default-image

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমশ করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ ঢুকতে শুরু করেছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ মহামারি বিশেষজ্ঞ মাইকেল ওস্টারহল্ম।

অন্য মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও একই সুরে কথা বলছেন। তাঁরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টিকা কর্মসূচি বেশ ভালোভাবে হচ্ছে। কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণ মানুষ এখনো সুরক্ষিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে করোনার আরেকটি ঢেউ শুরু হতে পারে।

সম্প্রতি মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির (সিআইডিআরএপি) পরিচালক মাইকেল ওস্টারহল্ম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বলে মার্কিন সাময়িকী স্লেট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে মাইকেল ওস্টারহল্ম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘করোনা নিয়ে সারা বিশ্ব তটস্থ হয়ে আছে। আমরা এখন করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। আগামী কয়েক সপ্তাহে সারা বিশ্বেই করোনার সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বেড়ে যাবে। এই বাস্তবতা দ্রুত মার্কিনদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ধরা দেবে। আমরা অতটা ভয়াবহ রূপ এখনো দেখিনি।’

মাইকেল ওস্টারহল্ম বলেন, এর আগের ঢেউয়ে সারা দেশে যা হয়েছিল, এবারও তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। এরই মাঝে ৩ এপ্রিল মিশিগান অঙ্গরাজ্যে একদিনে ৮ হাজার ৪০০ জন করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছে। এটা মূলত সবার জন্য সতর্ক হওয়ার একটি সংকেত।

বিজ্ঞাপন
এই দেশে করোনার সংক্রমণ যখন বাড়ছে ঠিক সেই সময়ে কোনো কিছু বন্ধ না করে উল্টো সব খুলে দিচ্ছি। সামনে সংক্রমণ আরও অনেক বাড়বে
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ মহামারি বিশেষজ্ঞ মাইকেল ওস্টারহল্ম

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ করোনায় ঝুঁকির বিষয়টি একদম এড়িয়ে যাচ্ছে। এর সমালোচনা করেছেন ওস্টারহল্ম। কারণ, দেশে এখন করোনার নানা ধরন রয়েছে। যা আগের চেয়ে আরও বেশি সংক্রামক। তাই এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিধি সবাইকে মেনে চলাতে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

ওস্টারহল্ম আরও বলেন, বিশ্বে আমরাই একমাত্র দেশ, এই দেশে করোনার সংক্রমণ যখন বাড়ছে ঠিক সেই সময়ে কোনো কিছু বন্ধ না করে উল্টো সব খুলে দিচ্ছি। সামনে সংক্রমণ আরও অনেক বাড়বে। তিনি বলেন, করোনার নতুন ধরনটি অনেক বেশি সংক্রামক। এই ধরনটি শিশুদের শারীরিক পরিস্থিতি অনেক নাজুক করে দিতে পারে। সবাইকে বুঝতে হবে করোনার এই বি.১. ১.৭ নামক ধরনটি একেবারেই নতুন। এই ধরনে মিনেসোটায় শিশুরা খুব দ্রুত সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছে।

তবে মাইকেল ওস্টারহল্মের এই সতর্কবার্তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কমিশনার স্কট গটিলেব। তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেছেন, কিছু কিছু এলাকায় তরুণেরা করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন, কোথাও সংক্রমণ কিছুটা বাড়ছে। এর অর্থ এই নয় যে, চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিয়ত মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের ২০ কোটি মানুষের ইমিউনিটি তৈরি হয়ে গেছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে ২৪ ঘণ্টায় ৪০ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা রেকর্ড।

default-image

সিডিসির তথ্য থেকে জানা যায়, এখন যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতিদিন ৩০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ পুরোপুরি টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি দেশে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংক্রামণব্যাধি ও মহামারি বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেন, ‘আমি মনে করি, সামনে আমাদের আরও কয়েকটি খারাপ সপ্তাহ আসছে। গত বছরের মহামারির প্রবণতা থেকে বলা যায়, ইউরোপে মহামারি শুরুর তিন থেকে চার সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে এর ঢেউ লাগে।’

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপে করোনার নতুন বি.১. ১.৭ ধরনে সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তি আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যদি স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানা না হয়, তাহলে এখানে ইউরোপের অবস্থা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, নতুন ধরণ মহামারি পরিস্থিতিকে বদলে দিচ্ছে। নতুন ধরণে তরুণেরা বেশি সংক্রমিত হতে পারে, যারা এখনো টিকা পায়নি।

বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের ন্যাশনাল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের ডিন পিটার হোটেজ বলেন, ‘বি.১. ১.৭ একেবারেই নতুন ধরনের ভাইরাস হিসেবে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। সংক্রমণ ও তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের ক্ষেত্রে আমরা আগে যা দেখেছি, এটি পুরোপুরি তার থেকে ভিন্নভাবে কাজ করছে। সুতরাং করোনার এই ধরনকে আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন