মার্কিন নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে চলছে অনিশ্চয়তা। ওভাল অফিসে ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে যাবেন, নাকি সেখানে প্রবেশের চাবিটি এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের হাতে যাবে—তা নিয়ে এখনো চলছে অঙ্কের নানা খেলা। এই খেলায় প্রভাবকের কোনো ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশি মার্কিনদের না থাকলেও তারা নির্লিপ্ত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জয়-পরাজয় নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘরের ভেতর দুই শিবিরে বিভক্ত ছিলেন অনেকেই। ভোটও দিয়েছেন ট্রাম্প অথবা বাইডেনকে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ডেমোক্র্যাট এলাকা হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বিরাট অংশের বাস এখানে এবং তাঁদের অনেকেই ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেন। কিন্তু এবার রিপাবলিকানদের পক্ষে একটি অংশ মাঠে ছিলেন। উভয় পক্ষের হয়ে সভা-সেমিনার ও লিফলেট বিতরণসহ নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন অনেকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন জানানোর বিষয়ে বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিক ককাসের সভাপতি ওয়াসি চৌধুরী বলেন, রিপাবলিক দলের নেতারা সব সময় দেশের উন্নয়ন করেছেন। তাই আমরা ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করেছি।

এদিকে ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে ছিলেন অ্যাটর্নি অ্যাট লার্জ মঈন চৌধুরী। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসী আইন সহজতর করে অভিবাসীদের আপন করে নিয়েছেন। এ ছাড়া দেশের উন্নয়নেও তাঁদের বড় অবদান রয়েছে। তাই আমরা ডেমোক্র্যাট ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারি না।

বিজ্ঞাপন

একই বক্তব্য ডেমোক্র্যাট নেতা সাউথ ইস্ট ইউএসএ গ্রুপের সিইও অধ্যাপক এহতেশামুল হকের। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাট ছাড়া অভিবাসীদের মর্যাদা কেউ দেয়নি। তাই অন্তত অভিবাসীরা অন্য দলকে সমর্থন করা যুক্তিযুক্ত নয়।

কর্ণফুলী ট্যাক্সের সিইও মোহাম্মদ হাসেম তাঁর ডেমোক্রেটিক দল সমর্থনের পেছনে দিলেন ভিন্ন যুক্তি। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের উপকার হবে। আর রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ী ও ধনী শ্রেণির উপকার হবে।

এবারের নির্বাচনে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলনামূলক বেশি আগ্রহ দেখা গেছে। এর বাইরে নন বাংলাদেশিরাও। নির্বাচনের প্রচার, ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে এর ফলাফল নিয়ে বিতর্কে মুখর তাঁরা। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় বাঙালিদের মধ্যে অন্যান্য বছরের তুলনায় আগ্রহ অনেক বেশি ছিল। নির্বাচনের মাঠেও তাঁদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক বাংলাদেশি বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনের দিন অনেককে দলীয় পতাকা বহন করে কেন্দ্রে ভোটার আনতে দেখা গেছে।

নিউইয়র্কের একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন শেলী জামান খান। জানালেন, মার্কিন নাগরিক হয়ে নিজে ভোট দেওয়াকে যেমন গুরুত্বের মনে করেছেন, তেমনি একজন নির্বাচনকর্মী হিসেবে কাজ করতে পেরেও আনন্দিত তিনি।

মন্তব্য পড়ুন 0