আলোচনায় ইলেকটোরাল কলেজ

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদ্ধতি অন্য দেশগুলো থেকে আলাদা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের সরাসরি ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি দস্তুর হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়টি ভিন্ন। সরাসরি ভোটের হিসাব সেখানে খাটলে আজ হোয়াইট হাউসে বসে হিলারি ক্লিনটনের লড়ার কথা পুনর্নির্বাচনের জন্য। কিন্তু লড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তা লড়তে পারছেন ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নামের একটি বিষয় থাকার কারণেই। সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন নির্বাচন বিশ্লেষক ও পরিসংখ্যানবিদ নেট সিলভার টুইটারে একটি তালিকা পোস্ট করেছেন। সেখানে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ঠিক কত ভোট পেলে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন, তার একটি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সরাসরি ভোটের কথা ধরলে জো বাইডেন যে জয়ী হবেন, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে কেউই সন্দেহ পোষণ করছেন না। রিপাবলিকান দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন এমন একজন সম্প্রতি বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে সরাসরি ভোটে আমরা পরাজিত হব।’

ফলে মূল প্রশ্নটি সরাসরি ভোটের নয়। প্রশ্নটি ইলেকটোরাল ভোটের। আরও ভালো করে বললে, জো বাইডেন কি এবার সরাসরি ভোটে এমন ব্যবধানে জয়ী হতে পারবেন, যাতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট পান—এই প্রশ্নটিই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আগেই বলা হয়েছে, মার্কিন নির্বাচন অন্য দেশগুলোর নির্বাচনের মতো নয়। মার্কিন নির্বাচনে সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হলেও প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখতিয়ার তাদের হাতে নেই। তারা মূলত পছন্দের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচকমণ্ডলীকে নির্বাচিত করে। ইলেকটোরাল কলেজ নামের এই নির্বাচকমণ্ডলী প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কাজটি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটসংখ্যা ৫৩৮। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে এর ২৭০টি পেতে হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কথা বলা যায়। ২০১০ সালের সমঝোতা অনুযায়ী (এবারের নির্বাচনও এর ভিত্তিতেই হচ্ছে) সেখানে রয়েছে সর্বোচ্চ ৫৫টি ইলেকটোরাল ভোট। আবার আলাস্কা, সাউথ ডাকোটা, ভারমন্টের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিটিতে রয়েছে ৩টি করে ইলেকটোরাল ভোট। কথা হলো, একেক অঙ্গরাজ্যের জন্য এই একেকসংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট কী করে নির্ধারিত হয়?

কোন অঙ্গরাজ্যে কত ইলেকটোরাল ভোট থাকবে, তা নির্ধারিত হয় সেখানে কতটি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট রয়েছে, তার মাধ্যমে। প্রতিটি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের জন্য একটি করে ভোট এবং দুজন সিনেটরের জন্য দুটি ভোট বরাদ্দ থাকে। উদাহরণ হিসেবে আবারও ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে তাকানো যাক। অঙ্গরাজ্যে ৫৩টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট রয়েছে। অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর মতোই সেখানে রয়েছে ২টি সিনেট আসন। ফলে অঙ্গরাজ্যটির মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৫টি। তবে এই ভোট কিন্তু সিনেটর, নিম্নকক্ষের প্রতিনিধি, গভর্নর বা এমন কেউ দেবে না। এ জন্য একেবারে আলাদা একটি ভোটার দলকে নির্বাচন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইলেকটোরাল ভোটার দুধাপে ঠিক হয়। প্রথম ধাপটি দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে। সাধারণ নির্বাচনের আগে দুই দলের পক্ষ থেকে তাদের মনোনীত ইলেকটোরাল ভোটারের তালিকা জমা দেওয়া হয়, যাকে স্লেট বলে। সাধারণ নির্বাচনের সময় যখন সাধারণ ভোটারেরা প্রেসিডেন্টকে ভোট দেন, তখন তাঁরা মূলত ইলেকটোরাল ভোটার নির্বাচন করেন। অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জয়ী হন, তাঁর দলের স্লেটটিই ইলেকটোরাল ভোটার হিসেবে নির্বাচিত হয়। এ ক্ষেত্রে মেইন ও নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্য ব্যতিক্রম। এ দুই অঙ্গরাজ্যে আনুপাতিক হারে ইলেকটোরাল ভোটার বণ্টিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আসন্ন নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ায় যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, তবে রিপাবলিকান দলের পাঠানো ইলেকটোরাল ভোটার স্লেটটি নির্বাচিত হবে।

এই ইলেকটোরাল ভোটারেরা তখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটটি দেবেন। সাধারণ নির্বাচনের পর ডিসেম্বরের দ্বিতীয় বুধবারের পরের প্রথম সোমবার (এবার ১৪ ডিসেম্বর) এই ইলেকটোরাল ভোটারেরা সভায় বসবেন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নিজেদের ভোটটি আলাদা ব্যালটের মাধ্যমে দেবেন। পরবর্তী ৬ জানুয়ারি এই ভোট গণনার জন্য কংগ্রেস চেম্বারে সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিদ্যমান ভাইস প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সে সভায় ভোট গণনার পরই জানা যাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল।

পদ্ধতি এমন হলেও সাধারণ নির্বাচনের পরপরই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জয়ী প্রার্থীর পরিচয় থেকেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে অনুমান করা যায়। কারণ, সাধারণত দলগুলো এমন ব্যক্তিকেই ইলেকটোরাল ভোটার হিসেবে মনোনীত করেন, যারা দল ও প্রার্থীর ভীষণ অনুগত।

এই ইলেকটোরাল কলেজ নিয়েই এবার ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। গেলবারের আলোচনার কেন্দ্রেও ছিল এটিই। কারণ, এই পদ্ধতিতে বেশ কিছু অঙ্গরাজ্য অন্যগুলোর তুলনায় বেশি ক্ষমতা পায়। এর কারণে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, ইলিনয়, পেনসিলভানিয়া—এই ছয় অঙ্গরাজ্যের হাতেই রয়েছে ১৯১টি ইলেকটোরাল ভোট। ‘উইনার টেক ইট অল’ নীতির কারণে এই ছয় অঙ্গরাজ্য তাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০০ সালে জর্জ বুশের নির্বাচনে ফ্লোরিডার ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে হওয়া জটিলতার কথা এখনো মানুষ ভোলেনি। সে নির্বাচনে সরাসরি ভোটে জয়ী হয়েও ওভাল অফিসে বসতে পারেননি ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী আল গোর। আর গেলবারের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন তো এখনো ঘুরছেন দগদগে ঘা বুকে নিয়ে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ক্লিনটন প্রায় ৩০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। মোট ভোটের হিসেবে এটি ছিল ২ শতাংশের চেয়ে বেশি। অথচ তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে মাত্র ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন। ফলে ওই তিন অঙ্গরাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট তিনি হারিয়ে ফেলেন, যা তাঁর চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত করেছিল। ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের এই গোলমেলে হিসেব নিয়ে এখন আলোচনা জমে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন একটি পদ, যা সবার ভোটে নির্বাচিত হওয়া উচিত। অধিকাংশ ভোটারের সমর্থন তাঁর থাকা উচিত।

মার্কিন পরিসংখ্যানবিদ ও নির্বাচন বিশ্লেষক নেট সিলভার বলছেন, জো বাইডেন যদি আসন্ন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৭০ লাখের বেশি ভোটে পরাজিত করেন, তবে তিনি হয়তো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বলে ধরে নেওয়া যাবে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে এ ক্ষেত্রেও কতগুলো ইলেকটোরাল ভোট তিনি বাগে আনতে পারলেন, তার হিসাবে বসতে হবে। হ্যাঁ, এত বেশিসংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলে ইলেকটোরাল ভোটারদের ওপরও একটা চাপ তৈরি হবে। কিন্তু সে চাপ যে কার্যকর হবেই, তা বলা যায় না। আর এই ব্যবধান যদি কম হয়, তবে তাঁর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়াটা কঠিন হবে। তারপরও বর্তমান প্রবণতা বলছে ৪৫ লাখ বা তার বেশি ভোটে জয়ী হলে বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্টই। কিন্তু ১৫ লাখের মতো ব্যবধানে জয়ী হলে বাইডেনের প্রেসিডেন্সির কথা ভুলে যাওয়াই উচিত।

এবার এ বিষয়টি আলোচনায় বেশি আসছে পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়াই করা লোকটির নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেই। গত নির্বাচনে তিনি সরাসরি ভোটে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েও ওভাল অফিসে পৌঁছেছিলেন ইলেকটোরাল ভোটের জোরে। কিন্তু তারপরই সামনে এল একের পর এক কেলেঙ্কারি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি। এই একই বিষয় এবারও সামনে আসছে। রাশিয়ার সঙ্গে রয়েছে এবার চীনের নামও। এর সঙ্গে যখন গত চার বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভাজনের রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের ভূমিকা এবং হালের সহিংসতাকে মিলিয়ে নেওয়া হয়, তখন এই আলোচনার কারণটি সহজেই বোঝা যায়।

শুধু গত নির্বাচন কেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন আরও প্রেসিডেন্টের দেখা মিলবে, যারা সরাসরি ভোটে হারলেও ওভাল অফিসে বসেছিলেন। এ ক্ষেত্রে জন অ্যাডামস, বেঞ্জামিন হ্যারিসন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের নাম উল্লেখ করা যায়। এ তালিকায় সর্বশেষ ব্যক্তির নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবারই ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিয়ে আলোচনা উঠেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল গণতন্ত্রের মূলনীতি নিয়ে, যেখানে প্রতিটি ভোটকে সমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এর সংবিধানের ১২তম সংশোধনীর জোরে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিয়ে হালের এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি বিষয়। এক, এর মাধ্যমে অনেক ছোট অঙ্গরাজ্যকে অনেক বড় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দুই, অঙ্গরাজ্যে জয়ী ব্যক্তির দলই সব ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে নেয়। এই দ্বিতীয় নিয়মটিই সবচেয়ে ভয়াবহ, যা ৪৮টি অঙ্গরাজ্যই অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে অন্য প্রার্থীকে সমর্থন জানানো ভোটারদের একেবারে অগ্রাহ্য করা হয়। অঙ্গরাজ্য-প্রতি ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যাটি যেহেতু কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের সংখ্যা ও সিনেট প্রতিনিধিত্বের দ্বারা নির্ধারিত হয়, তাই বিষয়টি পুরোপুরি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট নির্ধারণের দ্বিদলীয় সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল। এটি নিয়ে অভিযোগ তোলার চেয়ে এর পুনর্বিন্যাসে জোর ভূমিকা রাখাটা বরং জরুরি। কিন্তু দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়ে ভাবাটা এখন সময়ের দাবি।

দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়ে এবারই যে প্রথম কথা উঠেছে, তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা জেমস ম্যাডিসন এই নিয়মটি নিয়ে ভীষণ বিব্রত ছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে এটিই ছিল ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পদ্ধতির মূল ত্রুটি। ১৮২৩ সালে লেখা এক চিঠিতে ম্যাডিসন বলেছিলেন, যেসব অঙ্গরাজ্য এই নিয়মটি অনুসরণ করে, তারা আদতে নিজেদের নাগরিকদের রাজনৈতিক বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে। তিনি এ জন্য একটি সংশোধনীর প্রস্তাবও রেখেছিলেন সে সময়। তা যে হয়নি, তা আজকের যুক্তরাষ্ট্র হাড়ে হাড়ে বুঝছে। এটি শুধু যে ডেমোক্র্যাটরা বুঝছে, তা নয়। রিপাবলিকানরাও এই কাতারে রয়েছে। কারণ তারা দেখছে, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে ধীরে ধীরে ডেমোক্র্যাট সমর্থন বাড়ছে, যা রিপাবলিকান ঘাঁটি নামেই পরিচিত। ফলে টেক্সাসের ৩৮টি ইলেকটোরাল ভোট রিপাবলিকান বাক্সেই ঢুকবে—এমন অবধারিত বিষয় আর অদূর ভবিষ্যতে থাকবে না। ফলে এ বিষয়টি ক্রমেই একটি বড় সংকট হয়ে উঠবে দ্বিদলীয় সমঝোতার ক্ষেত্রে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্যই ভয়াবহ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন