default-image

যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন সংস্কার করার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি ২৩ মার্চ আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রে গত এক সপ্তাহে বন্দুকধারীর হামলায় ১৮ জন নিহত হওয়ার পর আগ্নেয়াস্ত্র আইনের পরিবর্তন নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।

২২ মার্চ কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বাউলডার নগরীর একটি গ্রোসারি মার্কেটে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর কিং শপার্স মার্কেট নামের বড় গ্রোসারি স্টোরে গুলির এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে ১৬ মার্চ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় তিনটি স্পা সেন্টারে এক দুর্বৃত্তের গুলিতে আটজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ছয়জন এশীয় নারী। পুলিশ বলেছে, সন্দেহভাজন ওই শ্বেতাঙ্গ হামলাকারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা সহজেই আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের সুযোগ পেয়েছে। যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহার করার জন্য ভারী অস্ত্রও এসব লোকজন সহজেই পেয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

কলোরাডোর ঘটনায় আহমেদ আল আলিউই আলিসা নামের ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আলিসার পরিবার সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী। পরিবারের সঙ্গে তিনি ছোটবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ১৬ মার্চ তিনি স্থানীয় দোকান থেকে ওই আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার নিশ্চিত করা আছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ সম্পূর্ণ বিভক্ত। রক্ষণশীল লোকজন অস্ত্র আইনের কোনো পরিবর্তন চান না। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চেষ্টা করেছেন, আগ্নেয়াস্ত্র আইনের সংস্কার করতে। অস্ত্র ক্রয় কঠিন করার প্রয়াসেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন নামের সংগঠন রক্ষণশীলদের ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক সমর্থন প্রদান করে থাকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিও তাদের ব্যাপক সমর্থন ছিল। ট্রাম্প নিজেও আগ্নেয়াস্ত্র আইনের কোনো সংশোধন করতে উদ্যোগী ছিলেন না।

default-image

আগ্নেয়াস্ত্র আইন সংশোধনের জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আহ্বান জানানোর পর দ্রুত নড়েচড়ে উঠছেন রিপাবলিকান দলের নেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটলেই নাটক শুরু হয়। ডেমোক্রেটিক দল শান্তিপূর্ণ আমেরিকানদের বন্দুক রাখার অধিকার কেড়ে নিতে চায়।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন নির্বাহী আদেশ জারি করে হলেও আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে পারেন। নির্বাহী আদেশ বা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আগ্নেয়াস্ত্র আইনের সংশোধন করার বিকল্প নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে ভাবা হচ্ছে বলে জেন সাকি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন