default-image

করোনাভাইরাসে তাঁর আমলে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর খামখেয়ালির কারণে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। তবু করোনা মোকাবিলায় নিজেকেই কৃতিত্ব দিতে চান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানেনও না, করোনার টিকায় কী ঘটছে চারদিকে। এমনকি নিজে যে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই টিকা নিয়েছেন, এমন কথাই মনে রাখতে পারছেন না। বাইডেন প্রশাসনকে টিকার জন্য কোনো কৃতিত্ব দেওয়ার নেই। তারা টিকা নিয়ে কিছুই করেনি। বরং তিনি যা করেছেন, তাই অনুসরণ করছে এই প্রশাসন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে রক্ষণশীলদের সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কথা বলেছেন। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম সমাবেশে তিনি বাইডেন প্রশাসনকে তাঁর স্বভাবজাত বেপরোয়া আক্রমণ করেছেন। বলেছেন, নতুন প্রশাসন কিছুই করেনি। তাঁর করে যাওয়া পরিকল্পনা অনুসরণ করে চলেছে।

২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করা প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসন এখনো ৪০ দিন অতিক্রম করেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সৎ সংবাদমাধ্যম নেই। সৎ সংবাদমাধ্যম থাকলে এসবই খবরে আসার কথা ছিল। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সিএনএনকে বলেছেন, তিনি যখন হোয়াইট হাউসে আসেন তখন কোথাও কোনো টিকা নেই। কথাটি উল্লেখ করে ট্রাম্প বিদ্রূপের সঙ্গে বলেন, জো আবার কথাটি বলেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে জো বাইডেন টিকা নিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজের কৃতিত্বের জানান দিচ্ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ সংক্রমণের তাণ্ডব শুরু হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই কোভিড-১৯ নিয়ে নানা বিদ্রুপাত্মক কথাবার্তা বলা শুরু করেন। স্বাস্থ্যসেবীরা মাস্ক ব্যবহারের ওপরে শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসলেও ট্রাম্প এসবে কানই দেননি। তিনি সভা করেছেন মাস্ক ছাড়া। হোয়াইট হাউসে সমাবেশ করেছেন মাস্ক ও স্বাস্থ্য সতর্কতার সব নির্দেশ উপেক্ষা করে।

প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নিজের প্রশাসনের স্বাস্থ্যসেবীদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। কোভিড-১৯–কে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারিতাকে দায়ী করে থাকেন স্বাস্থ্যসেবীরা। সরাসরি টিভি সাক্ষাৎকারে কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য ডিটারজেন্ট দিয়ে ফুসফুস পরিষ্কার করার ধারণার কথাও বলেছিলেন তিনি। মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করে নিজে সংক্রমিত হয়েছেন। অন্যদেরও সংক্রমিত করেছিলেন ট্রাম্প।

নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকার অনুমোদনের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে থাকেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে টিকার অনুমোদন দেওয়ার জন্য নানা চেষ্টা চালান ট্রাম্প। তাঁর সেই প্রয়াস ব্যর্থ হয়। মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিয়ম অনুসরণ করেই যখন টিকার অনুমোদন দেয়, তখন নির্বাচনে হেরে ভিন্ন সব ফন্দিতে মেতে ওঠেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের সমর্থকেরা এখনো মনে করেন, নির্বাচনের আগে টিকা নিশ্চিত করতে পারলে তাঁর আরও বেশি ভোট পাওয়ার সুযোগ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র এখন ব্যাপকভাবে টিকা দেওয়া হচ্ছে। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে করোনা মোকাবিলা ও টিকাদান কর্মসূচিকে তাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা করেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাইডেন প্রশাসনের এই প্রয়াসকে নিজের করে যাওয়া পরিকল্পনা বলেই উল্লেখ করতে এখন স্বচ্ছন্দবোধ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন