default-image

ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে হামলার সময় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির ল্যাপটপ চুরির দায়ে অভিযুক্ত রাইলি উইলিয়ামস (২২) নামের তরুণী বেশ বিপাকেই পড়েছেন। পেনসিলভানিয়ার আদালতের এক ফেডারেল বিচারক তাঁকে ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। রাইলি উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে তথ্য মুছে ফেলার নতুন অভিযোগ এনেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে পেনসিলভানিয়ার আদালতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, রাইলি উইলিয়ামস নিজে তথ্য মুছে ফেলার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগে থাকা অন্যদের ৬ জানুয়ারি হওয়া সহিংসতার সব তথ্য মুছে ফেলার জন্য বলছেন।

উল্লেখ্য, ৬ জানুয়ারি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে তাঁর সমর্থকেরা ওয়াশিংটনে জড়ো হয়। ট্রাম্পের উসকানিতে বেপরোয়া লোকজন ক্যাপিটল হিলে অনুপ্রবেশ করে। হামলা চালিয়ে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ অন্যান্য দপ্তরে লুটপাট চালায় তারা। পেলোসির ল্যাপটপ লুট হওয়ার ঘটনা জানার পর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর তথ্য এ ল্যাপটপে রয়েছে এবং ল্যাপটপটি রাশিয়ার হাতে চলে যাচ্ছে বলে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে বাবার সঙ্গে ওয়াশিংটনের তাণ্ডবে যোগ দেওয়া ২২ বছরের তরুণী রাইলি উইলিয়ামস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের সূত্র ধরে সংকটে পড়েন। তাঁর কাছ থেকে ল্যাপটপ উদ্ধারের কথা এখনো জানানো হয়নি। রাইলি উইলিয়ামস রাশিয়ার কাছে ল্যাপটপটি বিক্রি করার প্রয়াস নিয়েছিলেন, যা সফল হয়নি বলে এফবিআই থেকে জানানো হয়েছিল।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাইলি উইলিয়ামস ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি ন্যান্সি পেলোসির ল্যাপটপ চুরি করেছি।’ এ নিয়ে তিনি কিছু পরোয়া করেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেছিলেন। মুছে ফেলা সে পোস্টের স্ক্রিনশটের ছবি এফবিআই বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। রাইলি উইলিয়ামস তাঁর সংযোগে থাকা অন্যদের এমন সব বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য মুছে ফেলার জন্য বলেন। এফবিআই মুছে ফেলা এসব বার্তাও উদ্ধার করে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়ার ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া ফারুকী রাইলি উইলিয়ামসকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযোগ আছে এমন কোনো ডিভাইস ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেবল আইনজীবী ও মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে তিনি সংযোগ রাখতে পারবেন।

রাইলি উইলিয়ামসের আইনজীবী আদালতে বলেন, আজকের সময়ে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া বসবাস করা একবারেই অসম্ভব। কাজ খোঁজাসহ নানা কারণে রাইলি উইলিয়ামসের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন রয়েছে।

কিন্তু বিচারক তাঁর আদেশে রাইলি উইলিয়ামসকে পুরোনো দিনের ফ্লিপ ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। বিচার চলাকালে মায়ের জিম্মায় ঘরে থাকবেন রাইলি।

আদেশে বলা হয়েছে, রাইলি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন না এবং বেশি মাত্রার অ্যালকোহল পান করতে পারবেন না। এ ছাড়া মুক্তভাবে চলাচলের ওপর অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া ফারুকী। তাঁকে আগামী ২৬ মার্চ আদালতে বিচারের জন্য উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৬ জানুয়ারির সহিংসতার পর এফবিআইসহ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক তদন্তে নামে। ক্যাপিটল হিলের ঘটনায় অংশ নেওয়া লোকজনের ফোন ও সামাজিক যোগাযোগের সূত্র ধরে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ফেডারেল ভবনে অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মামলা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন