default-image

এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের চেয়ে পরাজয়ের হাতছানিই বেশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর কার্যকলাপ বলছে, প্রেসিডেন্সির প্রতি তাঁর এক তীব্র টান রয়েছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যদি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত হেরে যান, তাহলে ২০২৪ সালে আবার প্রার্থী হতে চাইলে ট্রাম্প তা পারবেন কিনা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির কোনো প্রেসিডেন্ট তৃতীয় মেয়াদের জন্য লড়তে পারবেন না। সংবিধানের ২২তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুবারের বেশি নির্বাচিত হতে পারবেন না।

এর অর্থ হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়তেই পারেন। এমনকি পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর সাবেক হওয়া ওই প্রেসিডেন্ট পরের কোনো সময় আরেক মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে লড়াই করতে পারেন। ফলে শুরুতে করা প্রশ্নটির উত্তর হচ্ছে, ২০২০ সালে পুনর্নির্বাচিত না হলেও ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়াই করতে পারবেন।

চার বছর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরেকটি নির্বাচনের লড়াইয়ের জন্য বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।
ব্রায়ান লানজা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

তাই বলাই যায়, এবারের নির্বাচনে যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হেরে যান, তবে তিনি অনায়াসে অপেক্ষা করতে পারেন। আর নির্বাচনের মাঠে চার বছর পর ফিরে আসতে পারেন। হ্যাঁ, বয়স একটু বাড়বে। তাতে কি? মার্কিন প্রেসিডেন্সির জন্য বয়স তো কোনো বিষয় নয়।

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স হবে ৭৮ বছর। এবার জো বাইডেন বিজয়ী হলে তিনি হতে যাচ্ছেন মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। জো বাইডেনের বর্তমান বয়স ৭৭ বছর। চার বছর পর ট্রাম্প চাইলে এই রেকর্ড ভাঙার লড়াইটাও করতে পারেন।

এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ব্রায়ান লানজা দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, চার বছর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরেকটি নির্বাচনের লড়াইয়ের জন্য বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। তিনি বলেন, সবাই ভেবেছিল এটা একচেটিয়া নির্বাচন হবে। বলা হচ্ছিল, দুই অঙ্কের ব্যবধানের কথা। ইলেকটোরাল কলেজে নাকি তারা ভূমিধস বিজয় পাবে। কিন্তু কোথায়? এমন কিছু তো দেখা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
এবার যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলো, তাতে রিপাবলিকান সমর্থকেরা পরেরবার ট্রাম্প প্রার্থী হলে তাঁর ওপরই আস্থা রাখতে পারেন। ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ের পথ খুলে যাবে। আইনি বাধা তো নেই-ই, তখন থাকবে না দলীয় কোনো বাধাও

ব্রায়ান লানজা একা নন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টাদের আরও অনেকেই মনে করেন, ২০২৪ সালে ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এই তালিকায় এমনকি স্টিভ ব্যাননও রয়েছেন, যাকে বলা হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মস্তিষ্ক। ব্যানন অবশ্য গত মাসেই এ সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। সে সময় এমন উক্তি ব্যাননের দূর দৃষ্টিরই প্রমাণ বহন করেন।

ব্যানন তাঁর মন্তব্যে বলেন, ‘পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে হেরে গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প জমানার শেষ হচ্ছে না।’

এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প পরেরবার প্রার্থী হতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানেও থাকবেন। কারণ, যে অবস্থায় তিনি রেখে যাচ্ছেন, তা থেকে দেশকে তুলে আনাটা বাইডেনের পক্ষে ভীষণ কঠিন। কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া দেশটিতে বাইডেন কাজ করবেন। আর এগুলো মোকাবিলার সময় আবার তাঁকে ট্রাম্প নির্মিত বিভাজনের বাস্তবতার সঙ্গেও লড়তে হবে। রয়েছে আরও নানা সমীকরণ। বাইডেনের প্রতিটি হোঁচট খাওয়া ট্রাম্পকে জনপ্রিয় করবে। আর এবার যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলো, তাতে রিপাবলিকান সমর্থকেরা পরেরবার ট্রাম্প প্রার্থী হলে তাঁর ওপরই আস্থা রাখতে পারেন। ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ের পথ খুলে যাবে। আইনি বাধা তো নেই-ই, তখন থাকবে না দলীয় কোনো বাধাও।

মন্তব্য পড়ুন 0