default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হয়েও হচ্ছে না। পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, অ্যারিজোনা, নেভাদা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ভোট গণনা এখনো শেষ হয়নি। বাকি রয়েছে আলাস্কাতেও। তবে সেখানে রিপাবলিকান দলের ভিত ঐতিহাসিকভাবেই শক্ত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ এগিয়ে থাকায় ফল নিয়ে কোনো সংশয় নেই। বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোতে এখন ডাকযোগে ভোট গণনা চলছে। এর সঙ্গে প্রভিশনাল ব্যালট নামে পরিচিত আপৎকালীন ব্যালট গণনা চলছে। সবকিছু ছাপিয়ে এই ব্যালটগুলোই এখন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এগুলোর গণনা নিয়ে আপত্তি তুলছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, পেনসিলভানিয়ায় এখন পর্যন্ত মোট সম্ভাব্য ভোটের ৯৬ শতাংশ গণনা হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ৪৯ দশমিক ৫ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। বাইডেন ট্রাম্প থেকে ১৯ হাজার ৫৮৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

এই অবস্থায় অঙ্গরাজ্যটিতে নির্বাচনের দিন ৩ নভেম্বরের পর পড়া সব ভোট গণনা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখানে বলা প্রয়োজন যে, এক সময় অঙ্গরাজ্যটিতে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ডাকযোগে আসা ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর বাইডেন তাঁর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে থাকেন। সে সময় থেকেই তিনি এ দাবি করে আসছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটির সেক্রেটারি অব স্টেট ৩ নভেম্বরের পর জমা পড়া সব ভোট আলাদা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব ভোট পৃথকভাবে গণনার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই নির্দেশ আবার মেনে চলার জন্য ৭ নভেম্বর শুক্রবার রাতে আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক স্যামুয়েল অ্যালিটো।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে চাইলে দরকারি সব তথ্য দিতে না পারলেও তাঁকে প্রভিশনাল ব্যালট বা বিশেষ আপৎকালীন ব্যালট দেওয়া হয়। ভোটার সেই ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা নির্বাচন কর্মকর্তারা আলাদা করে রাখেন। পরে মার্কিন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাইয়ের পর তাঁর দেওয়া ওই ভোট গণনায় নেওয়া হয়

ফলে পেনসিলভানিয়ার পরিস্থিতি বেশ জটিল বলতে হবে। এই যখন অবস্থা, তখন অঙ্গরাজ্যটির ফিলাডেলফিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে এখনো প্রায় ২০ হাজার ডাকযোগে ভোট গণনা বাকি রয়েছে। এই ব্যালটগুলো আবার ত্রুটিপূর্ণ। কোনোটিতে হয়তো ভোটারের স্বাক্ষর নেই, ব্যালটের যেখানে ভোটদানের তারিখ লেখার কথা সেখানে হয়তো ভোটার তাঁর জন্মতারিখ লিখেছেন, বা কেউ হয়তো তারিখের ঘরটি ফাঁকাই রেখে দিয়েছেন, কোনোটি আবার হয়তো কিছুটা নষ্ট হয়েছে—এমন নানা ত্রুটি রয়ে গেছে এসব ব্যালটে। ফলে এই ব্যালটগুলো যাচাই করে দেখতে হচ্ছে নির্বাচন কর্মকর্তাদের।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, এই ফিলাডেলফিয়াতেই গণনা বাকি রয়েছে অন্তত ২ লাখ ৫০ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজারের মতো প্রভিশনাল ব্যালট, যেগুলো ভোটারেরা সরাসরি জমা করেছিলেন। এই ব্যালটগুলোও যাচাই করতে হচ্ছে।

এই পর্যায়ে এই প্রভিশনাল ব্যালট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবির। কথা হলো প্রভিশনাল ব্যালট আদতে কী?

সিএনএন জানায়, ভোটকেন্দ্রে আসা ভোটারদের কেউ যদি নিজেদের পরিচয়পত্র ছেড়ে আসেন, বা দরকারি অন্য কোনো তথ্য দিতে না পারেন তবে, তাঁকে এই ব্যালট দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে চাইলে তাঁকে ব্যালট দেওয়া হয়। দরকারি সব তথ্য দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে দেওয়া হয় এই বিশেষ আপৎকালীন ব্যালট। ভোটার সেই ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা নির্বাচন কর্মকর্তারা আলাদা করে রাখেন। পরে নির্বাচন কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির ভোট দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছে কিনা, মার্কিন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করেন। যাচাইয়ে উতরে গেলে তাঁর দেওয়া ওই ভোট গণনায় নেওয়া হয়।

এখন এই ব্যালটগুলোর জন্যই মূলত ভোট গণনা বিলম্বিত হচ্ছে। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রচার শিবির ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলতে এই ব্যালটগুলোকেই এখন পাখির চোখ করেছেন।

এই প্রভিশনাল ব্যালটগুলো নিয়েই এখন সব আলোচনা। শুধু পেনসিলভানিয়া নয়, জর্জিয়াতেও গণনার বাইরে থাকা ব্যালটগুলোর একটি বড় অংশ প্রভিশনাল ব্যালট। জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টিতে ৩ হাজার ৯০০ ও ডিকাব কাউন্টিতে ১ হাজার ৬০০ প্রভিশনাল ব্যালটের খবর জানা গেছে। এ ছাড়া সিএনএনের তথ্যমতে, অঙ্গরাজ্যটির গিনেট কাউন্টিতে নতুন করে যে ৫৩৮টি ব্যালট গণনার জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৫৩৫টিই প্রভিশনাল ব্যালট। এগুলোর বাইরে রয়েছে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে আসা ব্যালটও।

একই বিষয় নর্থ ক্যারোলাইনা, নেভাদা ও অ্যারিজোনার ক্ষেত্রেও সত্য। এই তিন অঙ্গরাজ্যেও এখনো গণনার বাইরে থাকা ব্যালটগুলোর একটি বড় অংশ প্রভিশনাল ব্যালট। ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এই ব্যালটগুলো নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন। বিপরীতে শান্ত রয়েছে বাইডেন শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে বাইডেনের বক্তব্য রাখার কথা একবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি। নির্বাচনের কোনো জয়-পরাজয় নির্ধারণী ফল না এলে তিনি বক্তব্য রাখবেন কিনা তাও নিশ্চিত নয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0