default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তা থামছে না। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোট সার্টিফিকেশনের (সরকারি অনুমোদন) কাজ চলছে। এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য মিশিগানের ভোট সার্টিফিকেশন নিয়ে আবার জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির ওয়েইন কাউন্টির ভোট সার্টিফিকেশনে স্থানীয় নির্বাচন বোর্ডের দুজন রিপাবলিকান সদস্য আবার বেঁকে বসেছেন।

১৭ নভেম্বর ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন বোর্ডের দুজন রিপাবলিকান সদস্য প্রথম দফা ভোট সার্টফাই করতে অস্বীকার করেন। ভোটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন নিরাপদ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর তাঁদের এমন অবস্থানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বোর্ড থেকে জানানো হয়, ভোট সর্বসম্মতিক্রমে সার্টিফাই করা হয়েছে।

কাউন্টির নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারপারসন মনিকা পালমার ও সদস্য উইলিয়াম হার্টম্যান ১৮ নভেম্বর রাতেই এক এফিডেভিট জমা দিয়ে বলেন, তাদের চাপ দিয়ে সম্মতি আদায় করা হয়েছে

কাউন্টির নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারপারসন মনিকা পালমার ও সদস্য উইলিয়াম হার্টম্যান ১৮ নভেম্বর রাতেই এক এফিডেভিট জমা দিয়ে বলেন, তাদের চাপ দিয়ে সম্মতি আদায় করা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, কাউন্টির ভোট নিয়ে করা নিরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আগে তাঁরা এতে সম্মতি দেবেন না।

এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট জনাথন কিনোলচ বলেন, রিপাবলিকান সদস্যদের এমন অবস্থান নেওয়ার সময় পেরিয়ে গেছে। তাঁদের সম্মতির পরই কাউন্টি থেকে সার্টিফাই করে ভোটের ফল অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বোর্ডে পাঠানো হয়। এখন তা আবার ফিরিয়ে আনার কোনো নিয়ম নেই। তিনি বলেন, রিপাবলিকানদের এমন কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক নানা প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করবে। ট্রাম্প শিবিরের চাপের কারণেই এখানকার রিপাবলিকান দুই সদস্য এখন আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে এখন হয়তো আরেকটি মামলা করা হবে।

বিজ্ঞাপন
ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন মিশিগানে ১ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। রাজ্যের ওয়েইন কাউন্টিতে ট্রাম্পের চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন বাইডেন। বাংলাদেশিসহ ব্যাপক অভিবাসীদের বসবাস এই কাউন্টিতে

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন কার্যালয় থেকে ভোটের ফল সরকারিভাবে অনুমোদন করা-না করা নিয়ে নাটকীয় ঘটনার সূচনা ঘটে। রাজ্যের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারস-এর নির্দিষ্ট তারিখের আগেই নির্বাচনের ফল সরকারিভাবে অনুমোদন করার কথা। কিন্তু এ নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ এ কাউন্টিতে ভোটের ফল অনুমোদন নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত টুইট করে এ নিয়ে অভিনন্দন জানান। ট্রাম্প বলেন, মিশিগান ভোটের ফল অনুমোদন করতে অস্বীকার করেছে। এমন সাহসের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গর্বের সঙ্গে দাঁড়াচ্ছে।

এ ঘটনার পর রিপাবলিকান প্রচার শিবির সক্রিয় হয়ে ওঠে। ট্রাম্পের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশিগানের ফল পাল্টে যাচ্ছে বলে বার্তা দিতে থাকেন। কাউন্টি ক্যানভাসারস বোর্ডে দলীয় সদস্য থাকলেও, ভোটের ফল মেনে না নিয়ে অনুমোদন অস্বীকার করার কোনো নজির নেই। এ নিয়ে দ্রুত মিশিগানের রাজ্যের নির্বাচন বোর্ড সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট জোসেলিন বেনসন রাত ৯টার দিকে জানান, নির্বাচন বোর্ড ভোটের ফল অনুমোদনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভোটে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা নিরীক্ষার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন মিশিগানে ১ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। রাজ্যের ওয়েইন কাউন্টিতে ট্রাম্পের চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন বাইডেন। বাংলাদেশিসহ ব্যাপক অভিবাসীদের বসবাস এই কাউন্টিতে। এ কাউন্টিতে ভোটের ফল অনুমোদন না হলে মিশিগান রাজ্যে বাইডেনের জয় কঠিন হওয়ার আশঙ্কা আছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এটা ছিল আরেকটি ব্যর্থ প্রয়াস। তবে মিশিগানের মানুষ কথা বলেছে
গ্রেচেন হুইটমার, মিশিগান রাজ্যের গভর্নর

সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করার জন্য প্রথমে তাঁরা অনুমোদনের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। যাচাই শেষে দেখা যায়, ছোটখাটো ত্রুটি থাকলেও ভোট নিয়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি । কাউন্টি বোর্ডের রিপাবলিকান চেয়ারপারসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলে আসছেন, তিনি নির্বাচনের ফল পাল্টে দেবেন। ভোট অনুমোদন করা নিয়ে এমন প্রয়াস আগে কখনো করা হয়নি। ট্রাম্প বিভিন্ন রাজ্যের কাউন্টি পর্যায়ে এমন প্রয়াস চালাতে পারেন বলে এখনো সন্দেহ করা হচ্ছে।

মিশিগানের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা আগেই বলেছেন, তাঁরা রাজ্যে নির্বাচনের ফলকে শ্রদ্ধা জানাবেন।

ওয়েইন কাউন্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারপারসন জোনাথন কিনলচ ভোটের ফল অনুমোদন নিয়ে রিপাবলিকান সদস্যদের প্রথম দফা আচরণকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

মিশিগান রাজ্যের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এটা ছিল আরেকটি ব্যর্থ প্রয়াস। তবে মিশিগানের মানুষ কথা বলেছে। এ রাজ্যে জো বাইডেন ১ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। গভর্নর বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হবে। রাজ্যের নির্বাচনী বোর্ড সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ভোট গণনা বাতিল করে রাজ্যের আইনসভাকে ইলেকটোরাল ভোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। এভাবে মিশিগানের বেলায়ও আবেদন জানানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার সর্বশেষ প্রয়াস হিসেবে এমন করছেন। তিনি এখনো ফলাফল মনে নেননি। নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য কোনো সহযোগিতাও করছেন না। মার্কিন সংবিধানে ২০ জানুয়ারিতে ক্ষমতার পালাবদল হওয়া বাধ্যতামূলক। এর আগে আরও নানা নাটকীয়তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যস্ত থাকবেন বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0