default-image

কোভিড-১৯ চিকিৎসায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে জীবাণুনাশক প্রবেশ করানোর দাওয়াই দেওয়ার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেমন ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছেন। আগের মতো আর তেমন কথা বলছেন না। গত শুক্রবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে খুব দ্রুত সব সেরে বিদায় নিলেন। সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্নও নিলেন না। এ অবস্থায় বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্টের ভুলভাল বক্তব্য থেকে প্রশাসনকে বাঁচাতেই সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলার এই নীতি নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি শুরু হয় শুক্রবার। ওই দিনই জীবাণুনাশক ও কোভিড-১৯ সম্পর্কিত যুগান্তকারী উক্তিটি করেন তিনি। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দিনের বাকি অংশ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের গণমাধ্যম এই এক জিনিসেই মশগুল ছিল। এ অবস্থায় রাতে যখন তিনি নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এলেন, তখন তিনি যেকোনোভাবে সময়টি পার করতে চাইলেন। কারণ, তিনি জানতেন যে, সাংবাদিকেরা আজ কোনো সহজ প্রশ্ন করবেন না।

এমনকি উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন বলছে, হোয়াইট হাউস চাইছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি জানাতে প্রতি দিন ব্রিফিং না করে, কয়েক দিন পরপর প্রেস ব্রিফিং করতে। গতকাল শনিবার প্রেস ব্রিফিংয়ের জন্য কোনো পূর্বনির্ধারিত সময় না থাকাটা এ বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। হোয়াইট হাউস একটু দেরিতেই এমন পদক্ষেপ নিল বলা যায়। অবশ্য তাও হয়তো নিত না, যদি না ফক্স নিউজও প্রেসিডেন্টের সমালোচনায় না মাতত।

শনাক্তকরণ পরীক্ষা দ্বিগুণ করার আহ্বান ফাউসির

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হোয়াইট হাউস গঠিত টাস্ক ফোর্সের সদস্য ড. অ্যান্থনি ফাউসি গতকাল শনিবার করোনাভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্থনি ফাউসি যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির এ আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ফাউসি এ আহ্বান জানান।

ফাউসি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষের পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য সপ্তাহ প্রতি এ পরীক্ষার সংখ্যা দ্বিগুণ করা জরুরি। ফাউসি বলেন, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষার কথা বলছি আমি, অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কথা নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে একমাত্র নয়। এ ক্ষেত্রে আইসোলেশন ও অন্যের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

অবশ্য এ ক্ষেত্রেও ভিন্নমত দিতে ভোলেননি ট্রাম্প। ফাউসির আহ্বানের বিপরীতে তিনি বলেছেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে একমত নই। আমরা অনেক ভালো কাজ করছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন