মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২৮ এপ্রিল কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
১৩ এপ্রিল এক চিঠিতে স্পিকার এ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে আমন্ত্রণ গ্রহণের কথা অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে তাঁর লক্ষ্য, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার দিগন্তের কথা সবার সামনে আলোচনার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার পেলোসি।
প্রথা অনুযায়ী শপথ গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এবার করোনা মহামারির কারণে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে কংগ্রেস প্রথম কয়েক সপ্তাহ ব্যস্ত থাকার কারণে এ প্রথা রক্ষা করা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া প্রথম বক্তৃতা অনেকটাই জাঁকজমক হয়ে থাকে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের এমন অধিবেশনে পদাধিকার বলে ভাইস প্রেসিডেন্ট সভাপতিত্ব করে থাকেন। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন এ সভায় উপস্থিত থাকেন। আইনপ্রণেতা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রথম যৌথ সভার বক্তৃতাটি অনেকটাই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ বক্তৃতার মতো হয়ে থাকে। নতুন শপথ নেওয়া প্রেসিডেন্ট তাঁর আশু করণীয় লক্ষ্যগুলো উপস্থাপন করেন এবং নিজের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইনপ্রণেতা ও নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
কংগ্রেস সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ লোকজনের করোনার টিকা নেওয়া এর মধ্যেই হয়ে যাবে। ফলে ২৮ এপ্রিল কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন করতে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এবার বাছাই করা লোকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আইনপ্রণেতারাও নির্দিষ্ট দূরত্বে বসবেন। স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে নিয়েই এমন অধিবেশন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বাইডেন একের পর এক নির্বাহী আদেশ দিয়ে তাঁর কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে রিপাবলিকান দলের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের নাগরিক প্রণোদনা আইন পাস করেছেন। মে মাসের মধ্যেই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আইন প্রণয়ন নিয়ে কংগ্রেস সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে জানা গেছে। যদিও এমন আইন প্রণয়নে রিপাবলিকান দলের হাত কতটা প্রসারিত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
প্রথা অনুযায়ী শপথ গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এবার করোনা মহামারির কারণে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে কংগ্রেস প্রথম কয়েক সপ্তাহ ব্যস্ত থাকার কারণে এ প্রথা রক্ষা করা হয়নি
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অবকাঠামো আইন পাস করা, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রণয়ন করা এবং অভিবাসন আইনের সংস্কার করা। এসব আইন প্রণয়নের জন্য আইনপ্রণেতাদের সহযোগিতা এবং জনগণের সমর্থনের কথাই বলবেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া প্রথম বক্তৃতায়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করে বলেছেন, বাইডেনের কর্মসূচিগুলো এতই অজনপ্রিয় যে, তিনি এখনো কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে পর্যন্ত উপস্থিত হয়ে এসব নিয়ে কথা বলতে পারছেন না।