default-image

যুক্তরাষ্ট্রে এশীয়-মার্কিনদের ওপর দিন দিন বিদ্বেষপ্রসূত হামলা বেড়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় কমিউনিটিতে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে। লুনার নিউ ইয়ার (চীনা নববর্ষ) উপলক্ষে কমিউনিটির সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে সান ফ্রান্সিসকোতে প্রাতর্ভ্রমণের সময় থাইল্যান্ডের ৮৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হয়েছেন। এর কয়েক দিন পর ওকল্যান্ডের চায়না টাউনে দুর্বৃত্তের হামলায় ৯১ বছর বয়সী এশীয় এক বৃদ্ধ নিহত হন। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের ভিয়েতনামি বাজারের বাইরে ৬৪ বছর বয়সী এক নারী ডাকাতির শিকার হন। এ ছাড়া নিউইয়র্কের সাবওয়েতে ফিলিপাইনের ৬১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত হন। তবে এসব ঘটনার কোনোটারই প্রমাণ নেই যে, এগুলো মূলত এশীয়-বিদ্বেষী মনোভাব থেকেই ঘটানো হয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ ও এশীয় কমিউনিটির আইনজীবীরা বলছেন, গত কয়েক মাস থেকেই দেশে এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ঘৃণাপ্রসূত হামলার ঘটনা বেড়ে চলছে। এর সমাধান হওয়া উচিত।

এশিয়ান প্যাসিফিক পলিসি অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ও স্টপ এএপিআই হেইট নামে একটি সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা মঞ্জুষা কুলকার্নি বলেন, বর্তমানে দেশজুড়ে যা চলছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। ১৯ শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে এশীয়দের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ঘটনা শুরু হয়। তৎকালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজেই চীনাদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী বক্তব্য দিয়েছিল। এই মহামারির সময় থেকে তা আরও বাড়তে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন
চলতি সপ্তাহে স্টপ এএপিআই হেইট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৭ রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি থেকে দুই হাজার ৮০০-এর বেশি এশীয়বিরোধী ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টপ এএপিআই হেইট বর্ণবিদ্বেষ ও এশীয়দের প্রতি বিদ্বেষের ঘটনার বিষয়ে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা শুরুর সময় থেকেই এই বিদ্বেষপ্রসূত হামলার হার বেড়ে যাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে স্টপ এএপিআই হেইট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৭ রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি থেকে দুই হাজার ৮০০-এর বেশি এশীয়বিরোধী ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মৌখিক হয়রানি, কোনো কারণ ছাড়াই এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ২১ শতাংশ, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৯ শতাংশ ও উদ্দেশ্যমূলক ঠাট্টা ও গায়ে থুতু দেওয়ার মতো ঘটনা ৬ শতাংশ।

মঞ্জুষা কুলকার্নি বলেন, এসব ঘটনা ঘটছে মূলত ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ যেসব এলাকায় এশীয়দের বসবাস অনেক বেশি সেসব এলাকায়।

১০ ফেব্রুয়ারি এশিয়ান আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এশীয়বিরোধী অপরাধের হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ গুণ বেড়েছে।

এশিয়ান আমেরিকানস অ্যাডভান্সিং জাস্টিস নামের একটি সংস্থা বলছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি এশীয়বিরোধী অপরাধের প্রায় ৫০০টি অভিযোগ গ্রহণ করেছিল। আর গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা প্রায় ৩ হাজার অভিযোগ পেয়েছে।

এশিয়ান আমেরিকানস অ্যাডভান্সিং জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক জন সি ইয়াং বলেন, এই তথ্যের চেয়ে প্রকৃত ঘটনা আরও অনেক বেশি। কারণ, এই তথ্য মূলত জরিপ করে পাওয়া। তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় এশীয়বিরোধী অপরাধের হার অনেকগুণ বেড়েছে। সে সময় ট্রাম্প বারবার করোনাভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলে অভিহিত করে আসছিলেন। তিনি এই ভাইরাসের জন্য এশীয় কমিউনিটিকে দায়ী করে আসছিলেন।

জন সি ইয়াং আরও বলেন, ভাষা ও সাংস্কৃতিক বাধার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এশীয়দের সহজেই টার্গেট করে ফেলে। কারণ, এতে অনেকেই অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকেন। আর এদিক থেকে বয়স্কদের টার্গেট করা আরও সহজ। আর এ কারণেই এবার লুনার নিউ ইয়ারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে।

চীনা নববর্ষের (লুনার নিউ ইয়ার) আয়োজন ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে খাওয়া-দাওয়া করে ও উপহার বিনিময় করে। তবে করোনা মহামারির কারণে এবার এই আয়োজন এমনিতেই সীমিত, তার ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কমিউনিটির মানুষেরা আতঙ্কে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি নর্দান ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় আলামেদা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি চলতি সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছেন, এশীয়বিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে তাঁর অফিস বিশেষ নজর রাখবে। গত বছরের আগস্টে নিউইয়র্ক পুলিশও একই উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স গঠন করে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন