যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের বেশি সময় পর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে। মানুষের কর্মব্যস্ততা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফিরে আসছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে এরই মধ্যে দুঃসংবাদ হয়ে দেখা দিচ্ছে যানবাহনের জ্বালানি সংকট। এবারের গ্রীষ্মে জ্বালানি সংকট প্রকট হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, দেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে (গ্যাস স্টেশন) মজুত কমে এসেছে।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রুড ওয়েল বা জ্বালানি সংকট নেই। জ্বালানি সংকটের মূল কারণ পরিবহন সংকট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে জ্বালানি পরিবহনের জন্য চালক সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল গ্যাস পরিবহনের শীর্ষ সংস্থা ন্যাশনাল ট্যাংক ট্রাক ক্যারিয়ারস। তারা জানিয়েছে, চালক সংকটের কারণে তাদের ২৫ শতাংশ গাড়ি গ্যারেজে পড়ে আছে। এসব ট্যাংক চালানোর জন্য সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণ ও সনদধারী চালকের প্রয়োজন হয়। এক বছরে এই পেশার বহু মানুষ তাদের পেশা বদল করে ফেলেছে।

গত বছর শুরু হওয়া মহামারি ও লকডাউনের কারণে জ্বালানি চাহিদা কম ছিল। লোকজন প্রয়োজন ছাড়া কোথাও যাতায়াত করেনি। করোনার নাজুক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পর ধীরে ধীরে মানুষের চলাচল বেড়েছে। এমনিতেই প্রতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। এবারের গ্রীষ্ম আসার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ ব্যাপকভাবে বেরিয়ে পড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আন্তঃরাজ্যের এসব যাতায়াতে জ্বালানি চাহিদা অনেক বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

ন্যাশনাল ট্যাংক ট্রাক ক্যারিয়ারস-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান স্ট্রেব্লো বলেন, এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে ট্যাংকের চালক সংকট চলছে। করোনা মারামারি এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। জ্বালানি ট্যাংক চালাতে হলে চালককে বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নেওয়া ছাড়াও একটি স্কুল থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আলাদা পারমিট নিতে হয়। বয়সের কারণে ট্যাংক চালকের পেশায় দীর্ঘদিন থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই পেশাটি ছেড়ে যাচ্ছেন। করোনা মহামারি আর লকডাউনের সময় যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন, তাদের অনেকেই কাজে ফিরছেন না। নতুন মানুষ এই পেশায় তেমন আগ্রহী নয়।

রায়ান স্ট্রেব্লো বলেন, গ্যাস ট্যাংক চালকদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিবারের বাইরে থাকতে হয়। এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে ছুটে চলার এই বেদুইন পেশার প্রতি নতুনদের তেমন আগ্রহ নেই। চালকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তারপরও চালক পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি মজুরি বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়বে বলে বাজেটের মধ্যেই কোম্পানিগুলোকে চালক খুঁজতে হচ্ছে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজ্যে পেট্রলসহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্য বেড়ে গেছে। ট্যাক্সসহ অন্যান্য কারণে রাজ্য ভেদে পেট্রল, ডিজেলের খুচরা মূল্য নির্ধারিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র গড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের মূল্য তিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। গত বছর একই সময়ে প্রতি গ্যালনের দাম দুই ডলারের কাছাকাছি ছিল। সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ছাড়াও উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে পেট্রল, ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আসছে গ্রীষ্ম মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন এলাকাগুলো ভরে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জনচলাচলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের মাস্ক ছাড়াই বাইরে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তাই আশা করা হচ্ছে, জনকোলাহল এ গ্রীষ্মেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এ সময় জ্বালানি সংকটের কারণে লোকজনের ভোগান্তি বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক চাপে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাজেটের সমন্বয় করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন