default-image

অভিশংসন আদালতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে থেকেও রোষানল থেকে বাঁচতে পারলেন না রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতা সিনেটর মিচ ম্যাককনেল। সহকর্মী ম্যাককনেলকে একজন একগুঁয়ে, গোমড়ামুখো ও গম্ভীর রাজনৈতিক নেতা বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দল এমন নেতার সঙ্গে থাকলে কখনো শক্তিশালী ও জনগণের শ্রদ্ধা পাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের চার বছরের সহযোগী ছিলেন ম্যাককনেল। ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তিনি ট্রাম্পের পাশেই থেকেছেন সব সময়। এমনকি গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের দীর্ঘ সময় পরও ট্রাম্পের অবস্থানের কাছাকাছি থেকেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের সহিংসতার পর সিনেটে দাঁড়িয়ে ম্যাককনেল বলেছিলেন, সহিংসতার জন্য উসকানি দেওয়ার নৈতিক দায় রয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। একপর্যায়ে মনে করা হচ্ছিল, অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পের দণ্ড পাওয়ার পক্ষে তিনি ভোট দেবেন।

কিন্তু সিনেটে ম্যাককনেল অবস্থান পরিবর্তন করেন। তখন আরও কিছু রিপাবলিকান সিনেটর অবস্থান পাল্টাতে পারেন বলে মনে করা হয়েছিল। অবস্থা সেদিকে যায়নি।

ম্যাককনেল বক্তৃতা দিয়েছেন ট্রাম্পের বিপক্ষে। আর ভোট দিয়েছেন তাঁর পক্ষে!
ট্রাম্প অভিশংসন দণ্ড থেকে দ্বিতীয় দফা অব্যাহতি পেলেও সিনেটর ম্যাককনেল আবারও বলেন, সহিংসতার জন্য উসকানি দেওয়ার দায় রয়েছে ট্রাম্পের। এ নিয়ে তিনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে কলাম লিখেছেন এবং ট্রাম্পকে তাঁর উসকানির কারণে সংঘটিত বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন। কলামে ম্যাককনেল বলেছেন, অভিশংসন আদালতে ভোট দেওয়ার সময় তিনি ট্রাম্পের পক্ষে নয়, মার্কিন সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে ভোট দিয়েছেন।

অভিশংসনপরবর্তী বাস্তবতা ট্রাম্পের জন্য ভিন্ন। চরম ডান রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকে পড়া রিপাবলিকান পার্টির নেতারা এখন ট্রাম্পের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। প্রতিনিধি পরিষদে দলের নেতা কেভিন ম্যাকার্থিসহ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের সঙ্গে সভা করছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের জন্য ট্রাম্পের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।

প্রতিনিধি পরিষদে ১০ জন ও সিনেটে ৭ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁরা এখন নিজেদের রাজ্য রিপাবলিকান কমিটির রোষানলে পড়েছেন। যাঁরা অবসরে যাচ্ছেন না বা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প–সমর্থকেরা এখন উচ্চকণ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

অভিশংসন দণ্ড থেকে রেহাই পাওয়ার পর ট্রাম্প শুধু এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে তাঁর আইনজীবী ও দলে তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসা নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। গত সোমবার তাঁর সমর্থকেরা ফ্লোরিডার মার এ লাগোর কাছাকাছি সমাবেশ করেছেন। ট্রাম্প এই সমাবেশে যোগ না দিলেও গাড়িবহর দিয়ে যাওয়ার সময় হাত উঠিয়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল মঙ্গলবার আরেক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রবীণ সিনেটর ম্যাককনেলকে তুলাধোনা করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ম্যাককনেল একজন হতাশ, নিষ্প্রভ ও গোমড়ামুখো রাজনৈতিক অনুপ্রবেশকারী। দেশের জন্য যা সঠিক ও প্রয়োজনীয়, তা কখনো ম্যাককনেল করবেন না।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘মেক আমেরিকা অ্যাগেইন’ ও যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রার্থীদের দলীয় প্রাইমারিতে সমর্থন জানাবেন। মেধাবী, শক্তিশালী ও চিন্তাশীল নেতৃত্বের এখন প্রয়োজন বলে ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। দেশের এমন মুহূর্তে ম্যাককনেলের মতো তৃতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের দিয়ে কাজ হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রবীণ ও শীর্ষ নেতা বলে পরিচিত কেন্টাকির সিনেটর ম্যাককনেল ১৯৮৫ সাল থেকে সিনেটে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। উদারনৈতিক রক্ষণশীল সিনেটর ম্যাককনেল বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নেতা। গত ২০ জানুয়ারির আগে তিনি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন