default-image

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তৃতীয় নাগরিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের এই প্যাকেজে বেকারভাতা, করোনায় গৃহহীন হওয়া মানুষদের জন্য সহায়তা ও খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে মার্কিন সরকার ৩ লাখ কোটি ডলারের প্রথম নাগরিক প্রণোদনা প্যাকেজটি ঘোষণা করে গত বছরের মার্চে। এর পর গত বছরের ডিসেম্বরে ৯০ হাজার কোটি ডলারের দ্বিতীয় প্যাকেজটি ঘোষণা করা হয়। এবার বাইডেন যে প্যাকেজটি ঘোষণা করলেন, তাতে আগের দুই প্যাকেজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেওয়া সরকারি সহায়তার পরিসর ও পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আগের দুবার ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর কথা বলা হলেও সে প্রস্তাব রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে আটকে যায়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, প্রেসিডেন্সির পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুইই এখন ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে।

‘আমেরিকান রেসকিউ প্ল্যান’ শীর্ষক এই তৃতীয় নাগরিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার সময় বাইডেন বলেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সবকিছুকে খুব দ্রুত বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বর্তমানে বেকারভাতা হিসেবে সপ্তাহে ৩০০ ডলার করে দেওয়া হয়। জো বাইডেনের প্রস্তাবে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৪০০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এই বেকারভাতার পরিসরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে

প্রস্তাবিত এই তৃতীয় প্রণোদনা প্যাকেজে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মোট ২ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ডিসেম্বরে পাস হওয়া দ্বিতীয় প্যাকেজে দেওয়া হয়েছিল ৬০০ ডলার করে। এই ব্যক্তিদের আরও ১৪০০ ডলারের সহায়তা দিয়ে মোট সহায়তার পরিমাণ ২ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। যেসব পরিবারের সদস্যদের মধ্য অবৈধ অভিবাসী রয়েছে, তারাও এই আর্থিক সহায়তা পাবে। শুধু প্রথম প্রণোদনাতেই এ ধরনের ব্যক্তিদের সহায়তা দিয়েছিল মার্কিন ফেডারেল সরকার।

বর্তমানে বেকারভাতা হিসেবে সপ্তাহে ৩০০ ডলার করে দেওয়া হয়। জো বাইডেনের প্রস্তাবে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৪০০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এই বেকারভাতার পরিসরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। দ্বিতীয় প্রণোদনা প্যাকেজে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের মাত্র ১১ সপ্তাহের সহায়তা দেওয়ার মতো তহবিল পাস করা হয়, যা আগামী মার্চেই শেষ হয়ে যাবে। ফলে একটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল কাজ হারানো মানুষদের। বাইডেনের প্রস্তাব নিঃসন্দেহে তাদের আশ্বস্ত করবে। এ ছাড়া ঘণ্টাপ্রতি মজুরি হার ১৫ ডলারে উন্নীত করতে কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেন।

সিএনএন জানায়, প্রস্তাবে মহামারির সময়ে কাজ হারানো নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোকে বাড়িভাড়ায় সহায়তা দিতে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল রাখার কথা বলা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে দ্বিতীয় প্রণোদনায় ঘোষিত আড়াই হাজার কোটি ডলারের তহবিলের সঙ্গে এটি যোগ হবে। এর বাইরে বাড়ির বিপদগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ বাবদ ৫০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এমন পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য উদ্যোগ নিতে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দিতে আরও ৫০০ কোটি ডলার রাখার কথাও বলেছেন বাইডেন। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকা পরিবারগুলোকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্ছেদ না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে এই নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনগুলোর কর্মীবাহিনীকে কাজে বহাল রাখা, টিকা বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা, করোনা পরীক্ষার পরিসর বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা চালু রাখতে আর্থিক সহায়তা বাবদ ৩৫ হাজার কোটি ডলারের তহবিলের প্রস্তাব করা হয়েছে

বাইডেনের প্রস্তাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাদ্য সহায়তার পরিসর বাড়ানো এবং এর পরিমাণ ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ফুড স্ট্যাম্প প্রকল্পের আওতায় চলমান এ প্রকল্প আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া নারী, সদ্যোজাত ও শিশুদের খাদ্য সহায়তা বাবদ আরও ৩০০ কোটি ডলারের তহবিল রাখার কথা বলেছেন বাইডেন। একই সঙ্গে খাদ্য সহায়তার কাজে বিভিন্ন রেস্তোরাঁকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই রেস্তোরাঁগুলো সে ক্ষেত্রে তাদের ছাঁটাই করা কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে নেবে।

শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তার জন্য বাড়তি আড়াই হাজার কোটি এবং আগের পরিকল্পনায় ঘোষিত তহবিলের সঙ্গে আরও দেড় হাজার কোটি ডলার যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে পরিকল্পনায়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে ভর্তুকি, জরুরি ক্ষেত্রে সবেতন ছুটি পুনর্বহালসহ বেশ কিছু বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব রেখেছেন বাইডেন। ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় দেড় হাজার কোটি ডলারের নতুন একটি তহবিল সৃষ্টির কথা বলেছেন তিনি। একই লক্ষ্যে বিদ্যমান পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে এটি। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের এলাকাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগের জন্য সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল রাখার কথা বলা হয়েছে। অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনগুলোর কর্মীবাহিনীকে কাজে বহাল রাখা, টিকা বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা, করোনা পরীক্ষার পরিসর বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা চালু রাখতে আর্থিক সহায়তা বাবদ ৩৫ হাজার কোটি ডলারের তহবিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন