default-image

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে ট্রাম্প নাকি বাইডেনকে ভোট দেবেন—এ নিয়ে মানুষের মনস্থির করা প্রায় শেষ। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য জনমতে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। আর সমর্থকদের উদ্দীপনায় এগিয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রথম নির্বাচনী বিতর্ক ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের দিকে তাকিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিমনস্ক লোকজন। গত সপ্তাহান্তে একজন বিচারপতির মৃত্যু দেশটির রাজনীতির বিতর্ককে অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও আগাম ধারণা করা এখন দুরূহ হয়ে উঠেছে।

ধরে নেওয়া হয়েছিল, ২৯ সেপ্টেম্বর দুই প্রার্থীর সরাসরি বিতর্কের ফলাফলের পর নির্বাচনী আলোচনা বাঁক নিতে পারে। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রুথ গিন্সবার্গের মৃত্যু এ ধারণাকে পালটে দিয়েছে। সামাজিকভাবে উদারনৈতিক ও রক্ষণশীল ধারণায় বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রের জনমত এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

উদারনৈতিক লোকজন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জটিল সমাজব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে বিরাট ভূমিকা রেখে আসছে। নারী অধিকার থেকে শুরু করে নাগরিক অধিকারের আধুনিক ধারণা সুপ্রিম কোর্ট বারবার সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছে। সমকামিতা, ব্যক্তিগত অধিকার, গর্ভপাত, বিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টকেই মানুষ শেষ ভরসা হিসেবে মনে করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দফা ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাঁর একের পর এক নানা বিদ্বেষমূলক নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্ট রুখে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সুপ্রিম কোর্টে নতুন বিচারপতি নিয়োগের সাংবিধানিক অবস্থান ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে যা সম্ভব হয়নি, তাই করে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অল্প বয়সের কোনো বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে তিনি আগামী তিন দশক রক্ষণশীলদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন। এ নিয়ে রক্ষণশীলদের মধ্যে উদ্দীপনার সঞ্চার হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ দলটিকে উদ্দীপ্ত করতে ঘোষণা দিয়েছেন। ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি নতুন বিচারপতির নাম ঘোষণা করবেন।

নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল শ্বেতাঙ্গরা সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের অনিরাপদ মনে করেছিল। অভিবাসীদের ব্যাপক আগমনে দেশটিতে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের অবসান ঘটবে, এমন তথ্য উঠে এসেছে। নিজেদের অস্তিত্বের চিন্তায় মুষড়ে পড়া এ দলটির ভরসাস্থল হয়ে উঠেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিচারপতি নিয়োগের সুযোগে এ পক্ষকে আরও উদ্দীপ্ত করা এবং নিজের পক্ষে টেনে নেওয়ার কাজটি দক্ষতার সঙ্গেই করে যাচ্ছেন তিনি। অপরদিকে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের উদারনৈতিক মূল্যবোধের প্রবক্তা হিসেবে দেশের সাধারণ বিবেকবান মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন। মধ্যপন্থী লোকজনও চায় না ক্ষমতা কোথাও কেন্দ্রীভূত হোক। এ দলটি আসছে ৩ নভেম্বরে তাদের উদারনৈতিক অবস্থানের জন্যই জো বাইডেনকে ভোট প্রদান করবে। এর মাধ্যমে তারা জানান দেবে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও রক্ষণশীলতা পরিহার করা হোক। ঢালাওভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন রক্ষণশীল দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস দেখা গেলেও অধিকাংশ মানুষ এখনো উদারনৈতিক। এখনো কোনো কৃষ্ণাঙ্গের অধিকারের দাবির মিছিলে শ্বেতাঙ্গ যুব-তরুণদের প্রাধান্য দেখা যায়। এ পক্ষ দেশটির ভাবাদর্শ সমুন্নত রাখার জন্যই আসছে নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনকে ভোট দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

মনে করা হচ্ছে, জো বাইডেনের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বরের বিতর্কটি খুবই জরুরি। এ বিতর্কে লাগামহীন কথা বলায় অভ্যস্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মোকাবিলায় তাঁকে দক্ষতা দেখাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজ্যগুলোতে হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে এখনো বাইডেনকে নিয়ে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে খোদ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও কথাবার্তা চলছে। ফ্লোরিডা, অ্যারিজোনাসহ নির্বাচনী মাঠে হিস্পানিক ভোটাররা এখন অন্যতম শক্তি। এ দলটির মধ্যে আসছে পাঁচ সপ্তাহে কতটা উদ্দীপনা নিয়ে আসবেন জো বাইডেন, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছুই।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে গোঁড়া সমর্থকদের চেয়ে তাঁর ওপর বিরক্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। ট্রাম্পের নিজের কারণেই এমন অবস্থা। কোভিড-১৯ সামালে তাঁর ব্যর্থতা নিজে স্বীকার না করলেও, তিনি যে দেশের প্রেসিডেন্ট সেই দেশে দুই লাখের বেশি মানুষ এর মধ্যেই মারা গেছে। ভ্যাকসিন নিয়ে নাটকীয়তা চলছে, দেশে বেকারত্ব এখনো ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী এক বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে না।

মহামারির এ সময়েও যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক সহিংসতা বেড়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে। নাগরিক আন্দোলন চাঙা হয়েছে। এমনকি ২২ সেপ্টেম্বর কেনটাকিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী ব্রিয়ানা টেলরের মৃত্যুতে অভিযোগ গঠনের প্রতিবাদে আবারও নাগরিক আন্দোলন ফুঁসে উঠেছে। এসবকে ট্রাম্প অন্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেও সবই ঘটছে তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে। এ নিয়ে ভোটের দিন তাঁকে মূল্য দিতে হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

জো বাইডেনের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বরের বিতর্কটি খুবই জরুরি। এ বিতর্কে লাগামহীন কথা বলায় অভ্যস্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মোকাবিলায় তাঁকে দক্ষতা দেখাতে হবে
বিজ্ঞাপন
ফ্লোরিডা ও অ্যারিজোনার ভোটারদের মধ্যে জনমত জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অর্থনীতি সামাল দেওয়ার যোগ্য মানুষ মনে করে ৫৪ থেকে ৫৭ শতাংশ মানুষ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এত সব শক্তিশালী ট্রাম্প কার্ডের পরও ইতিহাস তাঁর পক্ষে। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টদের পুনর্নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসার নজিরই বেশি। সাধারণ জনমতে পিছিয়ে থাকলেও কোনো কোনো রাজ্যে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত ঘুরে দাঁড়ানো ডেমোক্র্যাটদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্লোরিডা ও অ্যারিজোনার ভোটারদের মধ্যে জনমত জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অর্থনীতি সামাল দেওয়ার যোগ্য মানুষ মনে করে ৫৪ থেকে ৫৭ শতাংশ মানুষ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ঘোষণা না করে, তলে তলে সমর্থন করা লোকজনও কম নয়। এ দলটি প্রকাশ্যে নিজেদের ট্রাম্পের সঙ্গে না জড়ালেও তাঁর সমর্থক। এ সমর্থকদের মধ্যে বাইরে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। তবে এঁরা ভোটের বাক্সে ঠিকই ট্রাম্পকে ভোট দেবেন।

ফ্লোরিডা ও অ্যারিজোনার মতো রাজ্যে হিস্পানিক ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে মরিয়া হয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো নিজেদের প্রতি নিবেদিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছাড়া জনমতে এগিয়ে থাকলেও জো বাইডেনের নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন বলে তাঁর সমর্থকদের মধ্যেই ভাবনা শুরু হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0