকশন বিভাগ।

রায় ঘোষণার পরপর আদালতের বাইরে থাকা ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনকারীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। ন্যায়বিচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

default-image

জাল নোট ব্যবহারের অভিযোগ এনে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনের বাসিন্দা জর্জ ফ্লয়েডকে (৪৬) গত বছরের ২৫ মে আটক করে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের পুলিশ। আটকের পর ডেরেক চৌভিন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা সড়কে ফেলে ফ্লয়েডের ঘাড় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেন। এ সময় ফ্লয়েড বলতে থাকেন, ‘দয়া করুন, আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না। আমাকে মারবেন না।’ এক পথচারী ওই সময় ফ্লয়েডকে ছেড়ে দিতে পুলিশকে অনুরোধ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফ্লয়েডকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জর্জ ফ্লয়েড মিনোপোলিস শহরের একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় নাগরিক আন্দোলন শুরু হয় জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর। শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষ ও নৃশংসতার অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় নগরীতে পুলিশে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশি ব্যবস্থার জন্য রাজস্ব ব্যয় কমিয়ে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ ইউনিয়নগুলোর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই মামলাটি একটি মাইলফলক হয়ে উঠেছে। আগামী দিনের সামাজিক রাজনৈতিক বিতর্কে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড আর শ্বেতাঙ্গ ডেরেক চৌভিনের নাম উচ্চারিত হতে থাকবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এর মধ্য দিয়েই হয়তো একটি জনবান্ধব পুলিশব্যবস্থা গড়ে উঠবে মার্কিন সমাজে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন