default-image

মার্কিন অভিবাসন আইন সংস্কার নিয়ে একটা সমঝোতা করার উদ্যোগ নিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। রিপাবলিকান দলের মধ্যে সাবেক এ প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা থাকলেও সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বলয় থেকে দলটি সহসাই বেরিয়ে আসতে পারছে না। তবু রিপাবলিকান দলে মধ্যপন্থী ও উদারনৈতিকদের মধ্যে জনপ্রিয় জর্জ বুশ মার্কিন অভিবাসন আইন সংস্কারের জন্য আইনপ্রণেতাদের ইতিবাচক মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সিবিএস নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৮ এপ্রিল জর্জ বুশ কংগ্রেস সদস্যদের দলীয় মতপার্থক্য পাশে রেখে অভিবাসন নিয়ে একটি শ্রদ্ধাপূর্ণ আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান। এমন আলাপ শুরু হলে অভিবাসন সংস্কারের জন্য তিনি ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করেন ৪৩তম মার্কিন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ।

জর্জ বুশ তাঁর প্রকাশিতব্য বই ‘আউট অব মেনি, ওয়ান: পোট্রেটস অব আমেরিকা’স ইমিগ্রান্টস’ নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া ছাড়াও ওয়াশিংটন পোস্টে এ নিয়ে কলাম লিখেছেন। বইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নিয়ে জর্জ বুশ লিখেছেন। বইয়ের প্রচ্ছদে যুক্তরাষ্ট্রের জনবৈচিত্র্যের কিছু ছবিও দেওয়া আছে।

বিজ্ঞাপন
রিপাবলিকান দলে মধ্যপন্থী ও উদারনৈতিকদের মধ্যে জনপ্রিয় জর্জ বুশ মার্কিন অভিবাসন আইন সংস্কারের জন্য আইনপ্রণেতাদের ইতিবাচক মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন

ক্ষমতায় থাকার দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসনব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন জর্জ বুশ। তিনি ১ কোটি ২০ লাখ নথিপত্রহীন লোকজনকে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব প্রদানের পথ উন্মুক্ত করার কথা বলেছিলেন। নিজে অভিবাসন আইনের সংস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করে কংগ্রেসে এ নিয়ে আইন প্রণয়নেও ব্যর্থ হয়েছেন।

জর্জ বুশ বলেছেন, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অভিবাসন নিয়ে কার্যকর কোনো কিছু করতে না পারার বেদনা তাঁর মধ্যে কাজ করে। নিজের দলের আইনপ্রণেতাদের অভিবাসন সংস্কার নিয়ে উদ্যোগী হওয়ার জন্য তিনি তদবির করছেন বলে জানান।

জর্জ বুশ নিজেই বলেছেন তাঁর কথা রিপাবলিকান দল এখন শুনবে কি না, তা ভিন্ন কথা।

নিজের পদক্ষেপকে অভিবাসন সংস্কারের পক্ষে একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস হলেও জর্জ বুশ মনে করেন, এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উচ্চারণের সম্মিলিত প্রয়াস হতে পারে অভিবাসন বিষয়ে সংস্কার নিয়ে আসা।

২০০৭ সালে মার্কিন অভিবাসন সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করলে অভিবাসী গ্রুপগুলো আশাবাদী হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ইরাক আফগানিস্তানকে যুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উদারনৈতিকদের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা জর্জ বুশ মার্কিন উদারনৈতিক এবং অভিবাসীদের আস্থা অর্জন করতে পারেননি।

রিপাবলিকান দলের বনেদি সমর্থকদের কাছে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের প্রভাব থাকলেও দলের এ অংশটি এখন অনেকটাই নেতৃত্বহীন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতি রক্ষণশীল ভাবাদর্শে ক্রমশ আত্মসমর্পণ করা রিপাবলিকান দলের কাছে জর্জ বুশের আহ্বান কতটা কার্যকর হবে, এ নিয়ে তিনি যেমন নিশ্চিত নন। তেমনি নিশ্চিত নন আমেরিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন