default-image

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিতে তাঁর উগ্র সমর্থকদের ক্যাপিটল হিল হামলার পর প্রথম মুখ খুললেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক চিঠিতে তিনি এ নিয়ে কথা বলেন। এতে তিনি তাঁর সমালোচকদের যেমন এক হাত নিয়েছেন, তেমনি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই চিঠিতে মেলানিয়া লেখেন, ‘গত সপ্তাহে যা ঘটেছে, তাতে আমি হতাশ; আমার হৃদয় ভেঙে গেছে।’

একটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল হামলার সময় মেলানিয়া একটি ফটোশুটে উপস্থিত ছিলেন। সেই হামলার পর থেকে এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি। তাঁর এ নীরবতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠিতে এই সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে তিনি লেখেন, গণতন্ত্রের ওপর এই অভাবিত আক্রমণের কারণে তিনিও এক ভুক্তভোগীতে পরিণত হয়েছেন।

মেলানিয়া লেখেন, ‘এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্যেও আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ জল্পনা, লাগামহীন ব্যক্তি আক্রমণ এবং ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ করা হয়েছে। এগুলো তারাই করেছে, যারা আলোচনায় থাকতে চায় এবং নিজেদের একটা উদ্দেশ্য আছে। অথচ দেশ ও দেশের মানুষদের শুশ্রূষার এটাই সময়। এই সময়কে ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজে লাগানো উচিত নয়।’

বিজ্ঞাপন
এগুলো তারাই করেছে, যারা আলোচনায় থাকতে চায় এবং নিজেদের একটা উদ্দেশ্য আছে। অথচ দেশ ও দেশের মানুষদের শুশ্রূষার এটাই সময়। এই সময়কে ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজে লাগানো উচিত নয়
মেলানিয়া ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি

৬ জানুয়ারির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মেলানিয়া বলেন, ‘আমাদের ক্যাপিটলে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তাকে আমি নিন্দা জানাই। সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

চিঠিতে ক্যাপিটল হিল হামলার সময় নিহত চার ট্রাম্প-সমর্থক ও ক্যাপিটল পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান মেলানিয়া। তিনি লেখেন, ‘এই মুহূর্তে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা অ্যাশলি ব্যাবিট, বেঞ্জামিন ফিলিপস, কেভিন গ্রিসন, রোসেন বয়ল্যান্ড ও ক্যাপিটল পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান সিকনিক ও হাওয়ার্ড লিবেনগুডকে আমি স্মরণ করছি। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যেন এই কঠিন সময় পাড়ি দেওয়ার শক্তি পান, সেই প্রার্থনা করি।’

হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ক্যাপিটল হিলে হামলার বিভিন্ন ছবি যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে, তখনো মেলানিয়া একটি ফটোশুট দেখায় ব্যস্ত ছিলেন। সেখানে থাকা গণমাধ্যম ও তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা সে সময় তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে অন্তত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে তিনি এমন আহ্বান বহুবার জানিয়েছেন টুইটারের মাধ্যমে। কিন্তু এবার তিনি তা করেননি। পরে ৬ জানুয়ারি রাতেই মেলানিয়ার চিফ অব স্টাফ স্টেফানি গ্রিশাম পদত্যাগ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন