default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র নয় দিন বাকি। শুরু হয়ে গেছে আগাম ও ডাকযোগে ভোট। এরই মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারির কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ অক্টোবর সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মার্ক মেডোস এই ঘোষণা দিয়েছেন।

মার্ক মেডোস বলেন, ‘আমরা মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। তবে আমরা ভ্যাকসিন আবিষ্কার, চিকিৎসাব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে আবারও করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। এরপরও প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী সমাবেশে মাস্ক ব্যবহার করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও অনেক লোক সমাগম না করার মতো স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা মানছে না ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির। এরই মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফসহ অন্তত পাঁচজন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এসব ঘটনার পরেই হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মার্ক মেডোস করোনাভাইরাস মহামারির কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিলেন।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ অক্টোবর এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৮৪ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। করোনায় মোট মারা গেছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ মানুষ

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ অক্টোবর এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৮৪ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। করোনায় মোট মারা গেছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ মানুষ।

সমালোচকেরা বলছেন, করোনা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতায় যুক্তরাষ্ট্রে এত মানুষ সংক্রমিত ও মারা গেছেন। তবে ট্রাম্পের দাবি করেছিলেন, তিনি ভালোভাবেই করোনা পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় বোন ম্যারিঅ্যান ট্রাম্প ব্যারি বলেছেন, ট্রাম্পের কোনো নীতি নেই। তিনি কেবল নিজের চিন্তাটাই করেন। তবে করোনার কাছে তাঁর আজকের এই আত্মসমর্পণ মূলত নীতি হীনতার কারণে নয়। সীমাহীন বোকামির কারণেই তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কেন মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না—‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্নের জবাবে মেডোস বলেন, কারণ করোনাভাইরাস হলো ফ্লুর মতো সংক্রামক একটি ভাইরাস। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন আবিষ্কার, চিকিৎসাব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। এতে আর মানুষের মৃত্যু হবে না।’

ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফসহ অন্তত পাঁচজন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ডেভিন ও’ম্যালি এক বিবৃতিতে বলেছেন, মাইক পেন্স ও তাঁর স্ত্রী মিসেস পেন্স উভয়ের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় তাঁদের করোনা নেগেটিভ এসেছে। তাঁরা ভালো আছেন।

আগামী ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পেন্স। তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, চিফ অব স্টাফের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স তাঁর পূর্বনির্ধারিত প্রচার কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ বলেন, ‘আমি গত রাতে ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শেই মাস্ক ব্যবহার করছেন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন। যখন তিনি কোথাও বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন মাস্ক খুলে বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু বক্তব্য শেষে আবার মাস্ক পরছেন।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহামারির শুরু থেকেই করোনাভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। পরে তিনি নিজেই করোনায় সংক্রমিত হন। ২ অক্টোবর ট্রাম্পকে মেরিল্যান্ডে ওয়াল্টার রিড সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের বাইরে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের এই কাজ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউসে ফেরেন। হাসপাতাল ত্যাগ করার কিছু আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে করোনাভাইরাস নিয়ে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ ঘটনার ২০ দিন যেতে না যেতেই করোনার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিল ট্রাম্প প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0