default-image

শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উৎসবের আমেজ। উচ্ছ্বাস-আনন্দে মেতে উঠেছে ট্রাম্পবিরোধী জনতা। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম, রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে দেশের বড় বড় নগরে সপ্তাহান্তের রাত উৎসবের রাত হয়ে উঠেছে। লোকজন দল বেঁধে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তৃতা শুনেছে। যারা গত চার বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন নিয়ে ক্ষুব্ধ, তারা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র আবার সত্যিকারের মহীয়ান রাষ্ট্র হয়ে উঠবে। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তশালী, সবচেয়ে মানবিক ও সহনশীল দেশ হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হবে জো বাইডেন আর কমলা হ্যারিসের নেতৃত্বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এমন হয়নি। ফলে চিরচেনা বিজয় বক্তৃতা আর পরাজিত প্রার্থীর পরাজয় মেনে নেওয়ার বক্তৃতা লোকজন শুনতে পায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় মেনে নেননি এখনো। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটেনি। রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়ে কোন বক্তৃতা এখনো দেওয়া হয়নি। ফলে মানুষের উৎসব-আনন্দও অনেকটা বিভেদের। রিপাবলিকান শিবিরে চলছে রহস্যময় নীরবতা। ট্রাম্প সমর্থকেরা মনে লালন করছে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। নিউইয়র্কে শনিবার রাতে ট্রাম্প সমর্থকদের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। মাঝমধ্যে কোথাও সমর্থকেরা জড়ো হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভালোবাসার কথা জানাচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের উৎসব-আনন্দের মধ্যে জনতার ঐক্য অনুপস্থিত। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তাদের ঐতিহাসিক বক্তৃতায় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের সারিয়ে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

গত কয়েক সপ্তাহের জাঁকালো শীত শেষে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের নগরগুলোর তাপমাত্রা বেশ উষ্ণ ছিল। হাজারো মানুষকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায়। বারে রেস্তোরাঁয় শ্যাম্পেন আর উচ্চ আওয়াজে মিউজিক চলছিল। এমন চিত্র উদারনৈতিক এলাকাগুলোতে।

বাংলাদেশি প্রবাসীবহুল নিউইয়র্কের ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কসে প্রবাসীরা নিজেদের মতো আনন্দ–উল্লাস করেছেন। অনেকেই টাইম স্কয়ারে সম্মিলিত আনন্দ–উৎসবে যোগ দিতে ছুটে গেছেন। ডেলাওয়্যার রাজ্যের উইলমিংটন নগরে ছুটে গেছেন বেশ কিছু বাংলাদেশি। শনিবার সকালেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস বক্তৃতা দেবেন। নিউইয়র্কে থেকে বেশ কিছু প্রবাসী এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে সরাসরি উইলমিংটন নগরে ছুটে যান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের নানা প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ এখনো বিশ্বাস করছে, ভোট গণনায় জালিয়াতি হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে শনিবার দিনভর উৎফুল্ল জনতার ঢল দেখা গেছে। হোয়াইট হাউসের কাছেই একদল ট্রাম্প সমর্থককে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে ট্রাম্প সমর্থকেরা সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ পেপার স্প্রে ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কিছু রাজ্য ও এলাকায় ট্রাম্প সমর্থকদের এমন বিচ্ছিন্ন সমাবেশ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

প্রথা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিজয়ী প্রার্থীকে বেশ দ্রুততার সঙ্গে অভিনন্দন জানিয়ে থাকেন। এ প্রথারও লঙ্ঘন দেখা যাচ্ছে এবার। এখনো রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানাননি। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন, সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা সিনেটর মিচ ম্যাককনেল শনিবার তা স্বীকার করতে রাজি হননি। রিপাবলিকান দলের কোন কোন নেতা প্রকাশ্যেই বলছেন, নির্বাচন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফলকে ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কোন অস্ত্র রিপাবলিকানদের হাতে আছে বলে তারা মনে করেন না।

মন্তব্য পড়ুন 0