default-image

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ গত মার্চের শেষের দিকে অনেকটা কমে এসেছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। হিলিক্স ল্যাব পরীক্ষা কোম্পানির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে দেশের টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি দিনে গড়ে ত্রিশ লাখের বেশি মানুষকে টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনার নতুন সংক্রমণের প্রবণতা এ বছরের প্রথম তিন মাস নিম্নমুখী ছিল। জানুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চের শেষে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

দেশে করোনার সংক্রমণ যখন বাড়ছে ঠিক সেই সময়ে কোনো কিছু বন্ধ না করে উল্টো সব খুলে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতাসহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আবার। এখন নতুন সংক্রমণ গত মার্চের চেয়ে ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

মিশিগান ইউনিভার্সিটির মহামারি বিশেষজ্ঞ এমিলি মার্টিন বলেন, এটি একটি খুবই জটিল পরিস্থিতি। কারণ আচরণে পরিবর্তন আসছে। ভাইরাসের আচরণেও রূপান্তর পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গত কয়েক সপ্তাহে হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে গেছে। বি.১. ১.৭ নামের করোনার নতুন ধরনটি আগের চেয়ে বেশি সংক্রামক। এটি মূলত যুক্তরাজ্যের ধরন। এখন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের নতুন সংক্রমণের ৭০ শতাংশই এই ধরনে সংক্রমিত বলে হেলিক্সের তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পাওয়া টিকাগুলো বি.১. ১.৭ এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা দেয়। দেশের সিংহভাগ জনসংখ্যা টিকা নিয়ে নিলে, এই নতুন ধরনের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, আগামী ১ মের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্ত বয়স্ক লোকজনের জন্য টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তবে এই সময়ের আগেই টিকা কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে দেখা যাচ্ছে। এখন ১৬ বছর বয়সীদেরও টিকা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

ফাইজারের তৈরি করোনাভাইরাসের (কোভিড ১৯) টিকা প্রয়োগ করার অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত শরীরে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম বলে ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী এই প্রতিষ্ঠান। মার্কিন বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজারের সঙ্গে এই টিকা তৈরিতে কাজ করছে জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বায়োএনটেক’।

গত সপ্তাহে ফাইজার ও বায়োটেক জানিয়েছে, ৪৪ হাজার মানুষের ওপর প্রয়োগ করা টিকার ফলাফল বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে শরীরে ছয় মাস পরেও ফাইজারের কার্যকর প্রতিরোধ রাখতে সক্ষম।

ফাইজার ও মর্ডানা জানিয়েছে, তাঁদের তৈরি টিকা করোনার ধরনের সংক্রমণেও কার্যকর বলে প্রমাণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক ডোজের জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাও নতুন ধরনে কার্যকর বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার থেকে ব্যাপক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আর ৫ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশের টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন