বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে সার্বজনীন ন্যূনতম আয় বাস্তবায়নের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে মহামারি শুরু হওয়ার পরই মার্কিন নাগরিকদের জনপ্রতি ১ হাজার ২০০ ডলারের নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস পর আরেক দফায় জনপ্রতি ৬০০ ডলার করে নগদ প্রদান করা হয়। সে সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায়। গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর আরেক দফায় জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ ডলার নগদ অর্থ প্রদান করায় যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোয় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধশতাধিক নগরীর মেয়র নাগরিকদের ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করার জন্য জোটবদ্ধ হয়েছেন। মেয়রস ফর গ্যারান্টেড ইনকাম (এমজিআই) নামে একটি কোয়ালিশন গঠন করে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা চলছে। বিখ্যাত মার্কিন মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বাণী দিয়ে উন্মুক্ত হয়েছে ‘মেয়রসফরএজিআই’ নামের ওয়েবসাইটটি। মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন, দারিদ্র্য দূর করতে রাষ্ট্রকে জনগণের আয় নিশ্চিত করতে হবে। এ প্রচারণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর জনগণের কাছে মাসিক নগদ অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে।

* এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় থাকা পরিবারে স্বস্তি আসবে * ৫০ টিরও বেশি নগরীর মেয়র এ নিয়ে জোটবদ্ধ হয়েছেন * ২০২০ সালের পর্যায়ে ফিরতে হলে আরও ৭৬ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজন

সার্বজনীন ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় থাকা পরিবারের মধ্যে স্বস্তি আসবে। খাদ্য সামগ্রী কেনা থেকে বাসা ভাড়া—পর্যন্ত মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও দূর হবে। দারিদ্র্য নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা পাবে মার্কিন জনগণ। উদারনৈতিক আইন প্রণেতাদের মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ, ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত আয়ানা প্রিসলি এবং মিশিগান থেকে নির্বাচিত রাশিদা তালিব এ প্রস্তাবের সমর্থনে সোচ্চার হয়েছেন।

রাশিদা তালিব ২০১৯ সালেই কংগ্রেসে লাইফ প্লাস নামের একটি আইন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত তৎকালীন সিনেটর এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০১৮ সালে ওই আইন প্রস্তাবে বলেছিলেন, নিম্ন আয়ের লোকজনকে বছরে তিন হাজার ডলার করে সরকারি নগদ অনুদান প্রদান করা উচিত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে রাশিদা তালিব এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দুই থেকে চার হাজার ডলারের এমন বার্ষিক নগদ অনুদান নিম্ন আয়ের লোকজনের মধ্যে পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই অধিক সংখ্যক লোকজনকে এ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হোক।’

অবশ্য এ প্রস্তাবের বিরোধিতাকারীরা বলছেন, সরকারের কাছে নগদ অর্থ পাওয়া লোকজন পরনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সরকারের তরফ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা পাওয়া অনেকেই কাজের সন্ধান করেন না বা কাজের জন্য উদ্যমী হন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় কাজের জন্য এখন লোক পাওয়া যাচ্ছে না। বেকার ভাতার মেয়াদ বৃদ্ধি করার ফলে অনেকেই কাজে না গিয়ে বেকার ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ব্যবসায়ীদের অনেকের আশঙ্কা, এসব কর্মহীনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ আর কখনোই কাজে ফিরবে না।

গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৫ লাখ ৫৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হয়েছিল সে সময়। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসের আগের অবস্থায়, অর্থাৎ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর্যায়ে ফিরতে হলে যুক্তরাষ্ট্রে আরও ৭৬ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজন।

সার্বজনীন ন্যূনতম আয় প্রস্তাবের বিরোধিতা করে রক্ষণশীলরা বলছে, এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চবিত্ত শ্রেণির ওপর করের বোঝা বাড়বে। তারা মনে করেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জিনিসপত্র ও আবাসনের দাম বেড়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারিতে প্রায় ছয় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মহামারি ঠেকাতে বিধিনিষেধ আরোপসহ নানা পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এর ফলে যে ধাক্কা এসেছে, তা মোকাবিলা করে এখন দেশটির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তাঁর অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি চালু হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। অর্থনৈতিক চাপে থাকা দেশের লোকজনের পাশে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সরকার থাকবে বলে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন