বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেই সময় থেকে মার বড় হয়ে ওঠা, আমার জন্ম, ক্লাস সেভেনে ওঠা পর্যন্ত হুগলি নদীর ওপর দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই নানার আর্থিক অবস্থারও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। না ঊর্ধ্বগতি নয়, নিম্নগতি। পরিবার বড় হয়ে যাওয়ায় ও সেই মতো আয় না বাড়ায়, আস্তে আস্তে তিনি নিজের ধানি জমি বিক্রি করতে শুরু করেছেন। কিছু জমি তিনি আমাদের কাছেও বিক্রি করেছেন। আমাদের সংসারের আর্থিক অবস্থাও তথাকথিত মধ্যবিত্ত বা মোটামুটি সচ্ছল পরিবার বলা যেত। অন্যদের মতো নিজেদের ঘরবাড়ি, পুকুর, খাল, রবিশস্য ও ফলমূল চাষের ডাঙা জমি, মাছ চাষের পুকুর ও ধান চাষের জমি ছিল। তার ওপর বাবার সরকারি চাকরি থাকায় মাসে মাসে হাতে ক্যাশ টাকা আসত। কথায় বলে, যেমন তেমন চাকরি মানে ঘি ভাত। মোদ্দা কথা, সে জন্যই আমাদের পরিবারে জমি কেনার কিছুটা ক্ষমতা ছিল। মুশকিল হলো, একসঙ্গে এতটা ক্যাশ টাকা জমা হতো না যে জমি কেনার সময় টাকাটা একবারেই দিয়ে দেওয়া যাবে। সে সময় এসব কাজে আবার ‘লোন’ পাওয়া যেত না। তাই কিস্তি কিস্তি করে টাকা পরিশোধ করা হতো। কিন্তু, নির্মম দিকটা হলো, একবার জমিটা লিখে দিলেই বিক্রেতা মালিকানা হারাতো। জমি ভোগ করত নতুন মালিক, অথচ সে টাকাটা পুরোপুরি শোধ করেনি। জমি লিখে নেওয়ার সময় হয়তো মাত্র অর্ধেক টাকা দিয়েছে। তারপর বাকি টাকা শোধ করতে হয়তো লেগেছে আরও ছয় মাস, এক বছর বা তার চেয়েও আরও বেশি সময়।

ভণিতা ছেড়ে আসল কথায় আসি। আরশাদ নানা কবে আমাদের কাছে তাঁর জমি বিক্রি করেছেন সেসব খবর ওই বয়সে আমার জানার কথা নয়। একদিন বাবা অফিসে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোবার আগে বলল, ‘খোকা, তোমার আরশাদ নানাকে এ পর্যন্ত কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তার একটা ‘টোটাল’ করে রেখো তো। আমি রাতে অফিস থেকে ফিরে এসে দেখব।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা’। কিন্তু কবে, কোথায়, কীভাবে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটা আমি কীভাবে জানব? একে গতরাতে হোম ওয়ার্ক পুরোটা করা হয়নি, সকালে শেষ করতে আরও সময় লাগবে। তারপর গোসল, খাওয়া-দাওয়া, জামাকাপড় পরা, হেঁটে ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত যাওয়া। এর মধ্যে আবার যার কোনো কিছুই জানি না এমন একটা টাকার হিসাব মেলানোর ঝামেলা এসে জুটেছে। হোম ওয়ার্কটা তাড়াতাড়ি শেষ করার চেষ্টা করছি, এমন সময় আমার দাদা এসে বলল, ‘দাদুভাই, আরশাদ মিয়াকে এ পর্যন্ত কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তার একটা ‘টোটেল’ দিয়ে দেখো তো।

আমি বললাম, ‘দাদা, অফিসে যাওয়ার সময়, বাবাও একই কথা বলে গেছে। কিন্তু, কত টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটা আমি কেমন করে জানব? দাদা বলল, ‘আমাদের সিন্দুকটা খুললেই দেখবে, সবার ওপরে একটা লাল খেরোখাতা। কয়েকটা পাতা উল্টালেই আরশাদ মুন্সির নাম পাবে। সেখানে কোন তারিখে কত টাকা দেওয়া হয়েছে তা লেখা আছে। এই নাও চাবি।’ একটা হিল্লে হয়ে গেল মনে করে আমি তো মহা খুশি। বললাম, বাহ, খুব ভালো হলো। আমি স্কুল থেকে ফিরে ওটা করে রাখব বলে পুকুরে ডুব মারতে গেলাম। খাওয়া-দাওয়া করে, জামাকাপড় পরে স্কুল ব্যাগ নিয়ে বেরোতে যাব, হঠাৎ আরশাদ নানা এসে বললেন, ‘ও ভাই নাতি, কত টাকা আমার নেওয়া হয়েছে তার একটা ‘টোটিল’ দিয়ে দেখো তো ভাই।’

নিশ্চয়ই নানা, স্কুল থেকে ফিরে এসে দেখব। স্কুল যাওয়ার পথে ভাবলাম, সকালে বাপ বলে গেল ‘টোটাল’ দিতে, পরে দাদা এসে বলল ‘টোটেল’ দিতে, তারপর নানা এসে বললেন ‘টোটিল’ দিতে। তাহলে কোনটা ঠিক ইংরেজি? নাকি ওই এক কথাকে তিনভাবে বলা যায়? টোটাল, টোটেল, টোটিল?

খটকা লাগার সেই থেকে শুরু। ভাষা সম্পর্কে আমার জ্ঞান ছিল তথৈবচ। আর ব্যাকরণ বিষয়টা এমন কাটখোট্টা যে, সে সম্পর্কে কিছু জানতে বা শিখতে আদৌ ইচ্ছে করত না। কিন্তু কিছু কিছু শব্দ ও বাক্য প্রায় বিনা আয়াসে আমার রপ্ত হয়ে গিয়েছিল। যেমন, ছুটি কাটাতে বেশ কিছুদিন নানার বাড়িতে থাকব বলে যখন স্টেশনে ট্রেন আসার জন্য অপেক্ষা করছি, দেখি আমার ক্লাসমেট সুরেন হঠাৎ হাজির। আমাকে দেখে বলল, ‘অতবড় বাস্কো নিয়ে কোথায় চললি?’ বললাম, ‘নানার বাড়ি। তুই?’ সুরেন বলল, ‘আমিও মামার বাড়ি যাচ্ছি রে। তা কোন স্টেশনে নামবি?’

—সোনারপুর। তুই?

—আমারও তো সোনারপুর। স্টেশনে নেমে একটা রিস্কা নিয়ে নিলে মামার বাড়ি মাত্র বিশ মিনিটের পথ।

ভাবলাম, ইংরেজিতে না হয় আমি পাঁড় মূর্খ, কিন্তু বাংলা বাক্স আবার কবে থেকে বাসকো বা রিক্সা কখন থেকে হঠাৎ রিস্কা হয়ে গেল? পূর্ববঙ্গে গিয়ে দেখলাম, তারা বাংলা ভাষাকে বেশ অনেকটাই ছিমছাম করে নিয়েছে। আমরা পশ্চিমবঙ্গে ভূগোলে পড়েছিলাম যশোহর, শ্রীহট্ট, চট্টগ্রাম। ওখানে গিয়ে দেখলাম ওগুলো হয়ে গিয়েছে যশোর, সিলেট, চাটগাঁ বা লোকাল ভাষায় ছিটাং। আবার উল্টোটাও আছে। পশ্চিমবঙ্গে যেটা জিব, পুকুর, পূর্ববঙ্গে সেটা হয়েছে জিহ্বা, পুষ্করিণী।

ঢাকা শব্দটা যদিও অবিকল ঢাকাই আছে, কিন্তু অপিনিহিতির চোটে খুলনা হয়ে গিয়েছে খুইলন্যা, করে হয়েছে কইরা, বলে হয়েছে বইলা। আবার পশ্চিমবঙ্গে সোজা শব্দকে কঠিন বানানোর দৃষ্টান্ত যে একেবারেই নেই, তা নয়। আমাদের ছোট ভাইয়েরা যখন তৃতীয় শ্রেণিতে উঠল, সে সময় পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তর ঠিক করল, ওই বিদ্যাসাগরীয় দাঁত ভাঙা বাংলা ছাত্রদের মাথাও ভেঙে দিচ্ছে। অতএব নতুন শিক্ষাব্যবস্থা অনুযায়ী ‘কিশলয়’ নামে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা সরকারি পাঠ্যপুস্তক তাদের ধরানো হলো।

তখন ইংরেজির মতো আমাদের বাংলা টেক্সট বইয়েরও মানে বই পড়তে হতো। আমার ছোট ভাই একদিন কিশলয়ের মানে বই এনে বলল, ‘বড়দা, খাবার মানে কী?’ বললাম, মারব এক চড়, দিনরাত এত কিছু গিলছো অথচ খাবার মানে জানো না? খাবার মানে যে জিনিসটা লোকে খায়। সে মানে বইটা আমার নাকের ডগায় তুলে ধরে বলল, ‘পড়ো’। দেখলাম লেখা আছে, খাবার মানে ‘খাদ্য বা আহার্য্য’। বোঝো ঠেলা!

নতুন দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এসেও অনেক কিছুই শিখলাম। শুধু কথা নয়, তরিকা নিয়েও সমস্যা হয়েছিল। ইয়া ইয়া লরিগুলোকে বলা হয় ট্রাক, ট্যাক্সি হলো ক্যাব, পুলিশ হলো কপ। ফ্ল্যাট, বাড়ি ভাড়া দিতে ‘টু লেট’ নয়, লিখতে হবে ‘ফর রেন্ট’। লাইটের সুইচগুলো নিচের দিকে নামিয়ে ‘অন’ নয়, তুলতে হবে ওপর দিকে। প্রথম দিকে অন্ধকারে বাথরুমে ঢুকে লাইট জ্বালাতে ঝামেলা হতো। ‘অন’ না করে বেশির ভাগ সময় ‘অফ’ করা হয়ে যেত। বাথরুমের টিস্যু পেপার নিয়ে সে এক যুদ্ধ। ব্রিটিশ কায়দায় পেপারের ডগাটা নিচের দিকে নামানো থাকলে ছিঁড়তে সুবিধা হতো। মার্কিনি কায়দায় ডগাটা ওপর দিকে থাকে বলে টানতে গেলে প্রথম দিকে হুড়মুড় করে কয়েক ফুট খুলে যেত।

ইতিমধ্যে আমরা বাথরুমকে ব্যাথরুম, অভিনেত্রী আভা গার্ডনারকে এভা গার্ডনার বলা রপ্ত করে ফেলেছি। আজকের স্টার বাক্স বা ডানকিন ডোনাটসের মতো তখন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মোড়ে মোড়ে ‘চক ফুল অব নাটস’ নামে কফিশপ ছিল। ফ্রেস বানানো কফি থেকে ম’ ম’ একটা গন্ধে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথিকেরা পাগল হয়ে সেই কফিশপে ছুটে যেত। আর দেয়ালের র‍্যাকে থাকত নানা রঙের মজার মজার ডোনাট। দেখে জিবে পানি এসে যেত। দেশে সায়েন্স ক্লাসে ফিজিকসে পড়েছিলাম, ‘ডিস্কস অ্যান্ড ডোনাটস’। ডিস্কস্টা বুঝতাম, অনেকটা আমাদের আধুলির মতো একটা চাকতি। কিন্তু ডোনাটস আবার কি রে বাবা! নানা কল্পনা করেও তার ধারে কোনো বস্তুর অস্তিত্ব কল্পনাও করতে পারতাম না। শুধু আমি না, আমরা ছাত্ররা তো বটেই, এমনকি অনেক টিচাররাও এর কোনো হদিস পেত না। অথচ এখানে প্রতিদিন ডোনাটের ঘাড় মটকিয়ে, গরম কফিতে চুবিয়ে খাচ্ছি।

যাই হোক, শেষ করার আগে এখন দুটো গল্প বলি। নিউইয়র্কে চাকরি পাওয়ার সপ্তাহ দু-এক পরে মনে হলো, উইক ডেজ-এর ম্যানহাটন তো জানি। উইকেন্ডে ম্যানহাটন কেমন, তা একবার দেখা দরকার। তো এক শনিবার সাবওয়ে থেকে নেমে টাইম স্কয়ারে একটা ‘চক ফুল অব নাটস’ এর কফিশপে ঢুকে পড়লাম। অফিস যাওয়ার তাড়া নেই বলে, বেশ রিল্যাক্সড মুডে মজা করে একটার বদলে দুটো ডোনাট আর এক কাপ কফি আরাম করে খাওয়া হলো। দাম দিতে কাউন্টারে এসে হিপ পকেটে হাত দিতেই চক্ষু চড়ক গাছ। সর্বনাশ, ওয়ালেট নেই, ভুলে বাড়িতে ফেলে এসেছি। তখন ভয়ে তো রীতিমতো ঘামতে শুরু করেছি।

পকেটে পয়সা নেই, অথচ দিব্যি খেয়ে বসে আছি। এ দেশে নতুন এসেছি। কাউকে চিনি না, জানি না। আসল কথাটা কে বিশ্বাস করবে? যদি জেলে দেয়? আমার ক্যারিয়ার, দেশ থেকে ফ্যামিলি নিয়ে আসা, ভবিষ্যৎ, সব শেষ। এ ছাড়া কী করে সমাজেই বা মুখ দেখাব? কাউন্টারের দিকে তাকালাম। দেখা গেল সেখানে যিনি আছেন, তিনি একজন কালো ভদ্র মহিলা, যাদের এখন ‘আফ্রিকান-আমেরিকান’ বলা হয়। দেখে ভয় আরও বেড়ে গেল। কাঁপতে কাঁপতে আমার শ্বশুর বাড়ির দেওয়া নতুন দামি ঘড়িটা খুলে নিয়ে কাউন্টারে গিয়ে ইংরেজিতে বললাম, ‘এক্সকিউজ মি, আমি আসার সময় ভুল করে আমার ওয়ালেটটা বাড়িতে ফেলে এসেছি। তার বদলে আপনি এই সোনার চেনওয়ালা দামি ঘড়িটি রেখে দিন। আমি সোমবার সকালে এসে কফি ও ডোনাটের দাম চুকিয়ে দিয়ে ঘড়িটা ছাড়িয়ে নিয়ে যাব। আর হ্যাঁ, দয়া করে আমাকে দুটো কোয়ার্টারস (কোয়ার্টার মানে ২৫ সেন্ট, আমাদের দেশের সিকি বা আধুলির হাফ যেমন) দিন যাতে পাতাল ট্রেনের (সাবওয়ের) টিকিট কেটে আমি বাড়ি ফিরে যেতে পারি। সেটাও আমি সোমবারে একই সঙ্গে ফেরত দেব। ভদ্র মহিলা সোজাসুজি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে একটু পরে বললেন, ‘ইউ ডোন্ট হ্যাভ নো মানি, বাট ইউ ওয়ান্ট মি টু গিভ ইউ সাম কোয়ার্টার্স? হাউ মেনি?’ হাত ঘড়িটা আরও একটু এগিয়ে দিয়ে বললাম, ‘টু’।

ঘড়িটা না নিয়ে, ভদ্র মহিলা ক্যাশ খুলে দুটোর বদলে চারটা কোয়ার্টার আমার হাতে দিয়ে বললেন, ‘দ্যাট ওন্ট বি ন্যাসেসারি। ইউ কিপ ইওর ওয়াচ। আই ট্রাস্ট ইউ।’

সোমবার সকালে অফিস যাওয়ার পথে শনিবারের কফি, ডোনাটের দাম ও সেই চার কোয়ার্টার্স বা এক ডলার ফেরত দিতে কফিশপে ঢুকলাম। দেখি কাউন্টারে সেই ভদ্র মহিলাই আছেন। তাঁকে গত শনিবারের কথা মনে করিয়ে দিতে অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। তারপর বললেন, ‘ওহ মাই গড, ইউ রিয়েলি কাম ব্যাক! আই জাস্ট কান্ট বিলিভ ইট। হাউ ওয়ান্ডারফুল! ইউ মাস্ট বি এ রিয়েলি নাইস ম্যান। থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ সো মাচ’।

আচ্ছা বলুন তো, এখানে কে কাকে থ্যাংক ইউ দেবে? আমি যতই বলি এটা তো আসলে আমার বকেয়া পরিশোধ। আই অ্যাম জাস্ট পেয়িং ব্যাক হোয়াট আই ও’। উনি মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বললেন, ‘লিসেন হানি, দ্য মেন থিং ইজ, ইউ রিমেমবার্ড ইট, অ্যান্ড কেম ব্যাক টু পে। আই ডোন্ট কেয়ার হোয়াট অ্যানিবডি সে স’। যাই হোক, ভদ্র মহিলার কথায় ও ব্যবহারে আমি একেবারে অভিভূত, মুগ্ধ। ভাবতে শরম লাগছে যে, এই ভদ্র মহিলাকে দূর থেকে দেখেই আমি অত ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার পয়েন্টটা অবশ্য অন্য। মানে ইংরেজির ব্যাপারটা। মোদ্দা কথা, ‘ইউ ডোন্ট হ্যাভ নো মানি’ কথাটা যে ভুল নয়, সেটা এখন বেশ বোঝা গেল। এখানে গল্প বলার সময় অনেককে বলতে শুনেছি, ‘হি সেস, দেন আই সেস, দেন হি সেস, অ্যান্ড দেন আই সেস’ ইত্যাদি। অথচ ভুলেও এই ধরনের লেখা দেখলে আমাদের গ্রামার টিচার অনিল বাবু কেন যে অত গরম হয়ে যেতেন জানি না। লাল কালিতে খাতার পাতার এপার থেকে ওপার পর্যন্ত দাগ টেনে দফারফা করে ছাড়তেন।

আর একটু বলে পরের গল্পটা শেষ করি। কানেকটিকাটে ইন্টারভিউ দেওয়ার পর তাঁরা আমাকে ‘সোলেভান্স স্টেক হাউস’-এ লাঞ্চ করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তো কেউ টি বোন স্টেক, ফিলেমিনিয়ন, কেজন হ্যালিবাট, ব্ল্যাকেন্ড হোয়াইট ফিস, লবস্টার, ইত্যাদি যে যার মতো অর্ডার করছিল। ওয়েট্রেস মি. প্র্যাট (আসল নাম প্রতাপ, একজন গুজরাতি ভেজিটেরিয়ান)-এর কাছে অর্ডার নিতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কী অর্ডার করতে চান। উনি যেটাই দেখেন পছন্দ হয় না। জিজ্ঞেস করেন, ‘ভেজিটেরিয়ান ডিশ কী আছে?’ ওয়েট্রেস বললেন, ‘সে রকম কিছুই নেই স্যার। স্টেকের সঙ্গে স্যালাড এমনি আছে। স্টেক না নিয়ে, আপনি ডবল স্যালাড অর্ডার করতে পারেন। অর্ডারটি নিয়ে তিনি যখন শেফকে দিতে যাবেন, পেছন থেকে মি. প্র্যাট হেঁকে বললেন, ‘মেক ইট হট’। শুনে চমকে উঠে মহিলা দৌড়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘স্যার, আমি গরম স্যালাড কী করে সার্ভ করব? আই অ্যাম ভেরি কনফিউজড অ্যান্ড নার্ভাস স্যার। আমার চাকরি হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ। অর্ডার নিতে পারি না বলে কাস্টমার অভিযোগ করলেই নির্ঘাত আমার চাকরিটা চলে যাবে।’ তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বলি, ‘লিসেন মিস, অত ঘাবড়িও না। স্যালাড বানিয়ে, তার ওপর ‘ক্রাশড চিলি’ মানে ঝালের গুঁড়ো ছড়িয়ে দাও, কাজ হয়ে যাবে।’

‘ইজ দ্যাট অল? ও মাই গড, ইউ সেভড মাই লাইফ স্যার’, বলে মেয়েটি আবার কিচেনের পথে দৌড়াল।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন