default-image

অবশেষে নির্বাচনের বাইরে কিছু বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশ্য ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে হেরে গেলে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন বলে জানানোর পরই তিনি সত্যিকারের সংকটের দিকে তাকানোর ফুরসত পেলেন। জানালেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই বা এর পর পরই যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সরবরাহের কাজ শুরু হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা ভ্যাকসিন এক সপ্তাহ পরই সরবরাহ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন। থ্যাংকসগিভিং ডে উপলক্ষে অন্য দেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় ট্রাম্প জানান, স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম ধাপে ভ্যাকসিনটি বিতরণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলতি মাসে ব্যাপকভাবে বাড়লেও এ নিয়ে তেমন কোনো কথা আসছিল না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে। তবে তাঁর প্রশাসনের কাছ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ফাইজার আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন হয়ে যাবে। আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া থাকায়, অনুমোদনের পর ভ্যাকসিন সরবরাহ ও প্রথম ধাপে মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়ায় তেমন বিলম্ব হবে না।

করোনা ভ্যাকসিনের সুখবর দেওয়া দুই মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও মডার্নার মধ্যে ফাইজার এরই মধ্যে ভ্যাকসিনটি অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে মার্কিন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (এফডিএ)। বিশ্বের বড় বড় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এই ভাইরাসকে প্রতিহত করতে উপায় খুঁজছে। কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সম্ভাব্য ওষুধ তৈরি ও তার সরবরাহ থেকে শুরু করে সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের বিপুলসংখ্যক উৎপাদনের জন্য প্রতি মুহূর্তে প্রস্তুত থাকার কাজটি তারা করেছে। ফলে যেকোনো ভ্যাকসিন অনুমোদন পাওয়া মাত্রই তার জোগান দেওয়ার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ইউএসএটুডে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে চারটি ধাপে করোনা ভ্যাকসিন বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সিডিসির বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে থেকে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিস অব সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিনস এ-বিষয়ক একটি পরিকল্পনা করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সম্মুখ সারির যোদ্ধারা ভ্যাকসিনটি পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার হিসেবে এই পর্যায়ে মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের কাছে ভ্যাকসিনটি পৌঁছে যাবে। প্রথম ধাপের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিনটি দেওয়া হবে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী এবং দুই বা ততোধিক দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা রয়েছে ও ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী মানুষদের। এই পর্যায়ে দেশটির জনসংখ্যার ১০ শতাংশের কাছে ভ্যাকসিনটি পৌঁছে যাবে।

পরের ধাপে ৬৫ বছরের বেশি সব মানুষ এবং শিক্ষা, শিশুদের যত্নের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে এই টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া কারাগারসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রে থাকা ৬৫ বছরের কম বয়সী সব বন্দীকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মানুষের কাছে ভ্যাকসিনটি পৌঁছে যাবে। তৃতীয় ধাপে ভ্যাকসিনটি পৌঁছাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষের কাছে। এই ধাপে হোটেল, ব্যাংক, উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন কারখানার কর্মীদের ভ্যাকসিনটি দেওয়া হবে। এই ধাপে তরুণদের ভ্যাকসিনটি দেওয়া হবে। আর যথেষ্ট নিরাপদ বলে প্রমাণিত হলে শিশুদেরও এই ধাপে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এরপরও যারা বাকি থাকবে, তাদের মধ্যে ভ্যাকসিনটি পৌঁছানো হবে চতুর্থ ধাপে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ভ্যাকসিন সরবরাহের যে ইঙ্গিত দিলেন, তাতেও মনে হচ্ছে এই চার ধাপে বিতরণের পরিকল্পনাটিই অনুসরণ করা হবে।

মন্তব্য করুন