default-image

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার আগাম ভোট বা ডাক ভোট বাড়বে, সেই আভাস আগেই দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তবিক অর্থেও তাই ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে তথ্য সরবরাহকারী ইউ এস ইলেকশন প্রজেক্টের তথ্য অনুসারে, ইতিমধ্যে এক কোটির বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনের তুলনায় এ বছর বেশি ভোটার ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

এবারের নির্বাচনের প্রচারের শুরু থেকেই ডাক ভোট নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা ও সন্দেহ তৈরি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ডাক ভোটের কারণে ব্যাপক আকারে কারচুপি হতে পারে। যদিও এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর সমর্থকদের মধ্যেও এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাই করোনার মহামারির কারণে আগাম ও ডাক ভোট দেওয়ার প্রবণতা ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার তথ্য অনুসারে, গত সোমবার রাত পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ভোটার ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই ভোটের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ। অর্থাৎ এবার কয়েক গুণ বেশি পড়েছে ডাক ও আগাম ভোট।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকশন প্রজেক্টের তথ্য অনুসারে, ২০১৬ সালের মিনেসোটা, সাউথ ডাকোটা, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া ও উইসকনসিনে যে পরিমাণ ভোট পড়েছিল, তার ২০ শতাংশ ভোট ইতিমধ্যে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট রিপাবলিকানদের পকেটে রয়েছে। আর ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়া রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের পকেটে। ইলেকটোরাল কলেজে মিনেসোটা ও উইসকনসিনে জয়ের সম্ভাবনা বেশি ডেমোক্র্যাটদের। সিএনএনের ওই প্রতিবেদনের হিসাবে, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইটা হবে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যে। এই অঙ্গরাজ্যগুলোয় জয়ের লক্ষ্যে প্রচার শুরু করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। করোনা থেকে সেরে ওঠার ঘোষণা দেওয়ার আগেই ফ্লোরিডায় প্রচারে যান ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার স্যানফোর্ডে গত সোমবার একটি নির্বাচনী প্রচার সভায় অংশ নেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘তাঁরা এখন বলতে পারেন, আমার শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিজেকে শক্তিশালী মনে হচ্ছে আমার।’

এই সমাবেশ থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। তাঁকে ‘স্লিপি বাইডেন’ বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া জনমত জরিপেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘চার বছর আগেও এখানে একই পরিস্থিতি ছিল। তারা বলেছিল, আমরা ফ্লোরিডায় হারতে চলেছি। নির্বাচনের আর ২২ দিন বাকি আছে। আমরা এই অঙ্গরাজ্যে জিততে চলেছি।’

ট্রাম্পের সমাবেশে সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই ছিল না। তাঁর অধিকাংশ সমর্থকের মুখে মাস্ক ছিল না। যদিও বাইডেনের প্রচারণায় এর উল্টোটা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। তিনি সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে জনসমাগমও কম রাখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প করোনা নেগেটিভ

শেষমেশ করোনার নমুনা পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ এসেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক শন কোনলি এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি এমন সময়ে এই ঘোষণা দেন, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিতে ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। করোনায় সংক্রমিত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো জনাকীর্ণ নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়েছেন তিনি। যদিও করোনায় আক্রান্ত থাকার সময়কালেও হোয়াইট হাউসে তিনি সভায় অংশ নিয়েছেন।

এদিকে কোনলি জানিয়েছেন, পরপর কয়েক দিনের পরীক্ষায় ট্রাম্পের করোনা নেগেটিভ এসেছে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ করোনা পরীক্ষা কবে হয়েছে, তা উল্লেখ করেননি তিনি। যদিও তিনি বলেন, ট্রাম্পের মাধ্যমে অন্যের আর করোনা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নেই।

‘মহামারি ঠেকাতে কিছু করেননি ট্রাম্প’

নির্বাচনী প্রচারে এখনো করোনার মহামারিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন জো বাইডেন। এমনকি ট্রাম্প করোনামুক্ত হওয়ার পরও এই অস্ত্রই ব্যবহার করছেন তিনি। ওহাইওতে এক সভায় তিনি বলেন, ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। ট্রাম্প নিজেও জানেন, এটা কত ভয়ংকর। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বাইডেন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ট্রাম্প কেন এই মহামারির ভয়াবহতা সম্পর্কে আমাদের জানাননি? কেন তিনি আমাদের সতর্ক করেননি?’ তিনি বলেন, করোনা সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া আচরণ করছেন ট্রাম্প। তিনি আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আরও বেপরোয়া হবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মন্তব্য পড়ুন 0