default-image

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন ডানপন্থী সংগঠন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে ওয়াশিংটনে আজ ১৪ নভেম্বর ‘মেগা মার্চ’ নামে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এ উপলক্ষে দূরের রাজ্য থেকেও ট্রাম্পের সমর্থকেরা ওয়াশিংটনে সমবেত হতে শুরু করেছেন। ১৩ নভেম্বর রাতে দেওয়া এক টুইট বার্তায় এই সমাবেশে উপস্থিত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে ট্রাম্প বিরোধীরাও একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে। এ নিয়ে ওয়াশিংটনে এখন থমথমে পরিস্থিত বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন ডিসি নগর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটনে ওমেন ফর আমেরিকা ফার্স্ট নামের একটি সংগঠন সমাবেশ করার অনুমতি নিয়েছে। এ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে রক্ষণশীল আরও অনেক সংগঠন যোগ দেবে। তাঁরা ভোট জালিয়াতি ও ভোট কারচুপির প্রতিবাদ জানাতে রাজধানীতে সমবেত হচ্ছে। অনুমতি পত্রে শান্তিপূর্ন সমাবেশ, সংগীত ও বক্তব্য দেওয়ার কথা লেখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৪ নভেম্বর এমন মেগা মার্চের আহ্বান করা হলেও ১৩ নভেম্বর থেকেই লোকজনের সমাবেশ ঘটেছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। আগে থেকেই ট্রাম্পবিরোধী লোকজনের সমাবেশ ও শোভাযাত্রা চলছিল। এ নিয়ে ১৩ নভেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে একদফা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। মাস্ক পরা না পরা নিয়ে দুই পক্ষের এই উত্তেজনা সহিংসতায় গড়ায়নি।

১৪ নভেম্বর কী ঘটতে পারে—এ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নগরীর সর্বত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দূরের রাজ্য টেক্সাস থেকেও বাসে করে ট্রাম্প সমর্থকেরা রাজধানীতে আসছেন। লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে ঘোরায় যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাধা না থাকলেও ওয়াশিংটন ডিসিতে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করা নিষেধ। এ নিয়ে নগরীর পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে সবাইকে।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা হোয়াইট হাউসের আশপাশ থেকে শুরু করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নেবে। বিক্ষোভকারীরা নগরীর ফ্রিডম প্লাজা থেকে সুপ্রিম কোর্টের সামনে শোভাযাত্রা করবে। সেখানে তাঁরা ভোট কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাঁরা সংহতি জানাবেন।

default-image

নির্বাচনে এখনো পরাজয় মনে নেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগে বিভিন্ন রাজ্যে ঠিক কতটি মামলা দায়ের করেছেন, তা ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকেও সঠিক জানানো হয়নি। তাঁদের অধিকাংশ মামলা আদালতে খারিজ হচ্ছে। মার্কিন আইন বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাঁরা কোনো মামলায় এখনো গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নিলেও তাঁকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এমন অবস্থায় ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের সমর্থনে সমাবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প সমর্থকদের প্রায়ই অস্ত্র নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে রাজপথে ট্রাম্পবিরোধীরাও উপস্থিত থাকার কথা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৩ নভেম্বর রাতে এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি সমাবেশে ‘হ্যালো’ বলার জন্য থামতে পারেন। তাঁর সমর্থনে বড় ধরনের সমাবেশ আয়োজন করায় আয়োজকদের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউজার জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর করা নজর রাখা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন সড়কপথ চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে যোগ দেওয়া লোকজন এসব চিহ্নিত এলাকার বাইরে গেলেই পুলিশ বাধা দেবে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোনো বাধা না থাকলেও নির্বাচনী প্রথম বিতর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকার জন্য বলবেন বলে উল্লেখ করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0