বিজ্ঞাপন
গৃহীত অনুদান বা ঋণ গ্রহণ করে কেউ যদি তা একই কাজে ব্যবহার না করে দূরের কোনো নগরীতে গিয়ে বাড়ি কেনেন, তাহলে বিপদেই পড়বেন।
সারওয়ার চৌধুরী, সিপিএ

২০২০ সালের মার্চ মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তবে মহামারি তাণ্ডব এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ২ জুন পর্যন্ত এ দেশে করোনায় প্রায় ছয় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে দেশটির অর্থনীতি এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দ্রুত। সর্বত্র চাঞ্চল্য লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সড়কের পাশের মুদির দোকান থেকে হোটেল–রেস্তোরাঁ আবার জমজমাট হয়ে উঠেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া সদর দরজা আবার খুলছেন মহাউৎসাহে।

নাগরিকেরা সরকারের প্রণোদনা পেয়েছেন। কর্মহীনরা বেকারভাতা পেয়ে যাচ্ছেন। নিম্ন ও মধ্য আয়ের লোকজন বর্ধিত খাদ্য সহযোগিতা পাচ্ছেন। স্বাস্থ্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে নাগরিকদের। যাদের স্বাস্থ্যবিমা নেই, তারাও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবনে আপাত স্বস্তি বিরাজ করছে বলেই অনেকে মনে করছেন। মহামারির কঠিন বাস্তবতা শুরুর পর অনেকের মনেই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা বিরাজ করছিল। এখন এই উৎকণ্ঠা থেকে মার্কিন জনসমাজকে বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। ঘুরে দাঁড়ানোর সময়ে জনসমাজ ও অর্থনীতিতে এ আত্মবিশ্বাস ফিরে আসাকে খুবই জরুরি মনে হচ্ছে।

স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মাধ্যমে মার্কিন সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রণোদনা ও নানা সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। এমন অনেক সুবিধা এখনো চলমান। ক্ষুদ্র হোটেল রেস্তোরাঁ, ফার্স্ট ফুডসহ সব ধরনের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অঙ্কের অনুদান/ঋণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পিপিপি ঋণ পেয়েছে। এসব ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ মওকুফ হতে পারে। অবশ্য পিপিপি ঋণ মওকুফ এমনি এমনি হবে না। গ্রহীতাকে ঋণ মওকুফের জন্য আবেদন করতে হবে। একইভাবে সতর্কভাবে সহজ শর্তে দেওয়া ঋণের ব্যবহার করতে হবে।

মহামারির জরুরি সময়ে অনেকেই অনুদান বা ঋণ নিয়েছেন ‘ডকু সাইন’–এর মাধ্যমে। স্বাক্ষর করা এসব কাগজে কঠিন সব শর্তের কথা অনেকেই ভালো করে পড়ে দেখেননি এবং সে অনুযায়ী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার প্রস্তুতি নেননি। এসব সুযোগ গ্রহীতাকে ভবিষ্যতে বেশ বিপদে পড়তে হবে বলে মনে করছেন পেশাজীবীরা।

পিপিপি ঋণ বা ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন (ইআইডিএল) গ্রহণকারীদের সরকারি অর্থ ব্যয় করার জন্য যে খাতে ঋণ নিয়েছেন, সেই খাতে সুনির্দিষ্ট নিয়মে তা ব্যবহারের প্রমাণ রাখতে হবে। এ নিয়ে কথা হয় নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনসমাজের পরিচিত মুখ সিপিএ সারওয়ার চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেকেই ট্যাক্সি বা উবার চালানোর কাজ করেন। স্বপরিচালিত ব্যবসা বিবেচনা করে, এর জন্যও এসবিএ ঋণ দেওয়া হয়েছে।

সারওয়ার চৌধুরী বলেন, গৃহীত অনুদান বা ঋণ গ্রহণ করে কেউ যদি তা একই কাজে ব্যবহার না করে দূরের কোনো নগরীতে গিয়ে বাড়ি কেনেন, তাহলে বিপদেই পড়বেন। কারণ, নগদে এসব বাড়ি কেনার অর্থের উৎস খোঁজ করলেই সহজে বের করা যাবে এসবিএ ঋণ বা অনুদানের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না।

সারওয়ার বলেন, পিপিপি ঋণ যারা গ্রহণ করেছেন, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মওকুফের আবেদন করতে হবে। মওকুফের আবেদনের নিয়মাবলি অনুসরণ ও নথিপত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করা নিশ্চিত করতে হবে। এ নিয়ে ঋণ গ্রহীতাদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এসবিএ ঋণ গ্রহীতাদের জন্য আরেকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ২৫ হাজার ডলারের বেশি অঙ্কের ঋণের জন্য ঋণগ্রহীতা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। ব্যবসার নামে ঋণ গ্রহণ করা হলে ব্যক্তিগত দায়দায়িত্বের সম্মতিপত্রে সবাইকে স্বাক্ষর করে ঋণ গ্রহণ করতে হয়েছে। ফলে এ নিয়েও ঋণ গ্রহীতাদের সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পেশাজীবীরা।

নিউইয়র্কের আয়কর পেশাজীবী মোহাম্মদ এ হাশেম বলেন, ফেডারেল অর্থ মার্কিন জনগণের কর থেকে আসা অর্থ। এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এর মধ্যেই ফেডারেল নানা সংস্থা তদন্তে নেমে পড়েছে। এর মধ্যে ভুয়া তথ্য দিয়ে পিপিপি ঋণ নেওয়ার অভিযোগে বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এর মধ্যেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।

যারা সব নিয়ম মেনে সহজেই অর্থ সংগ্রহ করেছেন, তাদের এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে বলা হচ্ছে। মহামারির জরুরি অবস্থার মধ্যে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ঠিকই। তবে এসব অর্থের প্রাপ্তি ও ব্যবহারে কোনো গরমিল বা মিথ্যার আশ্রয় নিলে কঠিন আইনগত সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই এই অর্থ ব্যয়ে সতর্ক থাকতে সবার প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন এ খাতের পেশাজীবীরা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন