default-image

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সব উত্তেজনা এখন আটটি অঙ্গরাজ্য ঘিরে। এ আট রাজ্যের ফলের ওপরই নির্ভর করছে প্রার্থীর জয়-পরাজয়। আট রাজ্য ছাড়া দেশের অন্য রাজ্যগুলোতে তেমন কোনো নির্বাচনী উত্তেজনা নেই।

এসব এলাকায় টিভিতেও তেমন কোনো নির্বাচনী প্রচারের বিজ্ঞাপন নেই, নেই পোস্টারও। বার-রেস্তোরাঁয় নির্বাচন নয়, টিভিতে খেলার খবর দেখতেই ব্যস্ত মানুষ। তবে এসব এলাকায় যা চোখে পড়ে তা হলো, ডাক বিভাগের কর্মী ব্যাগ ভর্তি ব্যালট পেপার বিলি করছেন।

আর ২০ দিন পরেই নির্বাচন। নির্বাচনের সব উত্তেজনা আটটি রাজ্য ঘিরে। এসব রাজ্য চিহ্নিত করা হয়েছে নানা কারণে। বিবেচনার মধ্যে রয়েছে—রাজ্যে ভোট দেওয়ার হার, জন মিশ্রণের অনুপাত, অতীতের ভোট দানের গতি-প্রকৃতি এবং ভোটারদের পরিবর্তনশীল মনোভাব। নির্বাচনী প্রচার শিবিরগুলো এসব চিহ্নিত রাজ্যে অর্থ ব্যয় করছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, মিনেসোটা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন রাজ্যে জনমতে একটি ছাড়া সবগুলোতে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন। ওহাইওর মতো রাজ্যকেও কেউ গণনায় ধরছেন। ওহাইওতে কোনো কোনো জরিপে ট্রাম্প সামান্য এগিয়ে আছেন বলে দেখা যাচ্ছে।

প্রান্তিক যুক্তরাষ্ট্রের নারী ভোটারদের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প পিছিয়ে আছেন। যেসব প্রবীণ ভোটারদের আনুকূল্যে ২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিজয় সহজ হয়েছিল, এসব প্রবীণ শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের কাছে এবারে তাঁর জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকা বাড়তি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের মধ্যে জো বাইডেন তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন।

মার্কিন রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর মতে, এমন এগিয়ে থাকার পরও বলা যাবে না বাইডেন নিশ্চিত জয়ের পথে। আসছে ২০ দিনে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। এসব রাজ্যের মধ্যে সামান্য তারতম্য ঘটাতে পারলেও ফল যেকোনো দিকে ঝুঁকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না হয়ে শুধু জনমত প্রকাশ করলেই একজন প্রার্থীর জয় নিয়ে নিশ্চিত না হওয়ার কথাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বিজ্ঞাপন
default-image

উইসকনসিনে রিপাবলিকান দলের চেয়ারপারসন অ্যান্ড্রু হিট বলেন, প্রান্তিক আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে জরিপে অংশ নেওয়ার চেয়ে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়াকে গুরুত্বের বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রান্তিক আমেরিকার ট্রাম্প সমর্থকেরা ঠিকই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেবেন।

১১ ইলেকটোরাল ভোটের রাজ্য অ্যারিজোনা ট্রাম্পের জন্য জয় করে আসাটা জরুরি। দক্ষিণ-পশ্চিমের এ রাজ্যে রিপাবলিকানরা জয় পেয়েছে অতীতে। গত নির্বাচনে সহজেই জিতেছিলেন ট্রাম্প। ভোটের ফলে হিস্পানিক ভোট এ রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন জরিপে এ রাজ্যে এবারে বাইডেনকে অন্তত তিন পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

২৯টি ইলেকটোরাল ভোটের রাজ্য ফ্লোরিডায় গতবার ট্রাম্প জয় পেয়েছিলেন। বিপুলসংখ্যক বয়স্ক লোকের বসবাস করা এ রাজ্যে কিউবান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের ব্যাপক প্রভাব। কিউবান-আমেরিকানদের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প জনপ্রিয়। সম্প্রতি সবগুলো জরিপেই এ রাজ্যে বাইডেনকে দুই থেকে তিন পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ফ্লোরিডার বিপুলসংখ্যক ভোট ডাকযোগে আগাম দেওয়া হচ্ছে। আগাম ভোটেও ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার কথাই জানাচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।

১৬টি ইলেকটোরাল ভোটের রাজ্য জর্জিয়া রিপাবলিকান দলের রাজ্য হিসেবেই পরিচিত ছিল। প্রান্তিক জর্জিয়ায় বিপুলসংখ্যক বয়স্ক লোকজনের বাস। এ রাজ্যে পিছিয়ে পড়া কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী এবারের নির্বাচনে বেঁকে বসার আভাস দিচ্ছে। তবে এখানে জনমত জরিপে খুবই কাছাকাছি দেখা যাচ্ছে দুই প্রার্থীকে। কোনো কোনো জনমত জরিপে বাইডেন এক পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় ট্রাম্প শিবিরে এ রাজ্যের ফল নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
প্রান্তিক আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে জরিপে অংশ নেওয়ার চেয়ে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়াকে গুরুত্বের বলে মনে করা হচ্ছে। প্রান্তিক আমেরিকার ট্রাম্প সমর্থকেরা ঠিকই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেবেন।
অ্যান্ড্রু হিট, উইসকনসিনে রিপাবলিকান দলের চেয়ারপারসন

মিশিগান রাজ্যেও ১৬টি ইলেকটোরাল ভোট আছে। গত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জয় পেয়েছিলেন এ রাজ্যে। অভিযোগ আছে, এ রাজ্যের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত হলে ফল ভিন্ন হতে পারত। এবারে জনমত জরিপে বাইডেন এ রাজ্যে বেশ এগিয়ে আছেন। কোনো কোনো জনমত জরিপে বাইডেনকে মিশিগানে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বলে দেখানো হয়েছে।

মিনেসোটায় ১০ ইলেকটোরাল ভোট। এ রাজ্যে পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। রক্ষণশীল জরিপেও তিনি অন্তত ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন বলে দেখা যাচ্ছে। ১৫ টি ইলেকটোরাল ভোটের রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনা। এখানে জনমত জরিপে বাইডেন নির্বাচনের ২০ দিন আগে চার শতাংশ এগিয়ে আছেন।

ইলেকটোরাল ভোটের জন্য বড় রাজ্য পেনসিলভানিয়া। ২০ ভোটের এ রাজ্যে অল্প ভোটে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এবারে নির্বাচনের আড়াই সপ্তাহ আগে এ রাজ্যে বাইডেনকে ছয় থেকে ১০ পয়েন্টে অগ্রগামী দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জরিপে।

২০১৬ সালে উইসকনসিনে জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারে দেখা যাচ্ছে, ১০টি ইলেকটোরাল ভোটের এ রাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে অন্তত ৬ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন।

বিজ্ঞাপন
আর ২০ দিন পরেই নির্বাচন। নির্বাচনের সব উত্তেজনা আটটি রাজ্য ঘিরে। এসব রাজ্য চিহ্নিত করা হয়েছে নানা কারণে। বিবেচনার মধ্যে রয়েছে—রাজ্যে ভোট দেওয়ার হার, জন মিশ্রণের অনুপাত, অতীতের ভোট দানের গতি-প্রকৃতি এবং ভোটারদের পরিবর্তনশীল মনোভাব। নির্বাচনী প্রচার শিবিরগুলো এসব চিহ্নিত রাজ্যে অর্থ ব্যয় করছে।

আসছে দুই সপ্তাহ ডেমোক্রেটিক দল এসব রাজ্যে ট্রাম্পকে ঠেকানোর জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে স্থানীয় টিভি ও সংবাদপত্র। ফ্লোরিডা ও অ্যারিজোনা রাজ্যের হিস্পানিক সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্রচার চালিয়ে জনমত জরিপের ইতিবাচক প্রবাহকে ধরে রাখার চেষ্টাই করা হচ্ছে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কর্মীদের ফোনে প্রচারণা। ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে লোকবল মাঠে নামানো হয়েছে। তাঁদের প্রচার শিবির নিশ্চিত হয়েছে, এসব রাজ্যে জয় না পেলে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিতে হবে। ট্রাম্প নিজে যেমন আক্রমণাত্মক, তেমনই তাঁর সমর্থকদের মধ্যেও একটা মরিয়া ভাব কাজ করছে। উদ্দেশ্য একটাই এ আট রাজ্যে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0