default-image

একেবারে শেষ সময়ে এসে ক্ষমতা থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। ক্ষমতা থেকে প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য অপসারণের বিষয়ে এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক মার্কিনের মধ্যে এক ধরনের সম্মতি তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে রিপাবলিকানরা এখনো আগের অবস্থানেই আছেন।

গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল হামলার পর পরিচালিত বিভিন্ন জরিপের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, মার্কিনদের সংখ্যাগরিষ্ঠই এখন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপসারণ চায়। অথচ আগামী ২০ জানুয়ারির পর ট্রাম্প এমনিতেই আর ক্ষমতায় থাকছেন না। ওই দিন নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জো বাইডেনের। কিন্তু এতেও আর সন্তুষ্ট নয় অধিকাংশ মার্কিন।

১০ জানুয়ারি এবিসি নিউজ/ইপসস পরিচালিত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ শতাংশই চান, ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হোক। আর এ ধরনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ৪৩ শতাংশ।

শুধু তাই নয়। ৬ জানুয়ারির পর থেকে অন্যান্য জরিপেও কাছাকাছি ফল উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫০ শতাংশই হয় অভিশংসন, নয় তো সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে ট্রাম্পের অপসারণ কিংবা তাঁর স্বেচ্ছা পদত্যাগ দেখতে চান। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ বলছেন, এ ধরনের কিছু হওয়া উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ শতাংশই চান, ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হোক। আর এ ধরনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ৪৩ শতাংশ

গত ৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উসকানিতে তাঁর উগ্র সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে হামলা করে। এর পর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ট্রাম্পকে অপসারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর প্রয়োগ ঘটিয়ে ক্ষমতা থেকে ট্রাম্পকে অপসারণের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, এ বিষয়ে পেন্স আজ সোমবারের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে ডেমোক্রেটিক দল ট্রাম্পকে অপসারণে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করবে।

২০১৯ সালে যখন ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত শুরু করে, তখন বিষয়টি এতটা জনপ্রিয় হয়নি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যখন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি অভিশংসন তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন, তখন ট্রাম্পের ক্ষমতা থেকে অপসারণের পক্ষে ৪০ শতাংশ জনমত ছিল। ইলেকটোরেটদের প্রায় অর্ধেকই এর বিরুদ্ধে ছিলেন। কিন্তু এবার বিষয়টি একেবারে আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসেই এমন নজির নেই, যেখানে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই তার পক্ষে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ মত দিয়েছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ক্ষেত্রে এই হার কখনোই ৪০ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ক্ষেত্রেও এ হার ৪০ শতাংশের আশপাশেই ছিল।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ক্ষমতা থেকে ট্রাম্পকে অপসারণের পক্ষে এত বেশি মানুষের অবস্থান নেওয়াটা নতুন কিছু। কিন্তু এটি কোনোভাবেই অভিশংসন প্রক্রিয়া সফল হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। এবারও হয়তো প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্প অভিশংসিত হবেন। কিন্তু আগের মতোই এটি সিনেটে আটকে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন