বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজনকে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে আগ্রহী করে তুলতে মার্কিন শ্রম বিভাগ নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে উঠে পড়ে লেগেছে। ৬ মে মার্কিন শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, গত মাসে শ্রম বাজারে দুই লাখ ৬৬ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। পুনরায় চালু হওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গ্রাহকের ক্রয় ক্ষমতা ও ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন বেকারত্বের আবেদন হ্রাস পাওয়ার সূত্র ধরে এসব কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

মার্কিন শ্রমমন্ত্রী মার্টি ওয়ালশ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমাদের অর্থনীতি অবশ্যই সচল হয়ে উঠছে। তবে এখনো লাখো মানুষ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, এখনো ঘরে থাকা শিশুদের দিনে দেখভাল করার সমস্যা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। শিশু যত্নের সমস্যা এবং এখনো অনেক শিশু আংশিকভাবে বাড়ি থেকে স্কুল করছে—এ কারণে লাখো নারী মহামারির সময়ে কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এটি বাইডেন প্রশাসনের জন্য অনেক বড় উদ্বেগের বিষয়। প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত আমেরিকান পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে কর্মজীবী মায়েদের শিশু যত্নের জন্য ২২৫ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মার্টি ওয়ালশ আরও বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির-পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা শক্তিশালী করতে হলে ন্যায়সংগত পরিকল্পনা করতে হবে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শ্লথ গতিতে হচ্ছে বলে তিনি উদ্বিগ্ন কিনা—জানতে চাইলে শ্রমমন্ত্রী ওয়ালস বলেন, তিনি বিচলিত নন। মানুষ আবার কাজে ফিরে যাবে এবং নিজেদের প্রয়োজনেই কাজে ফিরতে বাধ্য হবে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মহামারি পরবর্তী অর্থনীতিকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই পরিকল্পনার বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেছেন, আমরা অবশ্যই সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যেই রেস্টুরেন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগেও বন্ধ থাকা খুচরা দোকানগুলো খুলতে শুরু করেছে। তবে এখনো প্রচুর লোক বাড়ি থেকে কাজ করছেন এবং অনেকেই পছন্দ মতো চাকরি খুঁজছেন। আর বেকার ভাতা জনগণকে কাজের সন্ধান থেকে নিরুৎসাহিত করে বিষয়টি ঠিক নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসতে সহায়তা করার বিষয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও হোয়াইট হাউস শিশু যত্নের সেই নির্দিষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। দেশজুড়ে চাইল্ড কেয়ার সুবিধায় বিনিয়োগ করে নারীদের কাজে ফেরাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বরাদ্দের এই অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বেকারত্বের হার এখনো বেশি, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রের এই বৈষম্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলছে। সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে এসব দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মোকাবিলার জন্য বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও শ্রমমন্ত্রী জানান।

শ্রমমন্ত্রী মার্টি ওয়ালশ বলেছেন, মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারি বিনিয়োগকে নিশ্চিত করতে হবে। তা যেন সত্যি উদ্দেশ্যমূলক খাতে ব্যয় করা হয়। এই বিনিয়োগ নারী এবং সব বর্ণের মানুষের জন্য ব্যবহার করলেই ন্যায়সংগত উপায়ে মহামারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলে তিনি বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন