default-image

করোনাভাইরাসে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের ২৭ তারিখের মধ্যে এই সংখ্যা ৫ লাখ ৩৪ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত হয়ে বর্তমানে মৃত্যুর যে হার, এই অবস্থা চললে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মৃতের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৪ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে সিডিসি পূর্বাভাস দিয়েছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র করোনায় প্রথম মৃত্যু গুনেছে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এই সংখ্যা এক বছর না গড়াতেই চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪ লাখ ৫০ হাজার ৬৮১ জনে পৌঁছেছে। আর ৩ ফেব্রুয়ারি সিডিসি পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি মাসে মৃত্যুর সংখ্যা আরও ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্থনি ফাউসি ৩ ফেব্রুয়ারি বলেছেন, ‘করোনার নতুন ধরন প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সবাইকে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা। তবে দেশে এই মুহূর্তে ওই হারে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। তবে আমরা ভালো করছি।’

বিজ্ঞাপন
করোনার নতুন ধরন প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সবাইকে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা। তবে দেশে এই মুহূর্তে ওই হারে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। তবে আমরা ভালো করছি
অ্যান্থনি ফাউসি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক

নিউইয়র্ক নগরের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জয় ভার্মা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনার কতটি ধরন আছে এবং সেগুলো কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তা এই মুহূর্তে শনাক্ত করাটা কঠিন। এটার জন্য জেনেটিক সিকোয়েন্স করতে হয়। আমার মনে হয়, সবচেয়ে নিরাপদ হলো, দেশে করোনার নতুন ধরন অনেক ছড়িয়ে ধরে নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

বার্মিংহামের আলাবামা ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এইডস রিসার্চের কর্মকর্তা রিকার্ডো ফ্রাঙ্কো বলেন, করোনার টিকাদানের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে হবে। তবে টিকা চলে এসেছে বলে এখনই মাস্ক ছাড়ার সময় আসেনি। মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে।

খুব শিগগির আরও দুটি টিকা চলে আসবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ ফেব্রুয়ারি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর করোনার যেসব উপসর্গ রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে টিকাটি ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ কার্যকর। এ ছাড়া এই টিকা নেওয়ার পর সংক্রমিত ব্যক্তি আর তা ছড়াতে পারেন না।

এ বিষয়ে অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, যদি এই টিকা নিলে আর সংক্রমণ না ছড়ায়, তাহলে সেটা খুবই ভালো সংবাদ।

চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সাময়িকী দ্য ল্যানসেটের প্রধান সম্পাদক রিচার্ড হর্টন বলেন, তথ্য বলছে, এই টিকাটি দুই-তৃতীয়াংশ সংক্রমণ কমাতে সক্ষম। আর সত্য হলে, খুবই ভালো হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে টিকা নেওয়ায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন শ্বেতাঙ্গরা। টিকাদানের ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ থাকার পরও কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী টিকা গ্রহণে পিছিয়ে থাকা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি রাজ্যে টিকা গ্রহণের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে একাধিক মার্কিন সংবাদপত্র। ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেওয়া করোনা টিকার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য গাত্রবর্ণের লোকজনের টিকা গ্রহণ আশঙ্কাজনকভাবে কম। এমন অবস্থা চলতে থাকলে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ দুরূহ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যেই নয়, কৃষ্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকর্মীসহ করোনাকালের সম্মুখসারির কর্মীদের মধ্যে যাঁরা টিকা প্রাপ্তির অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছেন, তাঁদেরও এটি গ্রহণের হার শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কম। উদাহরণ হিসেবে, নর্থ ক্যারোলাইনার জনগোষ্ঠীর ২২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। আর রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীর ২৬ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। অথচ রাজ্যের মাত্র ১১ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ টিকা নিয়েছেন। বিপরীতে রাজ্যের ৬৮ শতাংশ হিসপ্যানিক ও নন-হিসপ্যানিক শ্বেতাঙ্গদের ৮২ শতাংশই টিকা গ্রহণ করেছেন।

ভিন্ন একটি কারণেও এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ ঊর্ধ্ব অধিকাংশ মানুষ শ্বেতাঙ্গ। ফলে প্রথম দফার টিকা কর্মসূচিতে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এটি গ্রহণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে টিকা প্রদানে বিভিন্ন রাজ্যে বয়স্ক মানুষ ছাড়াও সম্মুখসারির কর্মীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন