default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসননীতি থেকে শুরু করে আয়করের তথ্যের বিষয়ে আদালত থেকে একের পর এক ধাক্কা খেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। সামনের দিনগুলোয় ট্রাম্পকে আরও খারাপ সংবাদ শুনতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসননীতি ও আয়করের তথ্যের বিষয়ে সাতটি পৃথক ফেডারেল আদালতের রায় ট্রাম্পের বিপক্ষে গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে গত শুক্রবার ডিসি সার্কিট কোর্ট অব আপিলস থেকে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমার মতো বিষয়গুলোতে রায় দিয়ে থাকেন এই আদালত। বেশ কিছু দিন আগে ট্রাম্পের গত আট বছরের আয়কর জমাদানের তথ্য তলব করে প্রতিনিধি পরিষদ। প্রেসিডেন্টের আয়করের তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা এই পরিষদের নেই—দাবি করে ওই আদালতে মামলা ঠুকেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই মামলার রায় ট্রাম্পের নয়, পক্ষে গেছে প্রতিনিধি পরিষদের। আদালত বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ যে তদন্ত চালাচ্ছে, তা সাংবিধানিক নতুন আইন হতে পারে। যদিও ট্রাম্প ওই আদেশ সার্কিট কোর্টকে পর্যালোচনা করতে আবেদন করতে পারেন। অথবা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি যেতে পারেন সুপ্রিম কোর্টে।

ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের সূত্রপাত হয় গত ২৫ জুলাইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে আলাপচারিতার তথ্য ফাঁসের পর। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর ছেলে হান্টার বাইডেনের ইউক্রেনে অতীত ব্যবসার দুর্নীতির তদন্তের জন্য জেলেনস্কিকে চাপ দেন ট্রাম্প। বিনিময়ে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ সহায়তা তহবিল অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দেন। এই কথোপকথনের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে অভিশংসন তদন্ত শুরু করে প্রতিনিধি পরিষদ।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার নজির নেই। কিছু ক্ষেত্রে বিচারকেরা কৌঁসুলি ও প্রতিনিধি পরিষদের তদন্তকারীদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছেন। তবে এবার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে কোনো তথ্য যাতে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। ওই তদন্তের সাংবিধানিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে ট্রাম্পের আয়কর কিংবা অভিবাসননীতির প্রশ্ন নয়, সামনের দিনগুলোয় ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের অংশ হিসেবে ইউক্রেন কেলেঙ্কারির ঘটনায় অন্যতম প্রধান সাক্ষী ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গর্ডন সন্ডল্যান্ডকে সাক্ষ্য দিতে তলব করে প্রতিনিধি পরিষদ। কিন্তু হোয়াইট হাউস এতে বাধা দেয়। তবে সন্ডল্যান্ড সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি প্রতিনিধি পরিষদের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হবেন। ট্রাম্প প্রশাসন যদি ওই সাক্ষ্য দানে আবারও বাধা দেয়, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।

শুক্রবার সার্কিট আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা নিজেদের আয়করের তথ্য প্রকাশ করে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও সেটা অনুসরণ করা উচিত। প্রেসিডেন্টকে সেটা করতে বাধ্য করতে পারে কংগ্রেস। আদালত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা বলেছেন, অভিশংসন তদন্তের বিষয়ে আদালতের সেই সুর আরও কড়া হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক মাইকেল গারহার্টের মতে, আয়করের তথ্য নিয়ে চলা মামলার যুক্তিতর্কের সময় ট্রাম্পের আইনজীবীদের বক্তব্য থেকে বোঝা গেছে প্রেসিডেন্ট কতটা আক্রমণাত্মক। শুধু তা-ই নয়, প্রচলিত আইন মেনে চলায় তাঁদের কতটা অনীহা, তাও বোঝা গেছে। এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে সবাই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারকদের বেশির ভাগই তা মনে রাখবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0