কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের উদ্দীপ্ত করার চেষ্টায় ডেমোক্র্যাটরা

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক জীবনের মতোই রাজনীতিতেও জনগণ বিভক্ত নানা দলে। নানা জাতিগোষ্ঠীর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে প্রধান বিভক্তি শ্বেতাঙ্গ আর কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয়ে। মোটা দাগের এ বিভক্তিতে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রিপাবলিকানদের প্রভাব বেশি। আর কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক দলের অবস্থান অনেকটা ঐতিহাসিক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল সমর্থকেরা শ্বেতাঙ্গ। ডেমোক্র্যাটদের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের পক্ষে অবস্থান জোরালো। যদিও আসছে নির্বাচনে এ জোরালো সমর্থনের কারণেই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন জয়ী হতে পারেন, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই।

জনমত পক্ষে থাকলেও ভোটকেন্দ্রে তাঁদের উপস্থিতিই জয় পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনের সময় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছিল। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন কৃষ্ণাঙ্গের নির্বাচন সম্ভব হয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উদ্দীপনার কারণেই। ভোট বিমুখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বারাক ওবামার নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ঐতিহাসিক। যা ২০১৬ সালে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। হিলারির নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য এটাকেও একটা কারণ মনে করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ব্যাপক হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।

এবারের নির্বাচন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একই সংশয় কাজ করছে। এ নিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। নিজেকে কৃষ্ণাঙ্গ ঘোষিত সিনেটর কমলা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। নারীদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাবমূর্তির বিবেচনাও কাজ করে কমলা হ্যারিসের মনোয়নের বেলায়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
উইসকনসিন, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় এবারের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বৃদ্ধি করতেই হবে
সামাজিক জোট ব্ল্যাকপ্যাকের নেতা এড্রিন সর্পশায়ার

সিনেটর হিসেবে কমলা হ্যারিস কৃষ্ণাঙ্গদের আস্থার আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। যদিও কৃষ্ণাঙ্গ যুব-তরুণদের মধ্যে কমলা হ্যারিসও ততটা জনপ্রিয় নন। ওবামা পরবর্তী ডেমোক্রেটিক দলের রাজনীতিতে কৃষ্ণাঙ্গ যুব-তরুণদের বার্নি স্যান্ডার্সের পেছনে দেখা গেছে। উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস নিয়ে এ কৃষ্ণাঙ্গ যুব-তরুণেরা বার্নি স্যান্ডার্সের পেছনে থাকলেও প্রাইমারি নির্বাচনের ফল তাঁদের পক্ষে যায়নি।

ডেমোক্রেটিক দলের বনেদি শ্বেতাঙ্গদের পছন্দের প্রার্থী জো বাইডেনই মনোনয়ন পেয়েছেন। উদারনৈতিক দলটি ডেমোক্রেটিক দলের বনেদি পক্ষকে ‘ডেমোক্রেট মেশিন’ বলে উল্লেখ করে থাকে।

‘ব্ল্যাকপ্যাক’ নামের একটি সামাজিক জোটের নেতা এড্রিন সর্পশায়ার বলেছেন, ২০১৬ সালে সুইং স্টেট বলে পরিচিত রাজ্যগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কম হয়েছে। উইসকনসিন, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় এবারের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বৃদ্ধি করতেই হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন গত সপ্তাহে উইসকনসিন সফর করেছেন। তিনি সেখানে পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ জ্যাকব ব্ল্যাকের পরিবার ও কৃষ্ণাঙ্গ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। একই সময়ে ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের লক্ষ্য করে টিভি প্রচারণা চালানো হয়।

একই সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস মিশিগানের কৃষ্ণাঙ্গ নারী ভোটারদের সঙ্গে সভা করেছেন। ভার্চ্যুয়াল সভায় বেশ কয়েকটি কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জোটের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

মিশিগান ভিত্তিক ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ এড্রিন হ্যামোন্ড বলেছেন, ২০১৬ সালে মিশিগানে এক লাখ কৃষ্ণাঙ্গ ভোট কম পড়েছে। এবারের নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক দল আলাদা করে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কাছে যাওয়াটা প্রচারণার জন্য কার্যকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জো বাইডেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কাছে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে জনপ্রিয়। ‘ইউ গভ’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ ভোটার জো বাইডেনকে সমর্থন করেন। যদিও ২০১৬ সালে হিলারির পক্ষে কৃষ্ণাঙ্গদের সমর্থন ছিল ৮৮ শতাংশ।

জো বাইডেন কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে নিজের ভিত্তি বাড়ানোর জন্য সরাসরি তাঁদের লক্ষ্য করে বক্তৃতা দিচ্ছেন। পেনসিলভানিয়ায় দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, কেন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের ঘুম থেকে উঠেই জানতে হবে তাঁদের জীবন বিপন্ন। বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণ বিদ্বেষ ও পুলিশের সহিংসতা নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এ কথা বলছেন।

একইভাবে কমলা হ্যারিস বলেছেন, স্বাধীনতা মানে নিষ্ঠুরতা, অবিচারসহ বর্ণবাদমুক্ত হওয়ার কথা। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতি এখন অনুপস্থিত।

‘ইউ গভ’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ ভোটার জো বাইডেনকে সমর্থন করেন। যদিও ২০১৬ সালে হিলারির পক্ষে কৃষ্ণাঙ্গদের সমর্থন ছিল ৮৮ শতাংশ
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

জো বাইডেন ৪৭ বছর থেকে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে। আইনপ্রণেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ আইনের সংস্কার নিয়ে তাঁকে ডেমোক্রেটিক দলের উদারনৈতিক পক্ষের সমালোচনায় পড়তে হয়েছে। অপরদিকে কমলা হ্যারিস ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে উদারনৈতিকদের অবস্থানের কাছাকাছি ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং ৫৭ বছর আগে তাঁর ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ বক্তৃতা দিয়েছিলেন। এ বক্তৃতার বর্ষপূর্তিতে এবারে ভার্চ্যুয়াল বক্তৃতায় যোগ দেন কমলা হ্যারিস। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ২০০০ সালের চলমান বর্ণবৈষম্যের কারণে ইতিহাসের নাগরিক আন্দোলনের নেতারাও ক্ষুব্ধ হতেন। তিনি সব অবিচার, অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য কৃষ্ণাঙ্গ নেতাদের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর কোনো বক্তব্যেই যুক্তরাষ্ট্রে যে বর্ণবিদ্বেষ বিরাজ করছে, তা বলেননি। তিনি শুধু বলছেন, কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য তিনি অনেক কাজ করে যাচ্ছেন।

জো বাইডেন পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, নির্বাচনে জয় পরাজয় যাই হোক যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবিদ্বেষের অবসান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়ে যাবেন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের বেশি বেশি উদ্দীপ্ত করতে মরিয়া এখন ডেমোক্রেটিক দল। এ কাজে কমলা হ্যারিসকে সামনের কাতারে দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি। সাম্প্রতিক নাগরিক আন্দোলনে ডেমোক্রেটিক দলের কমলা হ্যারিসই স্পষ্টত অবস্থান গ্রহণ করেন কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলনকারীদের পক্ষে। তাঁকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের অতি উদারনৈতিক কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কতটা উদ্দীপ্ত করা যাবে, কতটা ভোট কেন্দ্রমুখী করা যাবে—তাঁর ওপর অনেকটা নির্ভর করছে জো বাইডেনের নির্বাচনে জয় পরাজয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন