default-image

যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন স্ট্রেইন আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সিডিসি এ হুঁশিয়ারি দেয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন আগেরটির চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে মনে করছে সিডিসি।

সিডিসির এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনটির নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.১.৭। নতুন এই স্ট্রেইনে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার কেমন, সে সম্পর্কিত তথ্য ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়েছে সিডিসি, যা এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত এ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি ভাইরাসটির অন্য স্ট্রেইনগুলোর চেয়ে ভয়াবহ। অন্যগুলোর চেয়ে এই স্ট্রেইনে আক্রান্তদের মৃত্যুহার বেশি হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন এই স্ট্রেইন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আগেরগুলোর চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী বলে এরই মধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, নতুন এই স্ট্রেইন আগেরগুলোর চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী বলে এরই মধ্যে কিছু প্রমাণ হাতে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
বিদ্যমান করোনা টিকাগুলো নতুন এই স্ট্রেইন থেকেও সুরক্ষা দিতে পারবে বলে মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে এর বিস্তার ঠেকাতে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলো মনে চলতে হবে

সিডিসি এরই মধ্যে হুঁশিয়ার করে বলেছে, যুক্তরাজ্যে পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন এই স্ট্রেইন এত দ্রুত ছড়াচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মার্চ নাগাদ এটিই মুখ্য হয়ে উঠবে। অন্যগুলোর চেয়ে এই স্ট্রেইন দ্বারাই মানুষ বেশি আক্রান্ত হবে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এ স্ট্রেইনে আক্রান্ত ১৯৫ জনকে শনাক্ত করা গেছে। জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, শনাক্তের বাইরে আরও অনেকেই রয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের যে ২২ অঙ্গরাজ্যে নতুন এই স্ট্রেইন ছড়িয়েছে, তার মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ দুই অঙ্গরাজ্যেই তুলনামূলক বেশি লোক এর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান করোনা টিকাগুলো নতুন এই স্ট্রেইন থেকেও সুরক্ষা দিতে পারবে বলে মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে এর বিস্তার ঠেকাতে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলো মনে চলতে হবে।

এ বিষয়ে মহামারি বিশেষজ্ঞ ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের করোনাভাইরাস ট্রানজিশন টিমের সদস্য মাইকেল অস্টারহোম সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে জনপরিসরে প্রকাশ করা হয়নি এমন তথ্যগুলোও পর্যালোচনা করেছেন। নতুন এই স্ট্রেইন আগেরগুলোর চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী বলেই তাঁর কাছে মনে হচ্ছে। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির এই পরিচালক বলেন, ‘এ বিষয়ে একের পর এক তথ্য আসছে, যার কিছু কিছু এখন প্রকাশ সম্ভব নয়। এগুলো বলছে, বি.১.১.৭ স্ট্রেইনটি আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভীষণ অসুস্থ করে ফেলছে, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে আমরা জেনেছি যে, এর সংক্রমণ বাড়ছে। এটা আমাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ।’

সিডিসির এক উপদেষ্টা বলেছেন, নতুন এই স্ট্রেইনে সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে দেখা দেওয়া অসুস্থতার সঙ্গে অন্যান্য স্ট্রেইনে আক্রান্তদের অসুস্থতার ধরনে কী পার্থক্য রয়েছে, তা মার্কিন চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখতে পারলে খুব ভালো হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় প্রযুক্তি বাধা রয়েছে।

এ বিষয়ে ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম শ্যাফনার সিএনএনকে বলেন, এই তুলনামূলক পর্যবেক্ষণের জন্য পরীক্ষাগারে সংক্রামক অণুজীবটির জিনোম সিকোয়েন্সিং করার প্রয়োজন পড়বে, যার সুযোগ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে নেই। সিডিসির এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশ বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে এটি করা বেশ কঠিন হবে। অন্য দেশগুলোর জন্য বরং এটি সহজ হবে। কারণ, সেখানে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার আমাদের মতো নয়।’

এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সক্ষমতা যে কারও চেয়ে বেশি। গোটা বিশ্বে তাদের এই প্রাযুক্তিক সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। এরই মধ্যে তারা যেসব গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে নতুন এই স্ট্রেইন আগেরগুলোর চেয়ে কোনো কোনো দিক থেকে আলাদা, তার একটা ধারণা পাওয়া যায়।

যুক্তরাজ্যের প্রধান বিজ্ঞান উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালেন্স গত শুক্রবার এ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের সময় বলেছেন, ‘ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ট্রেইনগুলোয় আক্রান্ত প্রতি হাজারে মৃত্যুর আশঙ্কা ১০ জনের। নতুন স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা হাজারে ১৩ থেকে ১৪ জন। অন্য বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেও মৃত্যু ঝুঁকি প্রায় একই হারে বাড়ে।’

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন