বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট সংকট থেকে উত্তরণ এখনো সময়ের ব্যাপার। এর মধ্যে মার্কিন পরিবারগুলো তাদের পাতে খাবার এবং ছাদের নিচে স্বস্তিতে বসবাসের দাবি রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন আইনপ্রণেতাদের রশি টানাটানি ও করুণার জন্য বসে থাকতে পারেন না বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের ৫৩ জন সদস্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বরাবরে দেওয়া আরেকটি চিঠিতে একই দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, অর্থনীতি চাঙা না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত নগদ প্রণোদনা এবং বেকারভাতা নিশ্চিত করতে পারলে বিপর্যস্ত অর্থনীতি দ্রুততার সঙ্গে চাঙা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমরসহ উদারনৈতিক আইনপ্রণেতারা। এ আবেদনে নাগরিক প্রণোদনা হিসেবে নগদ অর্থের উল্লেখ করা না হলেও পরে এক টুইট বার্তায় মাসে নগদ ২০০০ ডলারের নিয়মিত প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ নগদ প্রণোদনা মহামারি সৃষ্ট সংকট চলাকালীন পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

১৭ মে প্রতিনিধি পরিষদের হাউস অ্যান্ড মিনস কমিটির পক্ষ থেকেও নতুন করে নাগরিক প্রণোদনা দেওয়ার পক্ষে কথা বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা বলেছেন, সম্প্রতি দেওয়া নগদ ১৪০০ ডলারের প্রণোদনার ফলে এক কোটি ১০ লাখের বেশি আমেরিকানকে এ বছর দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করেছে। কর্মজীবীদের বেকারভাতার মেয়াদ পাঁচ মাসের জন্য বৃদ্ধি করায় আরও ৫০ লাখ কর্মজীবী চরম দারিদ্র্য অবস্থা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। আরেক দফা নগদ নাগরিক প্রণোদনা দেওয়া হলে আরও এক কোটি ২০ লাখ আমেরিকানকে চরম দারিদ্র্য অবস্থা থেকে এ বছরও রক্ষা করা সম্ভব বলে বলা হয়েছে।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের চার কোটি ৪০ লাখ লোকের চরম দরিদ্র অবস্থায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরেক দফা নাগরিক প্রণোদনা দেওয়া হলে সম্ভাব্য দরিদ্র অবস্থায় পড়তে যাওয়া লোকজনকে এক কোটি ৬০ লাখে নামিয়ে আসা সম্ভব বলে হাউস অ্যান্ড মিনস কমিটির সদস্যরা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ লোকজনও মনে করেন, অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত নাগরিক প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রাখা হোক। ‘ডাটা ফর প্রোগ্রেস’ নামের একটি সংস্থার জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ লোকজন মাসে ২০০০ ডলারের নগদ প্রণোদনা প্রাপ্তির পক্ষে। এ অভিমতের পক্ষে শুধু ডেমোক্র্যাটই নয়, রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র লোকজনেরও অভিমত প্রতিফলিত হয়েছে।

মার্কিন জীবনধারার অপরিহার্য অংশ রেস্টুরেন্ট ও পানশালা। মহামারির কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়া রেস্টুরেন্ট মালিকদের পক্ষ থেকেও মাসে ২০০০ ডলার করে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অনলাইনে করা এ আবেদনে এর মধ্যেই দুই কোটি ২০ লাখ লোকজন স্বাক্ষর করে দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়েছেন।

আরবান ইনস্টিটিউট নামের প্রভাবশালী মার্কিন প্রতিষ্ঠান বলছে, আরেকটি নাগরিক প্রণোদনা দেওয়া হলে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্য অবস্থা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব।

ফেডারেল নাগরিক প্রণোদনার জন্য আরেক দফা অপেক্ষা না করেই ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের গভর্নর তাঁদের রাজ্যের নাগরিকদের এর মধ্যেই পরিবার প্রতি ৬০০ ডলারের নগদ প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করেছেন। সম্প্রতি উপস্থাপিত রাজ্যের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাজেটে এ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রাজ্যের যেসব পরিবার বছরে ৩০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করবে, তাদের এ নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বা তাঁর প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো নাগরিক প্রণোদনা প্রদানের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য আসেনি। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মহামারিতে নাজুক হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে বলে উল্লেখ করলেও আরেক দফা নগদ নাগরিক প্রণোদনা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষিত আমেরিকান কর্ম পরিকল্পনা বা আমেরিকান পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির আওতায় এ ধরনের নগদ কোনো প্রণোদনা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এক বছরের বেশি সময় থেকে চলমান কোভিড-১৯ মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর দেশ যুক্তরাষ্ট্র। মহামারিতে কাবু হয়ে দেশের অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিক সহযোগিতা নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। তিন দফা নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

শিশু বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান আছে এমন পরিবারকে নিয়মিত মাসিক প্রণোদনা দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক হারে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ টিকা নিয়েছেন। ১২ বছরের বেশি বয়সীদের জন্যও টিকাদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সমন্বিত প্রয়াসের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা এখন সময়ের ব্যাপার। অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরে আসছে। আবাসন খাতে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। গৃহঋণের হার সর্বনিম্ন থাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়ি কিনছে। এক বছর আগেও সড়ক পাশে সারি সারি বাড়িতে ‘বিক্রয় হবে’ টাঙানো থাকলেও এখন কোনো কোনো নগরীতে কেনার জন্য আর বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে কর্মজীবীরা ধীরে ধীরে কাজে ফিরছেন। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করছেন।

সিনেটে অন্তত ১০ জন রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন না পাওয়া গেলে বড় কোনো অর্থ পরিকল্পনা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য। তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে অভিবাসন আইনের সংস্কার। এর মধ্যে নতুন নাগরিক প্রণোদনা নিয়ে মার্কিন সমাজে যে আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে উঠেছে, তা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে অর্থনৈতিক কারণে নাজুক হয়ে পড়া মার্কিন জনগণ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন