default-image

প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশের পর নিউইয়র্ক নগরে মানুষ যেভাবে উল্লাস করেছে, তাতে নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সেভাবে স্বাগত জানানো হবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটা জানেন। এ কারণেই তিনি তাঁর আবাস বদলে ফ্লোরিডায় চলে গেছেন। কিন্তু মুশকিল হয়েছে তাঁর মেয়ে ইভানকা ও তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনারের। হোয়াইট হাউসের পাট চুকানোর পর তাঁদের তো নিউইয়র্কেই ফিরে আসার কথা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনে ট্রাম্প আর তাঁর পরিবারের দিন ফুরিয়ে আসছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা পার হওয়ার পর ট্রাম্প-তনয়া ও তাঁর বরকে ম্যানহাটনে যদি ফিরতে হয়, তবে সেখানে তাঁরা কেমন অভ্যর্থনা পাবেন। রাজনৈতিক পাদপ্রদীপ থেকে সরে গেলে নিজেদের ব্র্যান্ড ইমেজের কী হবে—এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

নিউইয়র্ক নিয়ে প্রেসিডেন্ট অনেক জঘন্য ও বিভাজনমূলক কথা বলেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে এটি দুঃস্বপ্নের মতো এবং সারগর্ভহীন। এখানকার কেউ এ কথা ভুলবে না।
জিল কার্গম্যান, লেখক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ

এই জুটির ঘনিষ্ঠ ছিলেন নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডের বাসিন্দা, লেখক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ জিল কার্গম্যান। এ বিষয়ে কার্গম্যান সিএনএনকে বলেন, ‘নিউইয়র্ক নিয়ে প্রেসিডেন্ট অনেক জঘন্য ও বিভাজনমূলক কথা বলেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে এটি দুঃস্বপ্নের মতো এবং সারগর্ভহীন। এখানকার কেউ এ কথা ভুলবে না।’

হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প, জ্যারেড কুশনার ও ইভানকা ট্রাম্প নিউইয়র্কে নিজেদের ব্র্যান্ড নিয়ে বেশ একটা অবস্থানে ছিলেন। মেট গালা, ভ্যানিটি ফেয়ার পার্টিসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের মানুষ ইভানকাকে এমনকি র‌্যাম্পেও হাঁটতে দেখেছেন। বিভিন্ন প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে এই পরিবার আলোচনায় ছিল প্রায় সময়ই। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির চার বছরে এসবের অনেক কিছুই বদলে গেছে। ফলে এখন তাঁরা নিউইয়র্কে ফিরলে আগের মতো আর কোনো কিছু না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কে তাঁদের অভ্যর্থনা কেমন হতে পারে, তার একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে নির্বাচনী প্রচারকালে স্থাপিত বিভিন্ন বিলবোর্ড থেকে। সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক। শহর হিসেবেও নিউইয়র্কের মতো এত মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো শহর দেখেনি। এ অবস্থায় এক মাস আগে নির্বাচনী প্রচারের সময় টাইমস স্কয়ারে প্রদর্শিত এক বিলবোর্ডে ইভানকা ও জ্যারেড কুশনারের হাস্যোজ্জ্বল ছবির পাশে যখন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না নিউইয়র্কে তাঁদের কীভাবে স্বাগত জানানো হবে।

হ্যাঁ, এটা সত্য যে, ইভানকা-কুশনার দম্পতির নিউইয়র্কেই থাকতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু তাঁরা তো এখানেই ফিরতে চান। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, হোয়াইট হাউসের পাট চুকিয়ে এই দম্পতি নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টেই ফিরতে চান। আবার নিউজার্সিও তাঁদের পছন্দ বলে জানিয়েছেন তাঁদের ঘনিষ্ঠ আরেক কর্মকর্তা।

আবার অন্য দুটি সূত্র বলছে, ফ্লোরিডাকে নিজেদের পরবর্তী আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিতে পারেন ইভানকা-কুশনার দম্পতি। এবার ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ইভানকা ফ্লোরিডা সফর করেছেন পাঁচবার। সেখানকার রিপাবলিকান অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় তাঁরা বসত গড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে পাম বিচ, মায়ামি ও সারারোটার নাম উঠে আসছে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে।

কিন্তু এ সবই সম্ভাবনা। সিএনএন জানায়, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে এবং ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ইভানকা-কুশনার দম্পতির ম্যানহাটনে ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। এমনকি এখানে তাঁরা তেমন উষ্ণ অভ্যর্থনা না পেলেও তাঁরা ফিরতে পারেন বলে মনে করে সূত্রগুলো।

অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নানা মামলার ঝক্কি। এসব মামলার অধিকাংশই আবার আর্থিক বিষয় সম্পর্কিত। ফলে ইভানকা-কুশনার দম্পতির পক্ষে নিজেদের পরবর্তী আবাসস্থল নির্ধারণটা খুব একটা সহজ হবে না। অন্তত নিউইয়র্ক ফেরার ইচ্ছাকে মূল্য দিতে গেলে তাঁদের বড় সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

ইভানকা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনার উভয়েই নিজেদের পারিবারিক ব্যবসায় মনোযোগ দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইভানকা ট্রাম্প ও কুশনার কোম্পানিজের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের মুখপাত্রের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন সিএনএনকে।

ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসার আগে জ্যারেড কুশনার তাঁর বাবা চার্লস কুশনার প্রতিষ্ঠিত কুশনার কোম্পানিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টার ভূমিকা থেকে জ্যারেড কুশনার এই পারিবারিক ব্যবসায় ফিরে আসুন—এটাই চাইবেন তাঁর বাবা। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক ব্যবসায়েও বড় সুবিধা হবে। কারণ, গত চার বছরে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে কুশনার যেসব সংযোগ তৈরি করেছেন, তা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বাড়ানো যাবে।

ইভানকা ট্রাম্পও ওয়াশিংটনে যাওয়ার আগে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনে নিজের পদ ছেড়ে যান। যদিও ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করেছিলেন তিনি। পারিবারিক এই ব্যবসা থেকে তাঁর কিছু স্থির আয় ছিল। ২০১৯ সালে শুধু ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ৩৯ লাখ ডলার। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন ব্যবসা থেকে তিনি নিয়মিত বড় অঙ্কের আয় করেন।

ইভানকা ও কুশনারের এই আর্থিক বিষয়াদি তাঁদের পরবর্তী মোকাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া রয়েছে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নানা মামলার ঝক্কি। এসব মামলার অধিকাংশই আবার আর্থিক বিষয় সম্পর্কিত। ফলে ইভানকা-কুশনার দম্পতির পক্ষে নিজেদের পরবর্তী আবাসস্থল নির্ধারণটা খুব একটা সহজ হবে না। অন্তত নিউইয়র্ক ফেরার ইচ্ছাকে মূল্য দিতে গেলে তাঁদের বড় সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0