আমেরিকায় আদম শুমারি শুরু হচ্ছে চলতি মাসের মাঝামাঝি। সেন্সাস ব্যুরো থেকে লোক গণনার জন্য প্রত্যেক বাসায় পাঠানো হবে ফরম। ১ এপ্রিলের মধ্যে ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠাতে হবে। অনলাইনেও ফরম পূরণ করা যাবে। এ ছাড়া পরিবারের যেকোনো একজন অন্য সদস্যদের ফরমও পূরণ করে দিতে পারবেন।
১ এপ্রিলের মধ্যে কেউ ফরম পূরণ করে পাঠাতে ব্যর্থ হলে সেন্সাসের প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এরই মধ্যে আদম শুমারির কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন সরকার। লোকবলও নিয়োগ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এ দেশে বসবাসকারী মানুষ যাতে আদম শুমারিতে নাম লেখান, সে জন্যে সরকার জনগণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে নানা প্রচার চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছর পর পর এই আদমশুমারি হয়। জনসংখ্যার পরিমাণ, লিঙ্গ, বয়সসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই পরবর্তী ১০ বছরের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে বাজেট বরাদ্দের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। আদমশুমারিতে যাদের নাম আসবে না, সেই জনগোষ্ঠীর জন্য কোন বাজেট বরাদ্দ করা হয় না। ফলে যাদের নাম গণনায় থাকে তাদের জন্য কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা সুযোগ–সুবিধা ও বরাদ্দ থাকে। যাদের নাম থাকে না, তারাও অনেক সময় এতে ভাগ বসান। এতে যাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়, তারা পুরোপুরি সুবিধা পান না। ফলে কিছুটা সংকটও তৈরি হয়। তখন ঘাটতি দেখা দিলে, অন্য খাতের বাজেট কমিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়।
সেন্সাস ব্যুরো বলেছে, আমেরিকায় আদমশুমারির ক্ষেত্রে বয়স, ইমিগ্রেশন বা অভিবাসনের বৈধ নিয়ম অনুযায়ী এ দেশে বসবাসকারী কোনো নাগরিকের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা বা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কাউকে বৈষম্যের চোখে দেখা হয় না।

বৈধ কাগজপত্রহীন যারা আছেন, তাদেরও এই ফরম পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা বলেছেন, ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস কী, সেটা চিন্তা না করে তারা যেন আদমশুমারিতে নাম যুক্ত করেন।
আদমশুমারিতে যেসব প্রশ্ন রয়েছে তা হল—পরিবারের সদস্য সংখ্যা কতজন? নিজের বাড়িতে নাকি ভাড়া থাকেন? টেলিফোন নম্বর, পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জন্মতারিখ, জাতিগত পটভূমি, প্রভৃতি।
২০২০ সালে আদমশুমারি গণনায় নাগরিকত্ব ও ইমিগ্রেশন নিয়ে কোন প্রশ্ন করা হবে না। কীভাবে ফরম পূরণ করতে হবে, সে সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আদমশুমারিতে সরকারের কাছে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে বলে সেন্সাস জানিয়েছে। আদমশুমারির কোন কর্মী এই আইন লঙ্ঘন করলে তার পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হবে বা আড়াই লাখ ডলার জরিমানা করা হবে।
আদমশুমারিতে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে সেন্সাস ব্যুরো জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে অংশ নিলে পরবর্তী ১০ বছরের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবারের জন্য বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হবে। সবার জন্য চাকরির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা দেওয়া হবে। সাশ্রয়ী মূল্যে বাসাবাড়ির ব্যবস্থাও থাকবে। এ ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বেশি অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন