default-image

ভালোবাসার উচ্ছ্বাস আর আনন্দে ভরে উঠেছিল জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টার। লাল, মেরুন আর হলুদ পোশাকে সেজে আসা মানুষ মেতে উঠেছিলেন ভালোবাসার আড্ডায়, ভালোবাসার গানে আর সংলাপে। বলেছেন ভালোবাসার বলা না–বলা কথা। কেউ ২০ বছর আগে পালিয়ে বিয়ে করার কথা বলতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়েছেন। কেউ ভালোবাসার আবেগে কোনো কথা না–বলেই মঞ্চে কেঁদে ফেলেছেন হাউমাউ করে। এভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার জুইশ সেন্টার ভালোবাসাময় হয়ে উঠেছিল।
‘এ জীবন আজ শুধুই ভালোবাসার’—স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভালোবাসার কথা শুনিয়ে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা ও এসেনসিয়াল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস পুরস্কার পেয়েছেন অনেকে। নৃত্য, সাজ আর সংগীত হিমাঙ্কের নিচে থাকা তাপমাত্রায় ভালোবাসার উত্তাপ ছড়িয়েছে এই অনুষ্ঠানে। কান্তা কবীরের ভালোবাসার নৃত্য ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। অনুষ্ঠানজুড়ে একের পর এক আয়োজনে ভালোবাসায় ডুবে ছিল দর্শক।
সাংবাদিক, চৌকস উপস্থাপক জাহিদা আলম সবাইকে ভালোবাসার কবিতায় অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান। শুরুতেই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তৃতা করেন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ইব্রাহীম চৌধুরী, মনিজা রহমান ও রওশন হক। এসেনশিয়াল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের পক্ষ থেকে ম্যানেজিং পার্টনার আল আমিন ও রমিজ উদ্দিন অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী শুভেচ্ছা জানান। তাঁরা প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার এমন কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে সব সময় পাশে থাকার কথা জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতাপর্বে কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সালমা ফেরদৌস, কাজী আশরাফ হোসেন, কাজী আযম, পারভেজ সাজ্জাদ, আবদুর রহমান, আজিজ নাঈমী প্রমুখ।
সবার ভালোবাসার মানুষ মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস শুরুতেই তাঁর সফল প্রেমের কথা শোনান। বিশ্ব সাহিত্যে প্রেম ভালোবাসার জোরালো উচ্চারণ নিয়ে কথা বলেন লেখক ফারুক ফয়সল।
লিমন চৌধুরী ও ফারহানা তুলির দ্বৈত সংগীতের সঙ্গে ছিল কান্তা কবীরের নৃত্য। তাহমিনা শহীদ গেয়েছেন ভালোবাসার মন উজাড় করা গান। ভালোবাসা নিয়ে কৌতুক বলেন শহীদ উদ্দিন।
চৌকস উপস্থাপক জাহিদা আলম দক্ষতার সঙ্গে ভালোবাসার সংযোগ করে নেন দ্রুতই। এরপর একের এক পর্ব শুরু হয়। স্বামীকে হাতে ধরে মঞ্চে আসছেন স্ত্রী, কেউ ভালোবাসার সেরা সংলাপ বলে আবারও নতজানু হচ্ছেন ভালোবাসার মানুষটির কাছে। এমন দৃশ্য দেখে অন্যকেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
এককভাবে বা জুটি হিসেবে মঞ্চে আসেন আবদুর রহমান, এজাজ আলম, হায়দার আকবর, আকবর রানা, আবদুল্লাহ জাহিদ, সাংবাদিক মনোয়ারুল ইসলাম, জীবন বিশ্বাস, সৈয়দ ফজলুর রহমান, নাসরীন চৌধুরী, রোমেনা লেইস, হাসানুল হক কবির, আঞ্জুমানারা চৌধুরী, মাহমুদ চৌধুরী, স্বপন বিশ্বাস, নুর কিসি, রুবি আলম, নুসরাত এলিন, নাসরিন চৌধুরী, সুলতানা ডলি, সাবিহা শাহনাজ, রাকিব খান, মোহাম্মদ কাশেম, লুসি হাসান, পলি মনোয়ার, সাঈদা, নুরুন নাহার, নুশরাত কবির, লিপি আহমেদ, নাজনীন ফাতেমা, শুকলা রায়, তুহিন সেলিনা আখতার, সাব্রি সাবেরীন, আকবর হক, মিজানুর রহমান, ঈশরত আলী, লাভিনা জাহিদ, আবু জাহিদ লুবনা কাইজার, কামরুন্নাহার, শাম্মি আখতার, নজরুল ইসলাম, চমক ইসলাম, সৈয়দ রহমান, নার্গিস রহমান, জেবুন্নেসা জোৎসনা, মেজর (অব.) জাহিদ, শাহ সিরিল হাসান ছিলেন অন্যতম। নানা পরিকল্পনায় অনুষ্ঠান সাজাতে হলেও সময়ের স্বল্পতায় সবই সংক্ষিপ্ত করতে হয়।
ভালোবাসার অনুষ্ঠানে হল ভর্তি দর্শক শ্রোতাদের ক্যানডি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কুইন্সে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে বরো প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী অ্যান্থনি ম্যারিন্ডা। হঠাৎই অনুষ্ঠানে এসে বাংলাদেশিদের সমর্থন কামনা করেন এ রাজনীতিবিদ। ভালোবাসার আয়োজনে বাংলাদেশি শ্রোতা দর্শকেরা তাঁকে অভিনন্দন জানান। শুভেচ্ছা জানালেন লিগ্যাল নেটওয়ার্কের নিরু নীরা।
ভালোবাসার চমৎকার অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ায় মনজুরুল হক, আবদুর শহীদ, মনিজা রহমান, রওশন হক, জাহিদা আলম, সানজিদা উর্মি, কহিতুর পহেলী ও এম বি তুষারকে ভালোবাসা পুরস্কার দেন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী। লটারির মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে প্রথম আলো–এসেনশিয়াল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস ভালোবাসা পুরস্কার দেওয়া হয়।
সবশেষে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার একুশের অনুষ্ঠানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজায় ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0