default-image

যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও করোনার সংক্রমণ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে এই করোনার সংক্রমণ রোধ, সংক্রমিত ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি ও এ থেকে মৃত্যুর হার কমাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা বলেছেন দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি।

৩ এপ্রিল সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, করোনা রোধে দুটি বিষয় অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। এর একটি হলো যেকোনোভাবেই হোক, মানুষকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও চলাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আরেকটি হলো যত দ্রুত সম্ভব দেশের বেশি বেশি জনগণকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, করোনার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র খুবই ভালো করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪০ লাখের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। যা দেশটিতে একদিনে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কোভিড-১৯ ডেটা ডিরেক্টর সাইরাস শাহপার ৩ এপ্রিল এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, করোনার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশে একদিনে রেকর্ড হয়েছে। গতকাল একদিনে দেশে ৪০ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহেও প্রতিদিন গড়ে ৩০ লাখের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আমাদের এই টিকাদান কর্মসূচিতে লাখো মানুষ একত্রিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে সিডিসি বলছে, একদিনে রেকর্ড পরিমাণ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরও করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে তা যথেষ্ট নয় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এখন পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ আমেরিকান এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। আর মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ করোনার পুরো দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। এ কারণই বিশেষজ্ঞরা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, ‘এই কথা আমাদের বারবার বলতে যে, আমরা এখনো এই মহামারি থেকে বের হতে পারিনি। আমাদের স্থানীয় জনগণ, গভর্নর ও মেয়রসহ অন্যদেরও এই কথা প্রচার করতে হবে। এ কথা শুনলে মানুষ জানতে চায়, আমরা তাঁদের সারা জীবনের জন্য ঘরে আটকে রাখতে চাই। কিন্তু না, এটা আর সারা জীবনের জন্য নয়। কারণ, প্রতিদিন আমরা ৩০-৪০ লাখ মানুষকে টিকা দিয়ে দিচ্ছি। আর প্রতিনিয়ত আমরা করোনাকে নিয়ন্ত্রণের খুব কাছে চলে আসছি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিছু রাজ্যে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। এক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার এই ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের কাছাকাছি মানুষ মারা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন