default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে ‘সেভ আমেরিকা পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি-(পিএসি)’ গঠন করা হয়েছে গত নভেম্বরেই। এই কমিটি মূলত ট্রাম্পের পক্ষে তহবিল সংগ্রহে কাজ করছে। সে সময় ভোট জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নতুন মামলার ব্যয় চালাতে প্রায় ৩ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে নতুন কমিটি।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের গঠিত ‘সেভ আমেরিকা পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’র চলতি বছর সঞ্চিত আছে ৩ কোটি ১১ লাখ ডলার।

কংগ্রেসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সময়েও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সমর্থক আইনপ্রণেতাদের দিয়ে ফল পাল্টানো ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস চালান। ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের ওয়াশিংটনে জড়ো করেন। তাঁর উসকানিতে উগ্র সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে হামলা চালায়। এ হামলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

৬ জানুয়ারির তাণ্ডবের জের ধরে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করে। ১০ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। অভিশংসন প্রস্তাব সিনেটে পাঠানো হলে ১০০ জন সিনেট সদস্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার শপথ নেন। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মার্কিন সিনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের কাজ শুরু হওয়ার কথা। সিনেটে অভিশংসন দণ্ড কার্যকর হলে ট্রাম্প ভবিষ্যতে আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। প্রয়োজনীয় রিপাবলিকান সমর্থন না পেলে ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ড না হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

বিজ্ঞাপন
গত ৩ নভেম্বর মধ্য রাত থেকেই সেভ আমেরিকা পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয় ট্রাম্পের প্রচার। উদ্দেশ্য ছিল—এমন অ্যাকশন কমিটির মাধ্যমে তাঁর ইস্যুগুলো নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থীদের তিনি সহায়তা করতে পারবেন। ভোট কারচুপি বা ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে পারবেন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ নভেম্বর মধ্য রাত থেকেই সেভ আমেরিকা পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয় ট্রাম্পের প্রচার। উদ্দেশ্য ছিল—এমন অ্যাকশন কমিটির মাধ্যমে তাঁর ইস্যুগুলো নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থীদের তিনি সহায়তা করতে পারবেন। ভোট কারচুপি বা ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে পারবেন।

পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বজায় রাখতে পারবেন। তহবিল থেকে তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতার জন্য ব্যয় করতে পারবেন।

এই কমিটির সংগ্রহ করা অর্থ থেকে একটা অংশ গত বছর ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় দুই লাখ ডলার। ট্রাম্প চাইলে জমাকৃত অর্থ থেকে নির্বাচনে একই ইস্যুতে অন্য প্রার্থীদের সহায়তা করতে পারবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের সামনে এখন অভিশংসন আদালতের মামলা। মার্কিন সিনেটে অভিশংসন আদালতে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের জন্য আইনজীবী কমিটি গঠন করেছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি ওই আইনজীবী দল দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। তাঁরা আর ট্রাম্পের হয়ে মামলা লড়বেন না। সে সময় আইনজীবীদের কোনো ফি দেওয়া হয়নি এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফি দেওয়ার জন্য কোনো চুক্তিও করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে গত ৩১ জানুয়ারি ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন সিনেটে তাঁর অভিশংসনের বিষয়টি মোকাবিলা করতে ডেভিড শোয়েন ও ব্রুস এল ক্যাস্টর জুনিয়র নামের দুজন অ্যাটর্নি নিয়োগ পেয়েছেন। এখন এই মামলা লড়ার খরচও ট্রাম্প সেভ আমেরিকা পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির সঞ্চিত অর্থ থেকে ব্যয় করতে পারবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অ্যাকশন কমিটির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হলেও ট্রাম্পের প্রচার শিবির এই অর্থের বাইরে ব্যয় করেছে আরও অনেক বেশি। মামলা–মোকদ্দমার কাজে ইতিমধ্যে দুই ডজনের বেশি আইনি প্রতিষ্ঠানকে ৪৪ লাখ ডলারের বেশি দিয়েছেন।

গত বছরের শেষ ৩৯ দিনে সাধারণ বিজ্ঞাপনের পেছনে ৫০ লাখ ডলার, অনলাইন বিজ্ঞাপন বাবদ ৪৫ লাখ ডলার এবং খুদে বার্তার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বাবদ ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে ট্রাম্পের প্রচার শিবির।

সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের রাত পর্যন্ত এবং ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডবের দিন তহবিল চেয়ে ট্রাম্প ছয় শতাধিক ইমেইল ও ২২০টির বেশি খুদে বার্তা ডোনারদের কাছে পাঠিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৭ লাখ ডলার অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ লাখ ডলারের বেশি ঋণ রয়েছে তাদের। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ কমিটি যৌথভাবে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সঙ্গে তহবিল সংগ্রহ করেছিল। সব অ্যাকাউন্ট মিলে চলতি বছর তাদের সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ৫ কোটি ৯৮ লাখ ডলার।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন