default-image

টুইটার ফেসবুকের পর এবার ইউটিউবও সাময়িকভাবে স্থগিত করল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চ্যানেল। এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল হামলায় উসকানি দেওয়ার মাধ্যমে ইউটিউবের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল হামলার পর থেকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। অধিকাংশ অনলাইন প্ল্যাটফর্মই ওই সহিংসতায় জড়িতদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির নীতি নেয়। একই সঙ্গে যারা সরাসরি সহিংসতায় যুক্ত ছিল বা এতে উসকানি দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে শুরু করে তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের চ্যানেল স্থগিত করল ইউটিউব। আগামী সাত দিনের জন্য এই চ্যানেলটিতে কোনো কিছু আপলোড করা বা এর মাধ্যমে কোনো ধরনের সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না বলে এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চ্যানেলটিতে থাকা বিভিন্ন ভিডিওর নিচে মন্তব্য করার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইউটিউব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া ওই বক্তব্য গতকাল মঙ্গলবার সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়। এর পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে এই চ্যানেলটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে। তা না করা হলে ইউটিউব বর্জনেরও হুমকি দেয় সংগঠনগুলো। এর পরপরই ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তাঁর চ্যানেলটি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

বিজ্ঞাপন
default-image
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়। এর পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে এই চ্যানেলটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে। তা না করা হলে ইউটিউব বর্জনেরও হুমকি দেয় সংগঠনগুলো। এর পরপরই ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তাঁর চ্যানেলটি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়

৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিতে তাঁর উগ্র সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে হামলা করে। ওই হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। শুরুতে টুইটার কর্তৃপক্ষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে এটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যাপারেও সতর্ক করে তারা। পরে ৮ জানুয়ারি ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা আসে টুইটারের কাছ থেকে। ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়ানোর আশঙ্কাতেই তারা এমন পদক্ষেপ নেয়। একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় ফেসবুকও। ৭ জানুয়ারি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি এরপরও এই প্ল্যাটফর্মে তিনি নিষিদ্ধ থাকতে পারেন বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ হয়ে ট্রাম্প নিজেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির ঘোষণা দেন। কিন্তু তাঁর জন্য আরও কিছু অপেক্ষা করছিল। কাছাকাছি সময়েই আমাজন ও গুগল তাদের অ্যাপ প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেয় আরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পারলার, যা ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এ তালিকায় এখন যুক্ত হলো ইউটিউবও।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন