default-image

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের প্রকোপ আবার ভয়াবহভাবে বাড়ছে। অথচ এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়েও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ জো বাইডেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের কাছে কোনো তথ্য সরবরাহের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। তিনি নির্বাচনকে বিতর্কিত করতেই এখনো ব্যস্ত। অথচ এই সময়ে বিশেষত স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট তথ্য বিনিময় করে ভবিষ্যৎ প্রশাসনকে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করাটা ভীষণভাবে জরুরি। তা না হলে শুধু ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণেই বড় মাসুল গুনতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পরবর্তী প্রশাসনকে প্রস্তুতে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের ওপর তাঁর প্রশাসনের ভেতর থেকেই চাপ বাড়ছে। এর বাইরে জো বাইডেন শিবির ও নিরপেক্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার করে ট্রাম্প প্রশাসনকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

সিএনএন জানায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। সামনেই শীত। ভীষণ শঙ্কার এই সময়ে একমাত্র আশার আলো দেখাচ্ছে ভ্যাকসিন। আজ সোমবার মডার্নার তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের উচ্চ কার্যকারিতা ঘোষণা এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় এ ভ্যাকসিনের ঘোষণা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু সব পর্যায়ে এই ভ্যাকসিন পৌঁছাতে সময় লাগবে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে যে, শুধু ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। অথচ গত এক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে এ নিয়ে কিছুই শোনা যায়নি, যখন শুধু এক সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প এখনো তাঁর নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়েই ব্যস্ত আছেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে যে, শুধু ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। অথচ গত এক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে এ নিয়ে কিছুই শোনা যায়নি, যখন শুধু এক সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প এখনো তাঁর নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়েই ব্যস্ত আছেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি গতকাল রোববার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী ২০ জানুয়ারি যারা ক্ষমতায় আসছে, সেই বাইডেন ও তাঁর দলের সঙ্গে এ নিয়ে কাজ শুরু করতে পারলে ভালো হতো। তিনি বলেন, ‘একটা দৌড়ে ব্যাটন হস্তান্তরের মতো একটি বিষয় এটি। আপনি না থেমেই পরেরজনের হাতে ব্যাটনটি দিয়ে যেতে হবে, যাতে সব চলমান থাকে। আপনাকে ছুটে চলতে হবে। আর এটাই হস্তান্তর।’

অথচ এই হস্তান্তরের কিছুই শুরু হয়নি। এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ বাইডেন প্রশাসনের সম্ভাব্য হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ রন ক্লেইন রোববার সংবাদ সম্মেলনে জানান, মহামারি বিষয়ে ড. ফাউসির মতো বর্তমান শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের এ সম্পর্কিত দল কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি এখনো। ডোনাল্ড ট্রাম্প বাইডেনের জয় স্বীকার না করায় নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় এটা সম্ভব হয়নি। একটি চলমান সংকটের মধ্যেই জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। ফলে এটি নিরবচ্ছিন্ন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে থাকা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমাদের বিশেষজ্ঞদের কথা বলাটা খুবই জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন নিয়ে এসেছে, তাদের সঙ্গে প্রশাসনিক পন্থাতেই আলোচনা হওয়া জরুরি।’

default-image

কিন্তু এই মুহূর্তে যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশি ঘনিষ্ঠ ও সেই সূত্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত, সেই ড. স্কট অ্যাটলাসের বক্তব্যে পাওয়া যাচ্ছে ভিন্ন সুর। গতকাল রোববার তিনি টুইটে লেখেন, ‘মিশিগানের জনগণের উচিত কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।’ স্পষ্টতই স্কট অ্যাটলাস মহামারির মতো এমন এক সংকট মোকাবিলায় দ্বিদলীয় ঐক্য চান না।

অ্যান্থনি ফাউসির অবস্থান সুস্পষ্টভাবেই স্কট অ্যাটলাসের বিপরীত। এ ক্ষেত্রে ফাউসি একা নন। আলোচনা শুরুর জন্য একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছেন করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত উদ্যোগের প্রধান মনসেফ স্লাউই। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাইডেনের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি। কিন্তু হোয়াইট হাউসের অনুমতি ছাড়া এটা তিনি করতে পারছেন না।

এদিকে বাইডেন শিবির থেকেও এ বিষয়ে বারবার চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর জন্য বলার পাশাপাশি তারা এমন স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতিতে এই অচলাবস্থা চললে তার জের অনেক ভয়াবহ হবে বলেও হুঁশিয়ার করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতি অনেকটা সন্ত্রাসী হামলা বা যুদ্ধের মতো। এমন পরিস্থিতিতে খুবই নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন
ড. সেলিন গাউন্ডার, বাইডেনের উপদেষ্টা

এ বিষয়ে বাইডেনের উপদেষ্টা ড. সেলিন গাউন্ডার সিএনএনকে বলেন, ‘পরিস্থিতি অনেকটা সন্ত্রাসী হামলা বা যুদ্ধের মতো। এমন পরিস্থিতিতে খুবই নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন। কোনো ছেদ পড়া যাবে না। আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছাড়া আমরা এমন কোনো গহ্বরে পড়ে যেতে পারি, যা পুরো জাতিকে বিপদে ফেলবে।’

আরেক উপদেষ্টা ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মাইকেল অস্টারহোম বলেন, ‘নতুন প্রশাসন জানুয়ারিতে আসবে। তার আগেই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া জরুরি। আমরা আশা করি খুব শিগগিরই তাদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করতে পারব। আগামী মাসে সংক্রমণ ব্যাপক বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় দেরি করাটা আত্মঘাতী হবে।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মনে করছেন বেলর কলেজ অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ড. পিটার হোটজ। সিএনএনকে তিনি বলেন, এখনই পদক্ষেপ না নিলে আগামী জানুয়ারি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আড়াই হাজারে পৌঁছাতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান মানবিক বিপর্যয়কে আরও বাজে জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিকভাবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি সুন্দর ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই সত্য যে, এবারই এটি সম্ভবত হচ্ছে না। এর জন্য বড় মাসুল দিতে হবে।’

মন্তব্য পড়ুন 0